গাজীপুরে ফাঁকা মহাসড়ক, টাঙ্গাইলে এখনো ভোগান্তি

পবিত্র ঈদুল আজহা সামনে রেখে টানা দুই দিনের চরম যানজট ও দুর্ভোগের পর অবশেষে স্বস্তি ফিরেছে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের গাজীপুর অংশে। বুধবার গভীর রাতের দিকে মহাসড়কের চন্দ্রা ত্রিমোড়, নাওজোড়, সফিপুর ও কালিয়াকৈর অংশ ঘুরে দেখা যায়, কয়েকদিন আগেও যেখানে যানবাহনের দীর্ঘ সারি ছিল, সেখানে এখন সড়ক প্রায় ফাঁকা। উত্তরাঞ্চলগামী যানবাহন স্বাভাবিক গতিতে চলাচল করছে। তবে গাজীপুরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলেও টাঙ্গাইল অংশে এখনো যানজট ও ধীরগতির কারণে ভোগান্তিতে পড়েছেন ঘরমুখো মানুষ। বিশেষ করে এলেঙ্গা থেকে যমুনা সেতুর পূর্ব টোলপ্লাজা পর্যন্ত কয়েক কিলোমিটার এলাকায় যানবাহনের চাপ রয়েছে। এতে ঈদের আগ মুহূর্তে দুর্ভোগ নিয়ে বাড়ি ফিরছেন যাত্রীরা। বুধবার (২৭ মে) রাত ১১টার দিকে গাজীপুরের চন্দ্রা ত্রিমোড় এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, মহাসড়কে যানবাহনের চাপ তুলনামূলক অনেক কম। কোথাও কোথাও কয়েকটি যাত্রীবাহী বাস যাত্রীর অপেক্ষায় দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়। অথচ মাত্র একদিন আগেও একই এলাকায় ঘণ্টার পর ঘণ্টা যানজটে আটকে ছিল শত শত বাস, ট্রাক ও ব্যক্তিগত গাড়ি। গাজীপুর রিজিয়নের নাওজোড় হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সাউগাতুল আলম বলেন, ‘টানা পরিশ্

গাজীপুরে ফাঁকা মহাসড়ক, টাঙ্গাইলে এখনো ভোগান্তি

পবিত্র ঈদুল আজহা সামনে রেখে টানা দুই দিনের চরম যানজট ও দুর্ভোগের পর অবশেষে স্বস্তি ফিরেছে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের গাজীপুর অংশে। বুধবার গভীর রাতের দিকে মহাসড়কের চন্দ্রা ত্রিমোড়, নাওজোড়, সফিপুর ও কালিয়াকৈর অংশ ঘুরে দেখা যায়, কয়েকদিন আগেও যেখানে যানবাহনের দীর্ঘ সারি ছিল, সেখানে এখন সড়ক প্রায় ফাঁকা। উত্তরাঞ্চলগামী যানবাহন স্বাভাবিক গতিতে চলাচল করছে।

তবে গাজীপুরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলেও টাঙ্গাইল অংশে এখনো যানজট ও ধীরগতির কারণে ভোগান্তিতে পড়েছেন ঘরমুখো মানুষ। বিশেষ করে এলেঙ্গা থেকে যমুনা সেতুর পূর্ব টোলপ্লাজা পর্যন্ত কয়েক কিলোমিটার এলাকায় যানবাহনের চাপ রয়েছে। এতে ঈদের আগ মুহূর্তে দুর্ভোগ নিয়ে বাড়ি ফিরছেন যাত্রীরা।

বুধবার (২৭ মে) রাত ১১টার দিকে গাজীপুরের চন্দ্রা ত্রিমোড় এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, মহাসড়কে যানবাহনের চাপ তুলনামূলক অনেক কম। কোথাও কোথাও কয়েকটি যাত্রীবাহী বাস যাত্রীর অপেক্ষায় দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়। অথচ মাত্র একদিন আগেও একই এলাকায় ঘণ্টার পর ঘণ্টা যানজটে আটকে ছিল শত শত বাস, ট্রাক ও ব্যক্তিগত গাড়ি।

গাজীপুর রিজিয়নের নাওজোড় হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সাউগাতুল আলম বলেন, ‘টানা পরিশ্রম ও বিভিন্ন সংস্থার সমন্বিত উদ্যোগে মহাসড়কের যানজট অনেকটাই নিরসন করা সম্ভব হয়েছে। সন্ধ্যার পর থেকে সড়কে যানবাহনের চাপ স্বাভাবিকের চেয়েও কমে এসেছে। এখন যান চলাচল পুরোপুরি স্বাভাবিক রয়েছে।’

এদিকে টাঙ্গাইল অংশে এখনো চাপ থাকায় ঘরমুখো মানুষের মধ্যে উদ্বেগ বিরাজ করছে। বিশেষ করে যমুনা সেতুমুখী লেনে যানবাহনের ধীরগতির কারণে অনেক যাত্রীকে দীর্ঘ সময় সড়কে অপেক্ষা করতে হচ্ছে।

টাঙ্গাইলের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ শামছুল আলম সরকার জানান, ‘ঈদের শেষ মুহূর্তে উত্তরাঞ্চলমুখী যানবাহনের চাপ বেড়ে যাওয়ায় কিছু এলাকায় যানজট তৈরি হয়েছে। পুলিশ, হাইওয়ে কর্তৃপক্ষ ও সেতু কর্তৃপক্ষ একযোগে কাজ করছে। পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক করার চেষ্টা চলছে।’

অন্যদিকে মহাসড়ক ফাঁকা হয়ে যাওয়ার পর নতুন করে নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে সাধারণ যাত্রীদের মধ্যে। রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে মহাসড়কের কিছু অংশ অন্ধকার থাকায় ছিনতাইকারী ও দুর্বৃত্তদের তৎপরতা বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা। বিশেষ করে নির্জন এলাকায় থেমে থাকা যানবাহন ও একাকী যাত্রীদের লক্ষ্য করে ছিনতাইয়ের ঝুঁকি রয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

স্থানীয় কয়েকজন চালক জানান, ‘যানজটের সময় পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতা বেশি থাকলেও রাস্তা ফাঁকা হয়ে গেলে অনেক এলাকায় টহল কমে যায়। এতে রাতের বেলায় দুর্বৃত্তরা সুযোগ নিতে পারে। তারা মহাসড়কের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে বাড়তি পুলিশি নজরদারি ও আলোকসজ্জা বৃদ্ধির দাবি জানান।’

এদিকে ঈদ উপলক্ষে বাড়ি ফেরা মানুষের চাপ কমে আসায় রাজধানীমুখী কিছু যানবাহনও চলাচল শুরু করেছে। অনেকেই স্বস্তির সঙ্গে যাত্রা করতে পারলেও শেষ মুহূর্তের যাত্রীদের জন্য এখনো টাঙ্গাইল অংশে ভোগান্তি পুরোপুরি কাটেনি।

প্রশাসনের পক্ষ থেকে যাত্রীদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে। বিশেষ করে রাতের যাত্রায় নির্জন স্থানে গাড়ি থামানো থেকে বিরত থাকা, সন্দেহজনক ব্যক্তিদের বিষয়ে দ্রুত পুলিশকে জানানো এবং অতিরিক্ত ভাড়া বা অনিরাপদ পরিবহন এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
 

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow