গাড়ি দেখলেই পথ কুকুর তাড়া করে কেন?
শহরের ব্যস্ত রাজপথ হোক কিংবা নিরিবিলি গলির মোড়; গাড়ির শব্দ কানে আসতেই হঠাৎ একদল পথ কুকুর তেড়ে আসার দৃশ্য আমাদের কাছে খুবই পরিচিত। কেউ ভয় পেয়ে থমকে যান, কেউ আবার বিরক্ত হয়ে প্রতিক্রিয়া দেখান। কিন্তু কখনও কি ভেবে দেখেছেন, কেন এই চারপেয়ে প্রাণীগুলো চলন্ত গাড়ির পেছনে জীবন বাজি রেখে ছুটে যায়?
বিজ্ঞান বলছে, এই আচরণের পেছনে রয়েছে তাদের স্বভাব, অভিজ্ঞতা এবং হাজার বছরের বিবর্তনের গল্প।
নিজের এলাকা রক্ষার প্রবৃত্তি
পথ কুকুর সাধারণত দলবদ্ধভাবে একটি নির্দিষ্ট এলাকায় বসবাস করে; যেখানে তারা বড় হয়, খাবার খোঁজে এবং নিজেদের নিরাপদ মনে করে। তাদের কাছে হঠাৎ করে আসা দ্রুতগামী গাড়ি বা অচেনা শব্দ মানে ‘অনুপ্রবেশকারী’। তাই তারা ঘেউ ঘেউ করে বা তাড়া দিয়ে সেই ‘হুমকি’ দূর করতে চায়। যখন গাড়িটি এলাকা ছেড়ে চলে যায়, তারা মনে করে, এটা তাদেরই জয়। এই সফলতার অনুভূতিই তাদেরকে বারবার একই কাজ করতে উৎসাহিত করে।
শিকারি সত্তার জাগরণ
কুকুরের পূর্বপুরুষ ছিল নেকড়ে। সেই বন্য শিকারি প্রবৃত্তি এখনো তাদের ভেতরে রয়ে গেছে। চোখের সামনে দিয়ে যখন কোনো কিছু দ্রুতগতিতে ছুটে যায়, তখন তাদের মস্তিষ্কে ‘প্রে ড্রাইভ’ বা ধাওয়া করার স্বাভাবি
শহরের ব্যস্ত রাজপথ হোক কিংবা নিরিবিলি গলির মোড়; গাড়ির শব্দ কানে আসতেই হঠাৎ একদল পথ কুকুর তেড়ে আসার দৃশ্য আমাদের কাছে খুবই পরিচিত। কেউ ভয় পেয়ে থমকে যান, কেউ আবার বিরক্ত হয়ে প্রতিক্রিয়া দেখান। কিন্তু কখনও কি ভেবে দেখেছেন, কেন এই চারপেয়ে প্রাণীগুলো চলন্ত গাড়ির পেছনে জীবন বাজি রেখে ছুটে যায়?
বিজ্ঞান বলছে, এই আচরণের পেছনে রয়েছে তাদের স্বভাব, অভিজ্ঞতা এবং হাজার বছরের বিবর্তনের গল্প।
নিজের এলাকা রক্ষার প্রবৃত্তি
পথ কুকুর সাধারণত দলবদ্ধভাবে একটি নির্দিষ্ট এলাকায় বসবাস করে; যেখানে তারা বড় হয়, খাবার খোঁজে এবং নিজেদের নিরাপদ মনে করে। তাদের কাছে হঠাৎ করে আসা দ্রুতগামী গাড়ি বা অচেনা শব্দ মানে ‘অনুপ্রবেশকারী’। তাই তারা ঘেউ ঘেউ করে বা তাড়া দিয়ে সেই ‘হুমকি’ দূর করতে চায়। যখন গাড়িটি এলাকা ছেড়ে চলে যায়, তারা মনে করে, এটা তাদেরই জয়। এই সফলতার অনুভূতিই তাদেরকে বারবার একই কাজ করতে উৎসাহিত করে।
শিকারি সত্তার জাগরণ
কুকুরের পূর্বপুরুষ ছিল নেকড়ে। সেই বন্য শিকারি প্রবৃত্তি এখনো তাদের ভেতরে রয়ে গেছে। চোখের সামনে দিয়ে যখন কোনো কিছু দ্রুতগতিতে ছুটে যায়, তখন তাদের মস্তিষ্কে ‘প্রে ড্রাইভ’ বা ধাওয়া করার স্বাভাবিক তাড়না জেগে ওঠে। গাড়িকে তখন তারা শিকার বা শত্রু ভেবে তাড়া করে। এটা কেবল আক্রমণ নয়, বরং হাজার বছরের বিবর্তনের এক স্বাভাবিক প্রতিফলন।
অতীতের ভয় বা দুর্ঘটনার প্রভাব
অনেক সময় এই আচরণের পেছনে লুকিয়ে থাকে ভয়াবহ অভিজ্ঞতা। গবেষণায় দেখা গেছে, যেসব কুকুর আগে কোনো গাড়ির ধাক্কায় আহত হয়েছে, তারা ভবিষ্যতে গাড়ির শব্দ বা চাকা দেখলেই আতঙ্কিত হয়ে পড়ে। এই আতঙ্ক থেকেই তারা তেড়ে যায়; যা আসলে আক্রমণ নয়, বরং আত্মরক্ষার চেষ্টা।
একঘেয়েমি আর একাকীত্ব
পথ কুকুরদের জীবন সহজ নয়। খাবারের অনিশ্চয়তা, নিরাপত্তাহীনতা আর দীর্ঘ সময় অলসভাবে কাটানো; সব মিলিয়ে তাদের জীবনে একঘেয়েমি ভর করে। এই অবস্থায় চলন্ত গাড়ি তাদের কাছে এক ধরনের ‘উত্তেজনা’ বা ‘খেলা’র মতো মনে হয়। শরীরে জমে থাকা শক্তি ঝেড়ে ফেলতে তারা দৌড়ঝাঁপে মেতে ওঠে।
মানবিক দৃষ্টিভঙ্গিই সমাধান
পথ কুকুরের এই আচরণ অনেকের কাছে ভীতিকর মনে হলেও, তাদের কাছে এটি বেঁচে থাকার লড়াইয়ের অংশ। তাই তাদের প্রতি রুক্ষ না হয়ে ধৈর্য ধরাটা জরুরি। গাড়ির গতি কিছুটা কমিয়ে দিলে বা হঠাৎ উত্তেজিত না হলে বেশিভাগ ক্ষেত্রেই দেখা যায়, কুকুরগুলো নিজে থেকেই সরে যায়। অবলা প্রাণীর এই ভাষাহীন অনুভূতিকে বুঝতে পারাটাই আসল মানবিকতা।
সূত্র : টিভি নাইন বাংলা