‘গুল্লি বাবু’র ডেকে নেওয়া সেই যুবককে গুলি করে হত্যা

চট্টগ্রামের মুরাদপুর ফরেস্ট গেট এলাকায় বাসা থেকে ডেকে নিয়ে আজাদ (২৫) নামে এক যুবককে গুলি করে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। এ ঘটনায় নিহতের মামা হিসেবে পরিচিত ‘গুল্লি বাবু’ নামে এক ব্যক্তির সম্পৃক্ততার অভিযোগ উঠেছে। বুধবার (১ জুলাই) দুপুরে নগরীর ব্যস্ত এই এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। ঘটনায় একজনকে আটক করে আদালতে পাঠিয়েছে পুলিশ। নিহত আজাদ পেশায় একজন অ্যালুমিনিয়াম মিস্ত্রি ছিলেন। তিনি চট্টগ্রামের পাঁচলাইশ থানাধীন হামজারবাগ এলাকার হাকিম শাহ হুজুরের বাড়ি এলাকার মো. রশীদের ছেলে। পরিবার সূত্রে জানা যায়, বুধবার দুপুর ১টার দিকে কর্মস্থল থেকে বাসায় ফেরেন আজাদ। পরে ১টা ৫০ মিনিটের দিকে ‘গুল্লি বাবু’ নামে পরিচিত ওই ব্যক্তি, যিনি নিহতের মামা বলে পরিচিত তাকে কাজের কথা বলে বাসা থেকে ডেকে নিয়ে যান। এরপর বিকেল ৪টার দিকে ওই ব্যক্তি পরিবারের সদস্যদের ফোন করে জানান, ফরেস্ট গেট এলাকায় আজাদকে গুলি করা হয়েছে এবং তাকে হাসপাতালে নেওয়া হচ্ছে। কিছুক্ষণ পর গুরুতর অবস্থায় আজাদকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।  বিষয়টি নিশ্চিত করেন চমেক হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির সহকারী ইনচার্জ সোহেল রান

‘গুল্লি বাবু’র ডেকে নেওয়া সেই যুবককে গুলি করে হত্যা
চট্টগ্রামের মুরাদপুর ফরেস্ট গেট এলাকায় বাসা থেকে ডেকে নিয়ে আজাদ (২৫) নামে এক যুবককে গুলি করে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। এ ঘটনায় নিহতের মামা হিসেবে পরিচিত ‘গুল্লি বাবু’ নামে এক ব্যক্তির সম্পৃক্ততার অভিযোগ উঠেছে। বুধবার (১ জুলাই) দুপুরে নগরীর ব্যস্ত এই এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। ঘটনায় একজনকে আটক করে আদালতে পাঠিয়েছে পুলিশ। নিহত আজাদ পেশায় একজন অ্যালুমিনিয়াম মিস্ত্রি ছিলেন। তিনি চট্টগ্রামের পাঁচলাইশ থানাধীন হামজারবাগ এলাকার হাকিম শাহ হুজুরের বাড়ি এলাকার মো. রশীদের ছেলে। পরিবার সূত্রে জানা যায়, বুধবার দুপুর ১টার দিকে কর্মস্থল থেকে বাসায় ফেরেন আজাদ। পরে ১টা ৫০ মিনিটের দিকে ‘গুল্লি বাবু’ নামে পরিচিত ওই ব্যক্তি, যিনি নিহতের মামা বলে পরিচিত তাকে কাজের কথা বলে বাসা থেকে ডেকে নিয়ে যান। এরপর বিকেল ৪টার দিকে ওই ব্যক্তি পরিবারের সদস্যদের ফোন করে জানান, ফরেস্ট গেট এলাকায় আজাদকে গুলি করা হয়েছে এবং তাকে হাসপাতালে নেওয়া হচ্ছে। কিছুক্ষণ পর গুরুতর অবস্থায় আজাদকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।  বিষয়টি নিশ্চিত করেন চমেক হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির সহকারী ইনচার্জ সোহেল রানা। তিনি জানান, নিহতের শরীরের ডান পাশ ও বুকে গুলির চিহ্ন পাওয়া গেছে। ঘটনার পর প্রাথমিকভাবে নিহতের সহকর্মীরা দাবি করেন, রাস্তার পাশে হাঁটার সময় পেছন থেকে অজ্ঞাত কেউ তাকে গুলি করে। তবে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) প্রাথমিক তদন্তে ভিন্ন তথ্য উঠে আসে। সিএমপির উত্তর বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার মো. হাসান মোস্তফা স্বপন জানান, ফরেস্ট গেট এলাকার একটি পরিত্যক্ত একতলা ঘরে আজাদ, তার মামা ‘গুল্লি বাবু’ এবং হৃদয় নামের আরেক ব্যক্তি অবস্থান করছিলেন। সেখানে তারা ইয়াবা সেবনের জন্য একত্রিত হন বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। এ সময় অভ্যন্তরীণ বিরোধের জেরে গুলি চালানো হয় বলে পুলিশের ধারণা। ঘটনাস্থলটি পরিত্যক্ত হওয়ায় কোনো সিসিটিভি ফুটেজ পাওয়া যায়নি। হাসপাতালের মর্গের সামনে নিহতের ভাই মো. সাজ্জাদ বলেন, আমার ভাই কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে জড়িত ছিলেন না। তিনি অ্যালুমিনিয়ামের কাজ করে সংসার চালাতেন। ‘গুল্লি বাবু’ তাকে কাজের কথা বলে ডেকে নিয়ে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করেছে। আমি হত্যাকারীদের ফাঁসি চাই।  পাঁচলাইশ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জাহেদুল ইসলাম কালবেলাকে বলেন, নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। এ ঘটনায় একজনকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে। তিনি আরও বলেন, ঘটনার সঙ্গে রাজনৈতিক কোনো দলের সম্পৃক্ততা পাওয়া যায়নি। প্রাথমিকভাবে হৃদয়, ইসহাক ও গুল্লি বাবু জড়িত বলে ধারণা করা হচ্ছে। বাকি আসামিদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের পাশাপাশি ঘটনার প্রকৃত কারণ জানতে তদন্ত চলমান রয়েছে। আলোচিত ‘গুল্লি বাবু’র পরিচয় এবং পূর্বে তার কোনো সন্ত্রাসী বা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে সম্পৃক্ততা ছিল কিনা তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow