গাজায় কুরবানির মাংস যেন আকাশ ছোঁয়া ব্যাপার

গাজায় এবার ঈদুল আজহা এসেছে ভিন্ন এক বাস্তবতায়। যুদ্ধ, দারিদ্র্য ও খাদ্যসংকটের কারণে উৎসবের আনন্দ অনেকটাই ম্লান হয়ে গেছে। নতুন পোশাক, কুরবানির পশু কিংবা ঈদের মিষ্টান্ন সবকিছুর দাম সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে। সেখানে কুরবানির পশুর দাম প্রায় ১০ থেকে ১৫ গুণ পর্যন্ত বেড়েছে। ফলে কুরবানির পশু কিনতে সামর্থ্য হারিয়েছেন গাজার অধিকাংশ বাসিন্দারা। গাজার বাসিন্দারা বলছেন, বাজারে গেলেও কিছু কেনার সামর্থ্য নেই তাদের। অনেক পরিবার এবার শিশুদের জন্য সামান্য খাবারও জোগাড় করতে হিমশিম খাচ্ছে। দীর্ঘদিনের যুদ্ধ ও ধ্বংসযজ্ঞে মানুষের জীবনযাত্রা ভেঙে পড়েছে। জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, গাজার অধিকাংশ ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং বেশিরভাগ মানুষ এখন ত্রাণের ওপর নির্ভরশীল। সীমান্ত দিয়ে পর্যাপ্ত পণ্য প্রবেশ না করায় বাজারে নিত্যপণ্যের সংকট ও মূল্যবৃদ্ধি আরও বেড়েছে। ঈদুল আজহার অন্যতম প্রধান অনুষঙ্গ কুরবানি। তবে গাজায় এবার পশুর তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। যুদ্ধের আগে যে ভেড়া বা ছাগল ১ হাজার শেকেলে পাওয়া যেত, এখন তার দাম বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১১ থেকে ১৫ হাজার শেকেল পর্যন্ত। ফলে অধিকাংশ পরিবারের পক্ষেই কুরবানি দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। গ

গাজায় কুরবানির মাংস যেন আকাশ ছোঁয়া ব্যাপার

গাজায় এবার ঈদুল আজহা এসেছে ভিন্ন এক বাস্তবতায়। যুদ্ধ, দারিদ্র্য ও খাদ্যসংকটের কারণে উৎসবের আনন্দ অনেকটাই ম্লান হয়ে গেছে। নতুন পোশাক, কুরবানির পশু কিংবা ঈদের মিষ্টান্ন সবকিছুর দাম সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে।

সেখানে কুরবানির পশুর দাম প্রায় ১০ থেকে ১৫ গুণ পর্যন্ত বেড়েছে। ফলে কুরবানির পশু কিনতে সামর্থ্য হারিয়েছেন গাজার অধিকাংশ বাসিন্দারা।

গাজার বাসিন্দারা বলছেন, বাজারে গেলেও কিছু কেনার সামর্থ্য নেই তাদের। অনেক পরিবার এবার শিশুদের জন্য সামান্য খাবারও জোগাড় করতে হিমশিম খাচ্ছে। দীর্ঘদিনের যুদ্ধ ও ধ্বংসযজ্ঞে মানুষের জীবনযাত্রা ভেঙে পড়েছে।

জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, গাজার অধিকাংশ ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং বেশিরভাগ মানুষ এখন ত্রাণের ওপর নির্ভরশীল। সীমান্ত দিয়ে পর্যাপ্ত পণ্য প্রবেশ না করায় বাজারে নিত্যপণ্যের সংকট ও মূল্যবৃদ্ধি আরও বেড়েছে।

ঈদুল আজহার অন্যতম প্রধান অনুষঙ্গ কুরবানি। তবে গাজায় এবার পশুর তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। যুদ্ধের আগে যে ভেড়া বা ছাগল ১ হাজার শেকেলে পাওয়া যেত, এখন তার দাম বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১১ থেকে ১৫ হাজার শেকেল পর্যন্ত। ফলে অধিকাংশ পরিবারের পক্ষেই কুরবানি দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।

গাজার কৃষি মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, যুদ্ধের কারণে খামার ধ্বংস, পশুখাদ্যের সংকট ও পরিবহন ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় পশুর দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়েছে। বর্তমানে পুরো গাজায় যুদ্ধ-পূর্ব সময়ের মাত্র এক-চতুর্থাংশ পশু অবশিষ্ট আছে।

শুধু কুরবানিই নয়, ঈদের ঐতিহ্যবাহী খাবার তৈরিও কঠিন হয়ে পড়েছে। রান্নার গ্যাসের অভাবে অনেক পরিবার ঘরে ঈদের পিঠা বা বিস্কুট তৈরি করতে পারছে না। তবুও কিছু পরিবার সীমিত সামর্থ্যের মধ্যেও শিশুদের মুখে হাসি ফোটানোর চেষ্টা করছে।

বাসিন্দারা বলছেন, এখন তাদের জীবনে আনন্দের চেয়ে ভয়, অনিশ্চয়তা ও কষ্টই বেশি। যুদ্ধের ক্ষত নিয়ে টানাপোড়েনের মধ্যেই গাজাবাসী পালন করছে এবারের ঈদুল আজহা। 

তথ্যসূত্র : এএফপি
 

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow