গাজীপুরে শিক্ষার্থীর পোড়া লাশ উদ্ধারের তদন্তে মিলল চাঞ্চল্যকর তথ্য

গাজীপুরে মাদ্রাসাছাত্রের পোড়া লাশ উদ্ধারের ঘটনায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন গ্রেপ্তার ছাব্বির আহম্মেদ (১৯)। গাঁজা সেবন করতে দেখে ফেলায় ওই মাদ্রাসাছাত্রকে শ্বাসরোধে হত্যার পর লাশ পুড়িয়ে ফেলার চেষ্টা করা হয় বলে জানান তিনি। শুক্রবার (৬ মার্চ) গাজীপুর মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে এ তথ্য জানান ছাব্বির। নিহত মাদ্রাসাছাত্রের নাম— মাহাবুল হোসেন রনি (১৪)। সে ময়মনসিংহের গৌরীপুর উপজেলার দৌলতপুর গ্রামের সোহাস মিয়ার ছেলে। মাহাবুল খুরশীদিয়া মারকাযুল উলুম ক্বওমী মাদ্রাসা ও এতিমখানা মাদ্রাসার ছাত্র ছিল। অপরদিকে গ্রেপ্তার ছাব্বির আহম্মেদ ময়মনসিংহের ইশ্বরগঞ্জ থানার তুলন্দর গ্রামের আব্দুল বারেকের ছেলে। তিনি গাজীপুরের ভবানীপুর এলাকায় ভাড়া ভাড়া থাকেন। গাজীপুর পিবিআই জানায়, মাদ্রাসাছাত্র মাহাবুব ইসলাম রনি গত ২৭ ফেব্রুয়ারি রাতে তারাবির নামাজ পড়তে গিয়ে নিখোঁজ হয়। পরদিন ২৮ ফেব্রুয়ারি বেলা ১১টার দিকে স্থানীয়রা একই এলাকার একটি জঙ্গলের ভেতর আগুনে পোড়া অবস্থায় এক কিশোরের মরদেহ দেখতে পায়। পরে পরিবারের সদস্যরা মরদেহটি মাহাবুব বলে শনাক্ত করেন। এ ঘটনায় নিহতের দাদ

গাজীপুরে শিক্ষার্থীর পোড়া লাশ উদ্ধারের তদন্তে মিলল চাঞ্চল্যকর তথ্য

গাজীপুরে মাদ্রাসাছাত্রের পোড়া লাশ উদ্ধারের ঘটনায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন গ্রেপ্তার ছাব্বির আহম্মেদ (১৯)। গাঁজা সেবন করতে দেখে ফেলায় ওই মাদ্রাসাছাত্রকে শ্বাসরোধে হত্যার পর লাশ পুড়িয়ে ফেলার চেষ্টা করা হয় বলে জানান তিনি।

শুক্রবার (৬ মার্চ) গাজীপুর মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে এ তথ্য জানান ছাব্বির।

নিহত মাদ্রাসাছাত্রের নাম— মাহাবুল হোসেন রনি (১৪)। সে ময়মনসিংহের গৌরীপুর উপজেলার দৌলতপুর গ্রামের সোহাস মিয়ার ছেলে। মাহাবুল খুরশীদিয়া মারকাযুল উলুম ক্বওমী মাদ্রাসা ও এতিমখানা মাদ্রাসার ছাত্র ছিল।

অপরদিকে গ্রেপ্তার ছাব্বির আহম্মেদ ময়মনসিংহের ইশ্বরগঞ্জ থানার তুলন্দর গ্রামের আব্দুল বারেকের ছেলে। তিনি গাজীপুরের ভবানীপুর এলাকায় ভাড়া ভাড়া থাকেন।

গাজীপুর পিবিআই জানায়, মাদ্রাসাছাত্র মাহাবুব ইসলাম রনি গত ২৭ ফেব্রুয়ারি রাতে তারাবির নামাজ পড়তে গিয়ে নিখোঁজ হয়। পরদিন ২৮ ফেব্রুয়ারি বেলা ১১টার দিকে স্থানীয়রা একই এলাকার একটি জঙ্গলের ভেতর আগুনে পোড়া অবস্থায় এক কিশোরের মরদেহ দেখতে পায়। পরে পরিবারের সদস্যরা মরদেহটি মাহাবুব বলে শনাক্ত করেন। এ ঘটনায় নিহতের দাদা তারা মিয়া জয়দেবপুর থানায় হত্যা মামলা করেন। মামলাটি প্রথমে থানা পুলিশ তদন্ত করলেও পরে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) গাজীপুর জেলা তদন্তভার গ্রহণ করে।

পিবিআই জানায়, তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তা ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে গত ৫ মার্চ রাতে জয়দেবপুরের ভবানীপুর এলাকা থেকে ছাব্বির আহম্মেদকে গ্রেপ্তার করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে হত্যাকাণ্ডে নিজের জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে এবং আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয় সাব্বির।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, ঘটনার দিন রাতে ছাব্বির জঙ্গলের ভেতরে গাঁজা সেবন করছিল। এ সময় মাদ্রাসাছাত্র মাহাবুব সেখানে এসে তাকে দেখে ফেলে এবং বিষয়টি অন্যদের জানিয়ে দেওয়ার কথা বলে। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে ছাব্বির তাকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দিয়ে পেছন দিক থেকে গলা চেপে ধরে শ্বাসরোধে হত্যা করে। পরে ঘটনা গোপন করতে মরদেহে আগুন লাগিয়ে পালিয়ে যায়।

পিবিআই গাজীপুরের পুলিশ সুপার মো. আবুল কালাম আজাদ বলেন, তথ্যপ্রযুক্তি, স্থানীয় সোর্স ও পেশাদার তদন্তের মাধ্যমে জড়িত ব্যক্তিকে আইনের আওতায় আনা সম্ভব হয়েছে।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow