গোল্ডেন মিল্ক খেলে শরীরে যা ঘটে
হলুদ দুধ, যাকে অনেকেই গোল্ডেন মিল্ক বলেন, আমাদের ঘরোয়া খাবারের তালিকায় নতুন কিছু নয়। সর্দি, কাশি বা শরীর ব্যথায় ছোটবেলা থেকেই অনেকেই হলুদ দুধ খেয়ে এসেছেন। এখন গবেষণায়ও দেখা যাচ্ছে, হলুদের উপাদান শরীরের জন্য নানা দিক থেকে উপকারী। নিয়মিত ও পরিমিতভাবে গোল্ডেন মিল্ক পান করলে শরীর ও মনের ওপর ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। হলুদের মূল শক্তি আসে এর সক্রিয় উপাদান কারকিউমিন থেকে। এই উপাদানের প্রদাহনাশক ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট গুণ শরীরকে ভেতর থেকে সুস্থ রাখতে সাহায্য করে। চলুন জেনে নেওয়া যাক, হলুদ দুধ খেলে শরীরে কী কী পরিবর্তন আসতে পারে। প্রদাহ কমাতে সাহায্য করে শরীরে প্রদাহ অনেক সময় রোগ প্রতিরোধের অংশ হলেও দীর্ঘদিন থাকলে তা ক্ষতির কারণ হয়। আর্থ্রাইটিস, জয়েন্টের ব্যথা বা দীর্ঘমেয়াদি ক্লান্তির পেছনেও প্রদাহ ভূমিকা রাখে। হলুদ দুধের কারকিউমিন এই প্রদাহ কমাতে সহায়তা করতে পারে। কোষকে ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা করে গোল্ডেন মিল্কে থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট শরীরের ফ্রি র্যাডিক্যাল নামের ক্ষতিকর কণাকে দমন করে। এসব কণার কারণে কোষের ক্ষতি হলে নানা রোগের ঝুঁকি বাড়ে। নিয়মিত হলুদ দুধ পান করলে এই ঝুঁকি কিছুটা কমতে পার
হলুদ দুধ, যাকে অনেকেই গোল্ডেন মিল্ক বলেন, আমাদের ঘরোয়া খাবারের তালিকায় নতুন কিছু নয়। সর্দি, কাশি বা শরীর ব্যথায় ছোটবেলা থেকেই অনেকেই হলুদ দুধ খেয়ে এসেছেন।
এখন গবেষণায়ও দেখা যাচ্ছে, হলুদের উপাদান শরীরের জন্য নানা দিক থেকে উপকারী। নিয়মিত ও পরিমিতভাবে গোল্ডেন মিল্ক পান করলে শরীর ও মনের ওপর ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।
হলুদের মূল শক্তি আসে এর সক্রিয় উপাদান কারকিউমিন থেকে। এই উপাদানের প্রদাহনাশক ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট গুণ শরীরকে ভেতর থেকে সুস্থ রাখতে সাহায্য করে। চলুন জেনে নেওয়া যাক, হলুদ দুধ খেলে শরীরে কী কী পরিবর্তন আসতে পারে।
প্রদাহ কমাতে সাহায্য করে
শরীরে প্রদাহ অনেক সময় রোগ প্রতিরোধের অংশ হলেও দীর্ঘদিন থাকলে তা ক্ষতির কারণ হয়। আর্থ্রাইটিস, জয়েন্টের ব্যথা বা দীর্ঘমেয়াদি ক্লান্তির পেছনেও প্রদাহ ভূমিকা রাখে। হলুদ দুধের কারকিউমিন এই প্রদাহ কমাতে সহায়তা করতে পারে।
কোষকে ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা করে
গোল্ডেন মিল্কে থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট শরীরের ফ্রি র্যাডিক্যাল নামের ক্ষতিকর কণাকে দমন করে। এসব কণার কারণে কোষের ক্ষতি হলে নানা রোগের ঝুঁকি বাড়ে। নিয়মিত হলুদ দুধ পান করলে এই ঝুঁকি কিছুটা কমতে পারে।
রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে সহায়ক
হলুদ ও আদা রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করতে পারে বলে কিছু গবেষণায় দেখা গেছে। ডায়াবেটিস রোগীদের ক্ষেত্রে এটি উপকারী হতে পারে। তবে বাজারজাত গোল্ডেন মিল্কে অতিরিক্ত চিনি থাকতে পারে, তাই ঘরে তৈরি করাই ভালো।
হৃদযন্ত্র সুস্থ রাখতে সাহায্য করে
কারকিউমিন ধমনিতে চর্বি জমা কমাতে সহায়ক হতে পারে। এতে হৃদরোগের ঝুঁকি কিছুটা কমে। অনেক সময় গোল্ডেন মিল্কে আদা ও দারুচিনি যোগ করা হয়, যা রক্তচাপ ও কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণেও ভূমিকা রাখে।
হাড় মজবুত করে
দুধে থাকা ক্যালসিয়াম ও ভিটামিন ডি হাড়ের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। নিয়মিত হলুদ দুধ পান করলে হাড়ের শক্তি বজায় রাখতে সাহায্য করে, বিশেষ করে বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে।
ক্যানসার নিয়ে গবেষণার আগ্রহ
কারকিউমিন নিয়ে ক্যানসার সংক্রান্ত নানা গবেষণা চলছে। কিছু গবেষণায় ইঙ্গিত পাওয়া গেছে, এটি ক্যানসার চিকিৎসার পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া কমাতে সহায়ক হতে পারে। তবে ক্যানসার প্রতিরোধ বা চিকিৎসায় হলুদ দুধ একমাত্র সমাধান এমন দাবি করা যায় না।
হজমে সহায়তা করে
হলুদ ও আদা হজমশক্তি বাড়াতে সাহায্য করে। অম্বল, বদহজম বা পেট ফাঁপার মতো সমস্যায় গোল্ডেন মিল্ক কিছুটা স্বস্তি দিতে পারে।
রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়
সর্দি, কাশি বা হালকা সংক্রমণে বহুদিন ধরেই ঘরোয়া উপায় হিসেবে হলুদ দুধ ব্যবহার করা হয়। কারকিউমিনের জীবাণুনাশক গুণ রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সহায়তা করে।
মন ও স্মৃতিশক্তিতে ইতিবাচক প্রভাব
কিছু গবেষণায় দেখা গেছে, কারকিউমিন মস্তিষ্কের প্রদাহ কমাতে পারে। এতে মনোযোগ ও স্মৃতিশক্তি ভালো থাকতে সাহায্য হয়। একই সঙ্গে এটি মন ভালো রাখতে এবং উদ্বেগ কমাতেও ভূমিকা রাখতে পারে।
কালো গোলমরিচ কেন যোগ করা ভালো
গোল্ডেন মিল্কে অল্প পরিমাণ কালো গোলমরিচ দিলে কারকিউমিন শরীরে ভালোভাবে শোষিত হয়। দুধের স্বাস্থ্যকর চর্বিও এই শোষণে সাহায্য করে।
কখন পান করা ভালো
গোল্ডেন মিল্ক দিনের যেকোনো সময় পান করা যায়। অনেকেই রাতে ঘুমানোর আগে পান করেন, আবার কেউ সকালে কফির বিকল্প হিসেবে নেন। নিয়মিত পান করাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
বেশি খেলে কি সমস্যা হতে পারে
সাধারণভাবে হলুদ নিরাপদ হলেও অতিরিক্ত পরিমাণে খেলে পেটে অস্বস্তি, ডায়রিয়া বা বমি ভাব হতে পারে।
কারা সতর্ক থাকবেন
যাদের দুধ বা হলুদের কোনো উপাদানে অ্যালার্জি আছে, তাদের এড়িয়ে চলা উচিত। সিলিয়াক রোগীদের ক্ষেত্রে গ্লুটেনমুক্ত হলুদ ব্যবহার করা ভালো।
গোল্ডেন মিল্ক একটি সহজ ও প্রাকৃতিক পানীয়, যা প্রদাহ কমানো, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানো এবং সামগ্রিক সুস্থতায় ভূমিকা রাখতে পারে। তবে এটি কোনো ওষুধ নয়। সুষম খাদ্যাভ্যাস ও স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনের অংশ হিসেবে পরিমিতভাবে হলুদ দুধ পান করলেই এর প্রকৃত উপকার পাওয়া সম্ভব।
সূত্র : Very Well Health
What's Your Reaction?