গৃহকর্মীর মৃত্যু, আলোচনায় পাউবোর অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী সবিবুর রহমান

রাজধানীর ধানমন্ডিতে পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী মো. সবিবুর রহমানের বাসায় কর্মরত ১১ বছর বয়সী শিশু গৃহকর্মী রিক্তা মনির রহস্যজনক মৃত্যুর ঘটনায় নতুন করে আলোচনায় এসেছেন তিনি। শুক্রবার (১৯ জুন) সকালে ধানমন্ডির একটি বহুতল ভবন থেকে গুরুতর আহত অবস্থায় শিশুটিকে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। রিক্তা মনি সুনামগঞ্জের নিজগাঁও গ্রামের দিনমজুর শাহিন আলীর মেয়ে। পরিবারের অভিযোগ, তাদের মেয়েকে হত্যা করা হয়েছে। তবে পুলিশ বলছে, এটি দুর্ঘটনা, আত্মহত্যা নাকি অন্যকোনো ঘটনা, তা তদন্তের আগে নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ধানমন্ডির ৯/এ নম্বর সড়কের একটি ভবনের ১০ তলায় অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী মো. সবিবুর রহমানের বাসায় গৃহকর্মী হিসেবে কাজ করত রিক্তা। ঘটনার দিন সকালে গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে জিগাতলার একটি বেসরকারি হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে তার মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়। এ বিষয়ে জানতে চাইলে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) ধানমন্ডি অঞ্চলের সহকারী কমিশনার সাদ্দাম হোসাইন বলেন, শিশুটি ধানমন্ডির একটি বহুতল ভবনের ১০ তলার বাসিন্

গৃহকর্মীর মৃত্যু, আলোচনায় পাউবোর অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী সবিবুর রহমান

রাজধানীর ধানমন্ডিতে পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী মো. সবিবুর রহমানের বাসায় কর্মরত ১১ বছর বয়সী শিশু গৃহকর্মী রিক্তা মনির রহস্যজনক মৃত্যুর ঘটনায় নতুন করে আলোচনায় এসেছেন তিনি।

শুক্রবার (১৯ জুন) সকালে ধানমন্ডির একটি বহুতল ভবন থেকে গুরুতর আহত অবস্থায় শিশুটিকে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

রিক্তা মনি সুনামগঞ্জের নিজগাঁও গ্রামের দিনমজুর শাহিন আলীর মেয়ে। পরিবারের অভিযোগ, তাদের মেয়েকে হত্যা করা হয়েছে। তবে পুলিশ বলছে, এটি দুর্ঘটনা, আত্মহত্যা নাকি অন্যকোনো ঘটনা, তা তদন্তের আগে নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ধানমন্ডির ৯/এ নম্বর সড়কের একটি ভবনের ১০ তলায় অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী মো. সবিবুর রহমানের বাসায় গৃহকর্মী হিসেবে কাজ করত রিক্তা। ঘটনার দিন সকালে গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে জিগাতলার একটি বেসরকারি হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে তার মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) ধানমন্ডি অঞ্চলের সহকারী কমিশনার সাদ্দাম হোসাইন বলেন, শিশুটি ধানমন্ডির একটি বহুতল ভবনের ১০ তলার বাসিন্দা পানি উন্নয়ন বোর্ডের ওই অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলীর বাসায় গৃহকর্মীর কাজ করত। ওই বাসায় গৃহকর্তা, তার স্ত্রী এবং তাদের দুই সন্তানের সঙ্গে শিশুটি থাকত। সকালে ওই বাসা থেকে গুরুতর আহত অবস্থায় শিশুটিকে জিগাতলার বেসরকারি ইবনে সিনা হাসপাতালে নেওয়া হয়। এ সময় চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। পরে তার মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজের (ঢামেক) মর্গে পাঠানো হয়।

মেয়ের মৃত্যুর খবর পেয়ে ঢাকায় এসে কান্নায় ভেঙে পড়েন তার বাবা-মা। তারা দাবি করেন, রিক্তা কয়েকদিন ধরেই বাড়ি ফিরতে চাইছিল। ফোনে কান্নাকাটি করে কাজ ছেড়ে দেওয়ার কথাও জানিয়েছিল। কিন্তু তাকে ফিরিয়ে আনতে গেলে নানা অজুহাত দেখানো হয়।

শিশুটির বাবা শাহিন আলী বলেন, আমার মেয়ে ভবন থেকে পড়ে মারা যায়নি, তাকে মেরে ফেলা হয়েছে। সঠিক তদন্ত হলে সত্য বেরিয়ে আসবে।

এদিকে ঘটনার পর অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী সবিবুর রহমানের মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। ফলে তার বক্তব্য পাওয়া সম্ভব হয়নি।

পাউবো সূত্রে জানা গেছে, অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী মো. সবিবুর রহমান আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে প্রভাবশালী কর্মকর্তা হিসেবে পরিচিত ছিলেন। সাবেক পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী কর্নেল (অব.) জাহিদ ফারুকের ঘনিষ্ঠ কর্মকর্তা হিসেবে দীর্ঘদিন বরিশাল ও খুলনাসহ গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় দায়িত্ব পালন করেন। সরকার পরিবর্তনের পর তাকে পাউবোর প্রশিক্ষণ ও মানবসম্পদ উন্নয়ন দপ্তরে পদায়ন করা হয়।

গত মে মাসে প্রকাশিত একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে তার নামও উঠে আসে। ওই প্রতিবেদনে তাকে আওয়ামী লীগ ঘনিষ্ঠ কর্মকর্তা হিসেবে উল্লেখ করা হয় এবং অতীতে তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ থাকার কথা বলা হয়। যদিও এসব অভিযোগের বিষয়ে তার কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

বিশ্লেষকরা বলছেন, একটি শিশু গৃহকর্মীর অস্বাভাবিক মৃত্যুর ঘটনায় নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্ত জরুরি। কারণ সাম্প্রতিক বছরগুলোতে রাজধানীতে গৃহকর্মী নির্যাতন ও মৃত্যুর একাধিক ঘটনায় বিচার না হওয়ায় জনমনে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

এ ঘটনায় পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে। ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন ও তদন্তের অগ্রগতির ওপর নির্ভর করবে রিক্তা মনির মৃত্যুর প্রকৃত রহস্য উদ্‌ঘাটন।

এর আগে গত বছরের ৩০ আগস্ট ধানমন্ডিতে ১২ বছরের এক গৃহকর্মীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেন স্থানীয় লোকজন। এর আগে গত বছরের ২ এপ্রিল পশ্চিম ধানমন্ডি এলাকার একটি ৯ তলা ভবনের বারান্দা থেকে নিচে পড়ে ১২ বছরের আরেক শিশু গৃহকর্মীর মৃত্যু হয়।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow