গ্যাস সংকটে স্থবির চট্টগ্রাম

তীব্র গ্যাস সংকটে কার্যত অচল হয়ে পড়েছে চট্টগ্রামের স্বাভাবিক জনজীবন। বাসাবাড়িতে চুলায় আগুন জ্বলছে না, সিএনজি ফিলিং স্টেশনগুলোতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও গ্যাস পাচ্ছেন না চালকরা। ফলে যেমন কমে গেছে অটোরিকশা চালকদের আয়, তেমনি যাত্রীদের গুনতে হচ্ছে বাড়তি ভাড়া। শিল্পকারখানা ও বিদ্যুৎ উৎপাদনেও পড়েছে সংকটের নেতিবাচক প্রভাব। রোববার (২ আগস্ট) দুপুরে নগরের কদমতলীর ফোর স্টার সিএনজি রিফুয়েলিং স্টেশন, বাকলিয়ার কর্ণফুলী ফিলিং স্টেশন, মইজ্জারটেক এলাকার শাহ আমানত প্রাকৃতিক গ্যাস কোম্পানি লিমিটেড এবং কামাল ব্রাদার্স সিএনজি স্টেশনে গ্যাস নিতে শত শত যানবাহনের দীর্ঘ সারি দেখা গেছে। কোথাও কোথাও দুই থেকে তিন ঘণ্টা অপেক্ষার পরও গ্যাস না পেয়ে ফিরে যেতে হয়েছে চালকদের। কর্ণফুলী গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড (কেজিডিসিএল) জানিয়েছে, চট্টগ্রামে দৈনিক গ্যাসের চাহিদা প্রায় ৩৫ কোটি ঘনফুট হলেও শনিবার তারা জাতীয় গ্রিড থেকে পেয়েছে মাত্র ২১ কোটি ঘনফুট। এই ঘাটতির কারণেই নগরজুড়ে গ্যাসের চাপ অস্বাভাবিকভাবে কমে গেছে। কেজিডিসিএলের কর্মকর্তারা জানান, গত ২১ জুলাই মহেশখালীর এক্সিলারেট এনার্জির ভাসমান এলএনজি ট

গ্যাস সংকটে স্থবির চট্টগ্রাম

তীব্র গ্যাস সংকটে কার্যত অচল হয়ে পড়েছে চট্টগ্রামের স্বাভাবিক জনজীবন। বাসাবাড়িতে চুলায় আগুন জ্বলছে না, সিএনজি ফিলিং স্টেশনগুলোতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও গ্যাস পাচ্ছেন না চালকরা। ফলে যেমন কমে গেছে অটোরিকশা চালকদের আয়, তেমনি যাত্রীদের গুনতে হচ্ছে বাড়তি ভাড়া। শিল্পকারখানা ও বিদ্যুৎ উৎপাদনেও পড়েছে সংকটের নেতিবাচক প্রভাব।

রোববার (২ আগস্ট) দুপুরে নগরের কদমতলীর ফোর স্টার সিএনজি রিফুয়েলিং স্টেশন, বাকলিয়ার কর্ণফুলী ফিলিং স্টেশন, মইজ্জারটেক এলাকার শাহ আমানত প্রাকৃতিক গ্যাস কোম্পানি লিমিটেড এবং কামাল ব্রাদার্স সিএনজি স্টেশনে গ্যাস নিতে শত শত যানবাহনের দীর্ঘ সারি দেখা গেছে। কোথাও কোথাও দুই থেকে তিন ঘণ্টা অপেক্ষার পরও গ্যাস না পেয়ে ফিরে যেতে হয়েছে চালকদের।

কর্ণফুলী গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড (কেজিডিসিএল) জানিয়েছে, চট্টগ্রামে দৈনিক গ্যাসের চাহিদা প্রায় ৩৫ কোটি ঘনফুট হলেও শনিবার তারা জাতীয় গ্রিড থেকে পেয়েছে মাত্র ২১ কোটি ঘনফুট। এই ঘাটতির কারণেই নগরজুড়ে গ্যাসের চাপ অস্বাভাবিকভাবে কমে গেছে।

কেজিডিসিএলের কর্মকর্তারা জানান, গত ২১ জুলাই মহেশখালীর এক্সিলারেট এনার্জির ভাসমান এলএনজি টার্মিনালে (এফএসআরইউ) অগ্নিকাণ্ডের পর থেকেই গ্যাস সরবরাহে বড় ধরনের সংকট সৃষ্টি হয়েছে। এতে জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ কমে যাওয়ায় আবাসিক, শিল্প, ক্যাপটিভ বিদ্যুৎ এবং সিএনজি খাতে গ্যাসের চাপ কমাতে হয়েছে।

কদমতলীর এলাকার কদমতলীর ফোর স্টার সিএনজি রিফুয়েলিং স্টেশনের সামনে প্রায় দুই ঘণ্টা ধরে লাইনে দাঁড়িয়ে ছিলেন সিএনজি অটোরিকশাচালক মোহাম্মদ রবিউল ইসলাম। তিনি বলেন, আগে ১০ থেকে ২০ মিনিটেই গ্যাস পেতাম। এখন দুই ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থেকেও নিশ্চিত নই কখন গ্যাস পাব। এভাবে সময় নষ্ট হওয়ায় আয় অর্ধেকেরও নিচে নেমে গেছে। আবার যাত্রীরাও বেশি ভাড়া দিতে রাজি হন না।

সিএনজি স্টেশনগুলোতে গ্যাসের চাপ কম থাকায় দীর্ঘ লাইনের কারণে আশপাশের সড়কেও সৃষ্টি হচ্ছে যানজট। ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থাকার কারণে চালকদের ট্রিপ কমে যাচ্ছে, ফলে কমছে দৈনিক আয়। এর প্রভাব পড়ছে নগরের গণপরিবহন ব্যবস্থাতেও।

শুধু পরিবহন খাত নয়, সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন আবাসিক গ্রাহকরা। নগরের বহু এলাকায় সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত গ্যাসের দেখা মিলছে না। ফলে অনেক পরিবার বাধ্য হয়ে রেস্তোরাঁর খাবারের ওপর নির্ভর করছে।

জালালাবাদ এলাকার বাসিন্দা নাসরিন আকতার বলেন, আগে অন্তত সকাল ১০টার পর গ্যাস যেত। এখন সকাল সাতটাতেই চলে যায়। সন্তানকে নাশতা না খাইয়ে স্কুলে পাঠাতে হচ্ছে। বিকেল পর্যন্তও গ্যাস পাওয়া যায় না।

আমিরবাগ আবাসিক এলাকার বাসিন্দা ইফফাত জাহান বলেন, রাত ১২টার আগে রান্নাই করা যায় না। দুপুরের খাবার বাইরে থেকে কিনে আনতে হচ্ছে। এতে সংসারের খরচ অনেক বেড়ে গেছে।

আগ্রাবাদ, হালিশহর, পতেঙ্গা, চান্দগাঁও, পাঁচলাইশ, মুরাদপুর, বাকলিয়া, চকবাজার, বহদ্দারহাট, অক্সিজেন ও ষোলশহরসহ নগরের প্রায় সব এলাকাতেই একই চিত্র দেখা গেছে। বহু পরিবার সময়মতো রান্না করতে না পেরে খাবার কিনে খেতে বাধ্য হচ্ছে।

এদিকে পেট্রোবাংলার সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, মহেশখালীর এলএনজি টার্মিনালের ক্ষতিগ্রস্ত অংশ মেরামতের কাজ চলছে। দ্রুত আংশিক সরবরাহ চালুর চেষ্টা করা হচ্ছে। তবে পূর্ণ সক্ষমতায় গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক হতে আরও কিছু সময় লাগতে পারে।

সরবরাহ দ্রুত স্বাভাবিক না হলে শিল্প উৎপাদন, পরিবহন এবং নগরবাসীর দৈনন্দিন জীবন আরও বড় সংকটে পড়বে বলে আশঙ্কা সংশ্লিষ্টদের।

কেজিডিসিএলের উপমহাব্যবস্থাপক (ডিস্ট্রিবিউশন) রফিক খান বলেন, গত ১০ দিন ধরেই গ্যাস সংকট চলছে। তবে ছুটির দিনে চাহিদা ও সরবরাহের ভারসাম্য আরও খারাপ হওয়ায় পরিস্থিতি তীব্র হয়েছে। শনিবার রাত থেকে গ্যাসের চাপ অস্বাভাবিকভাবে কমে যাওয়ায় চট্টগ্রামের প্রায় সব এলাকাই সংকটে পড়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখা হচ্ছে।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow