গুলি সিয়ামের মাথার পেছন দিয়ে বেরিয়ে আমার মাথার সামনে এসে লাগে

  ২০২৪ সালে তিনি একই শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক ছিলেন। আল আমিন বলেন, ২০২৪ সালের ১ জুলাই থেকে ৫ আগস্ট পর্যন্ত আমরা বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে অংশ নেই। এরই ধারাবাহিকতায় ১৮ জুলাই মিরপুর-১০ নম্বর এলাকায় পপুলার ডায়াগনস্টিক হাসপাতালের সামনে আমরা আন্দোলনে যোগ দেই। রাত ১০টার পর আমাদের ওপর আট-দশজন পুলিশ সদস্য গুলি ছোড়েন। তাদের মধ্যে তিন-চারজন সাদা পোশাকধারী লোককেও ঢুকতে দেখি। পুলিশের ছোড়া একটি গুলি আন্দোলনরত সিয়াম সর্দারের বাঁ চোখে বিদ্ধ হয়। গুলিটি তার মাথার পেছন দিয়ে বেরিয়ে আমার মাথার সামনে এসে লাগে। এতে আমার মাথায় ক্ষত হলে আমি মাটিতে পড়ে যাই। তিনি আরও বলেন, এ অবস্থা দেখে আশপাশের লোকজন এসে আমাকে মাটি থেকে তুলে পানি ঢালেন। একপর্যায়ে জ্ঞান ফিরলে দেখি, সিয়ামের মাথার মগজ ও রক্ত আমার টি-শার্টে লেগে আছে। তখন লোকজন মিলে সিয়ামকে সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে পাঠালে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। তার মৃত্যুর খবরে আন্দোলন আরও জোরালো হয়। এমনকি ওই দিন সারারাত আমরা মিরপুর-১০ নম্বরে অবস্থান নেই। তবে আমার মাথার ক্ষত ততটা মারাত্মক ছিল না। জবানবন্দিতে আরও উল্লেখ করা হয়, ১৯ জুলাই সকাল থেকে পুনরায় আন্দোলনে

গুলি সিয়ামের মাথার পেছন দিয়ে বেরিয়ে আমার মাথার সামনে এসে লাগে

 

২০২৪ সালে তিনি একই শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক ছিলেন। আল আমিন বলেন, ২০২৪ সালের ১ জুলাই থেকে ৫ আগস্ট পর্যন্ত আমরা বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে অংশ নেই। এরই ধারাবাহিকতায় ১৮ জুলাই মিরপুর-১০ নম্বর এলাকায় পপুলার ডায়াগনস্টিক হাসপাতালের সামনে আমরা আন্দোলনে যোগ দেই। রাত ১০টার পর আমাদের ওপর আট-দশজন পুলিশ সদস্য গুলি ছোড়েন। তাদের মধ্যে তিন-চারজন সাদা পোশাকধারী লোককেও ঢুকতে দেখি। পুলিশের ছোড়া একটি গুলি আন্দোলনরত সিয়াম সর্দারের বাঁ চোখে বিদ্ধ হয়। গুলিটি তার মাথার পেছন দিয়ে বেরিয়ে আমার মাথার সামনে এসে লাগে। এতে আমার মাথায় ক্ষত হলে আমি মাটিতে পড়ে যাই।

তিনি আরও বলেন, এ অবস্থা দেখে আশপাশের লোকজন এসে আমাকে মাটি থেকে তুলে পানি ঢালেন। একপর্যায়ে জ্ঞান ফিরলে দেখি, সিয়ামের মাথার মগজ ও রক্ত আমার টি-শার্টে লেগে আছে। তখন লোকজন মিলে সিয়ামকে সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে পাঠালে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। তার মৃত্যুর খবরে আন্দোলন আরও জোরালো হয়। এমনকি ওই দিন সারারাত আমরা মিরপুর-১০ নম্বরে অবস্থান নেই। তবে আমার মাথার ক্ষত ততটা মারাত্মক ছিল না।

জবানবন্দিতে আরও উল্লেখ করা হয়, ১৯ জুলাই সকাল থেকে পুনরায় আন্দোলনে অংশ নেন আল আমিন। তাদের সঙ্গে সাধারণ ছাত্র-জনতাও যোগ দেন। আন্দোলনের একপর্যায়ে জুটপট্টির আসিফ, পারভেজ, রুবেলসহ আরও অনেকেই শহীদ হয়েছেন বলে তারা খবর পান। এরপরও তারা জোরালোভাবে আন্দোলন চালিয়ে যান।

জবানবন্দিতে তিনি বলেন, ১৯ জুলাই ছাত্রলীগ, যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ ও শ্রমিক লীগের নেতাকর্মীরা একটি হোন্ডা মিছিল করেন। তখন ওই মিছিল থেকে ছাত্র-জনতাকে লক্ষ্য করে তারা গুলি ছোড়েন। এতে অনেকেই গুলিবিদ্ধ হন। এরপর আমাদের পরিবারের ওপর বিভিন্ন ধরনের হুমকি আসতে থাকে। মিরপুর-১০ নম্বরে অবস্থিত বায়তুল মামুর মসজিদে বসে শ্রমিক লীগের জিন্নাত আলী মাতব্বরসহ আওয়ামী লীগের অনেকেই ষড়যন্ত্র করেন।

তিনি বলেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি কল রেকর্ড প্রকাশিত হয়েছে। ওই কল রেকর্ডে সালমান এফ রহমান ও আনিসুল হকের কথোপকথন শুনতে পাই। কারফিউ জারি করে আন্দোলনকারীদের শেষ করে দেওয়ার কথা বলেন তারা। এ ঘটনার জন্য আমি শেখ হাসিনা, ওবায়দুল কাদের, সালমান এফ রহমান, আনিসুল হকসহ আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতাদের দায়ী করি। পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত ছিলেন।

চলতি বছরের ১২ জানুয়ারি আনিসুল হক ও সালমান এফ রহমানের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়। প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে সালমান এফ রহমান ও আনিসুল হকের বিরুদ্ধে মোট পাঁচটি অভিযোগ আনা হয়েছে। অভিযোগগুলোর মধ্যে রয়েছে কারফিউ জারির মাধ্যমে মারণাস্ত্র ব্যবহারে উসকানি, প্ররোচনা ও ষড়যন্ত্র।

অভিযোগ অনুযায়ী, তাদের ধারাবাহিক নির্দেশনা ও কর্মকাণ্ডের ফলে মিরপুর-১, ২, ১০ ও ১৩ নম্বর এলাকায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও আওয়ামী লীগের সশস্ত্র হামলায় বহু ছাত্র-জনতা নিহত হন। এসব নির্যাতন বন্ধে তারা কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেননি বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।

এ ছাড়া ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলন দমনে নীতিগত সিদ্ধান্ত গ্রহণে সালমান এফ রহমান ও আনিসুল হক সরাসরি জড়িত ছিলেন বলে অভিযোগ আনা হয়। এরই ধারাবাহিকতায় ১৯ জুলাই তাদের মধ্যে ফোনালাপ হয়।

এফএইচ/এসএনআর

 

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow