গুম হওয়া বাবার স্মৃতিচারণ করে শিশুর আর্তনাদ, কাঁদলেন তারেক রহমান

গুম হয়ে যাওয়া বাবার জন্য যখন তাদের সন্তানরা কান্নায় ভেঙে পড়ছিলেন, তখন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানও নিজের আবেগ সামাল দিতে পারেননি। তিনিও কান্নায় ভেঙে পড়েন।   শনিবার (১৭ জানুয়ারি) সকালে রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে ‘গুম-খুনের শিকার’ নেতাকর্মীদের পরিবারের সম্মিলন অনুষ্ঠানে এ দৃশ্য দেখা যায়। ‘আমরা বিএনপি পরিবার’ ও ‘মায়ের ডাক’ এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। সেখানে এখনো নিখোঁজ অনেকের পরিবারের স্বজনরা তাদের প্রিয়জনদের ফিরে পাওয়ার আকুতি প্রকাশ করেন। ২০১৩ সালের ২ ডিসেম্বর শাহবাগ থেকে গুম হয় বংশাল ছাত্রদলের নেতা পারভেজ হোসেন। এত বছর পেরিয়ে গেলেও বাবার সন্ধান পায়নি তার কন্যা আদিবা ইসলাম হৃদি। বংশাল থানা ছাত্রদল নেতা পারভেজ হোসেনের নিখোঁজের পর থেকে তার পরিবার, বিশেষ করে স্ত্রী ফারজানা আক্তার ও তাদের মেয়ে এখনো তার অপেক্ষায় আছেন। তার মেয়ে বাবার হাত ধরে স্কুলে যাওয়ার স্বপ্নপূরণের আকুতি জানিয়েছেন। পারভেজকে ডিবি (গোয়েন্দা) পরিচয়ে তুলে নেওয়া হয়েছিলেন। এই গুমের ঘটনায় তার পরিবার বিচার ও সন্ধান দাবি করে আসছে।  কান্না বিজড়িত কণ্ঠে হৃদি বলছিল, ‘বছর যায়, নতুন বছর আসে কিন্তু আমাদের বাবা

গুম হওয়া বাবার স্মৃতিচারণ করে শিশুর আর্তনাদ, কাঁদলেন তারেক রহমান

গুম হয়ে যাওয়া বাবার জন্য যখন তাদের সন্তানরা কান্নায় ভেঙে পড়ছিলেন, তখন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানও নিজের আবেগ সামাল দিতে পারেননি। তিনিও কান্নায় ভেঙে পড়েন।  

শনিবার (১৭ জানুয়ারি) সকালে রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে ‘গুম-খুনের শিকার’ নেতাকর্মীদের পরিবারের সম্মিলন অনুষ্ঠানে এ দৃশ্য দেখা যায়।

‘আমরা বিএনপি পরিবার’ ও ‘মায়ের ডাক’ এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। সেখানে এখনো নিখোঁজ অনেকের পরিবারের স্বজনরা তাদের প্রিয়জনদের ফিরে পাওয়ার আকুতি প্রকাশ করেন।

২০১৩ সালের ২ ডিসেম্বর শাহবাগ থেকে গুম হয় বংশাল ছাত্রদলের নেতা পারভেজ হোসেন। এত বছর পেরিয়ে গেলেও বাবার সন্ধান পায়নি তার কন্যা আদিবা ইসলাম হৃদি।

বংশাল থানা ছাত্রদল নেতা পারভেজ হোসেনের নিখোঁজের পর থেকে তার পরিবার, বিশেষ করে স্ত্রী ফারজানা আক্তার ও তাদের মেয়ে এখনো তার অপেক্ষায় আছেন। তার মেয়ে বাবার হাত ধরে স্কুলে যাওয়ার স্বপ্নপূরণের আকুতি জানিয়েছেন। পারভেজকে ডিবি (গোয়েন্দা) পরিচয়ে তুলে নেওয়া হয়েছিলেন। এই গুমের ঘটনায় তার পরিবার বিচার ও সন্ধান দাবি করে আসছে। 

কান্না বিজড়িত কণ্ঠে হৃদি বলছিল, ‘বছর যায়, নতুন বছর আসে কিন্তু আমাদের বাবা আর আসে না। ৫ আগস্টের পর এক বছরের বেশি সময় পার হয়ে গেল, কিন্তু আমি বাবাকে ফিরে পাইনি। আমার ছোটবেলা থেকেই স্বপ্ন ছিল বাবার হাত ধরে স্কুলে যাওয়ার, কিন্তু সেই স্বপ্ন এখনো পূরণ হয়নি। আমি কী বাবাকে ফিরে পাব না? আর কত বছর অপেক্ষা করতে হবে আপনারাই বলুন?

এই কথা বলেই অঝোরে কাঁদতে লাগলো হৃদি। এ সময় মঞ্চে বসা বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান তার আবেগ ধরে রাখতে পারেনি। টেবিলের সামনে টিসু বক্স থেকে টিসু নিয়ে নিজের চশমাটা খুলে নিজেই চোখ মুছতে দেখা যায়। পুরো অনুষ্ঠানস্থলে অতিথিরাও হৃদির সাথে এভাবে তার কষ্ট-বেদনাকে শেয়ার করছে।

মাত্র দুই মাস বয়সে নিখোঁজ হয়েছে সাফার বাবা। বংশাল ছাত্রদলের সহসভাপতি মো. সোহেল। ২০১৩ সালে তাকে গুম হওয়া পর থেকে অদ্যাবধি নিখোঁজ।

কাঁদতে কাঁদতে সাফা বলল, ‘এক যুগ ধরে বাবার জন্য অপেক্ষা করছি। অনেক জায়গায় গিয়েছি, কিন্তু এখন পর্যন্ত কোনো খোঁজ পাইনি বাবার।’

তার সমবয়সীদের যখন বাবারা হাঁটা শেখান, তখন সে নিজের বাবাকে খুঁজে বেড়ায় উল্লেখ করে সাফা বলে, ‘আমি আর কত দিন খুঁজব বাবাকে?’

সাফা ও হৃদির মতো অনেকের প্রিয়জন আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে বিচারবহির্ভূত হত্যা ও গুমের শিকার হয়েছেন। কেউ হারিয়েছেন বাবা, কেউ সন্তান, কেউ ভাই, আবার কেউ স্বামীকে। বাংলাদেশ চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে গুম হওয়া পরিবারের সদস্যদের আবেগে অনুষ্ঠানস্থল ছিল এক কষ্ট-বেদনার অন্যরকম অনুষ্ঠান। অনেক আয়োজকরাও যেমন কেঁদেছেন তেমনি নিরাপত্তা কর্মীদেরও দীর্ঘ নিঃশ্বাসে ফেলতে দেখা যায়।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow