গুরুত্বপূর্ণ বিল পাসে ব্যর্থ ভারত সরকার
ভারতে নারীর প্রতিনিধিত্ব বাড়াতে আনা একটি গুরুত্বপূর্ণ বিল সংসদে পাসে ব্যর্থ হয়েছে। ডিলিমিটেশন বা নির্বাচনী সীমানা পুনর্বিন্যাসের সঙ্গে বিলটি যুক্ত করায় তীব্র রাজনৈতিক বিরোধের সৃষ্টি হয় এবং শেষ পর্যন্ত তা অনুমোদন পায়নি। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি-র নেতৃত্বাধীন ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) সরকারের ১২ বছরের শাসনামলে এই প্রথম কোনো সাংবিধানিক সংশোধনী সংসদে পাস করতে ব্যর্থ হলো। বিলটি পাসের জন্য দুই-তৃতীয়াংশ সমর্থন প্রয়োজন হলেও ভোটাভুটিতে ২৯৮ জন পক্ষে এবং ২৩৩ জন বিপক্ষে ভোট দেন। বিলটির লক্ষ্য ছিল সংসদের এক-তৃতীয়াংশ আসন নারীদের জন্য সংরক্ষণ করা। তবে সরকার এটি ডিলিমিটেশন প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত করায় বিরোধী দলগুলো অভিযোগ তোলে যে, নারীর ক্ষমতায়নের আড়ালে নির্বাচনী মানচিত্র পুনর্গঠনের চেষ্টা করা হচ্ছে। ডিলিমিটেশন প্রক্রিয়ায় ২০১১ সালের জনগণনা অনুযায়ী নির্বাচনী আসন পুনর্নির্ধারণ করা হবে এবং লোকসভার আসন সংখ্যা ৫৪৩ থেকে বাড়িয়ে প্রায় ৮৫০-এ উন্নীত করার প্রস্তাব রয়েছে। এই প্রস্তাবকে কেন্দ্র করে বিশেষ করে দক্ষিণ ভারতের রাজ্যগুলোতে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বিরোধী দল ইন্ডিয়ান ন্যাশনাল কংগ্রেস নেত্রী প্রিয়াঙ্কা গান্
ভারতে নারীর প্রতিনিধিত্ব বাড়াতে আনা একটি গুরুত্বপূর্ণ বিল সংসদে পাসে ব্যর্থ হয়েছে। ডিলিমিটেশন বা নির্বাচনী সীমানা পুনর্বিন্যাসের সঙ্গে বিলটি যুক্ত করায় তীব্র রাজনৈতিক বিরোধের সৃষ্টি হয় এবং শেষ পর্যন্ত তা অনুমোদন পায়নি।
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি-র নেতৃত্বাধীন ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) সরকারের ১২ বছরের শাসনামলে এই প্রথম কোনো সাংবিধানিক সংশোধনী সংসদে পাস করতে ব্যর্থ হলো। বিলটি পাসের জন্য দুই-তৃতীয়াংশ সমর্থন প্রয়োজন হলেও ভোটাভুটিতে ২৯৮ জন পক্ষে এবং ২৩৩ জন বিপক্ষে ভোট দেন।
বিলটির লক্ষ্য ছিল সংসদের এক-তৃতীয়াংশ আসন নারীদের জন্য সংরক্ষণ করা। তবে সরকার এটি ডিলিমিটেশন প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত করায় বিরোধী দলগুলো অভিযোগ তোলে যে, নারীর ক্ষমতায়নের আড়ালে নির্বাচনী মানচিত্র পুনর্গঠনের চেষ্টা করা হচ্ছে।
ডিলিমিটেশন প্রক্রিয়ায় ২০১১ সালের জনগণনা অনুযায়ী নির্বাচনী আসন পুনর্নির্ধারণ করা হবে এবং লোকসভার আসন সংখ্যা ৫৪৩ থেকে বাড়িয়ে প্রায় ৮৫০-এ উন্নীত করার প্রস্তাব রয়েছে। এই প্রস্তাবকে কেন্দ্র করে বিশেষ করে দক্ষিণ ভারতের রাজ্যগুলোতে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
বিরোধী দল ইন্ডিয়ান ন্যাশনাল কংগ্রেস নেত্রী প্রিয়াঙ্কা গান্ধী ভদ্রা একে “গণতন্ত্রের ওপর সরাসরি আঘাত” বলে উল্লেখ করেন। একই দলের নেতা রাহুল গান্ধী বলেন, “এটি কোনো নারী বিল নয়, বরং ভারতের নির্বাচনী মানচিত্র পরিবর্তনের একটি প্রচেষ্টা।”
অন্যদিকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ বলেন, জনসংখ্যা অনুযায়ী প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করতে ডিলিমিটেশন প্রয়োজন, যাতে প্রতিটি ভোটের সমান মূল্য থাকে।
দক্ষিণ ভারতের তামিলনাড়ু ও কেরালার মতো রাজ্যগুলো এ প্রক্রিয়ার বিরোধিতা করছে। তাদের আশঙ্কা, জনসংখ্যা কম হওয়ায় নতুন সীমানা নির্ধারণে তারা রাজনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে, বিপরীতে উত্তর ভারতের জনবহুল রাজ্যগুলো বেশি আসন পাবে।
তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী এম কে স্ট্যালিন এই বিলকে দক্ষিণের জন্য “শাস্তি” বলে মন্তব্য করেন। তার দল ড্রাভিডা মুন্নেত্র কাঝাগম-এর সাংসদরা প্রতিবাদে কালো পোশাক পরে সংসদে উপস্থিত হন।
বিরোধী শিবিরের অভিযোগ, নারীদের জন্য সংরক্ষিত আসনের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়কে বিতর্কিত ডিলিমিটেশন ইস্যুর সঙ্গে যুক্ত করে সরকার রাজনৈতিক সুবিধা নিতে চাইছে।
উল্লেখ্য, ২০২৩ সালে নারীদের জন্য এক-তৃতীয়াংশ আসন সংরক্ষণের একটি বিল সর্বসম্মতভাবে পাস হলেও তা কার্যকর হওয়ার কথা ২০২৯ সালের পর। নতুন বিলের মাধ্যমে সেই প্রক্রিয়া দ্রুত করার কথা জানিয়েছিল সরকার, তবে শেষ পর্যন্ত তা পাস না হওয়ায় বিষয়টি আবার অনিশ্চয়তায় পড়েছে।
সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান।
What's Your Reaction?