গ্রিন এনার্জিতে বিশ্বে সবচেয়ে এগিয়ে চীন

নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে ব্যাপক বিনিয়োগ ও উৎপাদন বাড়াচ্ছে চীন। ফলে দেশটি এখন বিশ্বে গ্রিন এনার্জি বা সবুজ জ্বালানিতে সবচেয়ে এগিয়ে আছে। বিশ্লেষকদের মতে, ভবিষ্যতের বৈশ্বিক অর্থনীতি ও ভূরাজনীতিতে চীনের এ অবস্থান বড় প্রভাব ফেলবে। বিশ্বে মোট কার্বন নিঃসরণের প্রায় ৩১ দশমিক ৫ শতাংশই চীনের। দেশটির বার্ষিক নিঃসরণ প্রায় ১১ দশমিক ৯ বিলিয়ন টন। মাথাপিছু কার্বন নিঃসরণও বিশ্ব গড়ের চেয়ে বেশি। তবুও জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে বিনিয়োগের গতি অত্যন্ত দ্রুত। গত বছর চীনে নির্মাণাধীন সৌর ও বায়ু বিদ্যুৎ প্রকল্পের পরিমাণ ছিল বিশ্বের বাকি সব দেশের সম্মিলিত প্রকল্পের দ্বিগুণ। দেশটি ইতোমধ্যে ১ হাজার ২০০ গিগাওয়াট নবায়নযোগ্য বিদ্যুৎ সক্ষমতা অর্জন করেছে। এ সক্ষমতা সরকারের নির্ধারিত সময়সূচির প্রায় ছয় বছর আগেই অর্জন হয়েছে। চীনের কারখানায় তৈরি সৌর প্যানেল, উইন্ড টারবাইন ও বৈদ্যুতিক গাড়ি এখন বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে পড়ছে। বিশ্বের শীর্ষ চারটি উইন্ড টারবাইন নির্মাতা প্রতিষ্ঠানই চীনের। বৈদ্যুতিক গাড়ি উৎপাদনেও চীন এগিয়ে, যেখানে চীনা কোম্পানি বিওয়াইডি এরইমধ্যে বিদেশে কারখানা স্থাপন শুরু করেছে। বিশ্লেষকদের মতে,

গ্রিন এনার্জিতে বিশ্বে সবচেয়ে এগিয়ে চীন

নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে ব্যাপক বিনিয়োগ ও উৎপাদন বাড়াচ্ছে চীন। ফলে দেশটি এখন বিশ্বে গ্রিন এনার্জি বা সবুজ জ্বালানিতে সবচেয়ে এগিয়ে আছে। বিশ্লেষকদের মতে, ভবিষ্যতের বৈশ্বিক অর্থনীতি ও ভূরাজনীতিতে চীনের এ অবস্থান বড় প্রভাব ফেলবে।

বিশ্বে মোট কার্বন নিঃসরণের প্রায় ৩১ দশমিক ৫ শতাংশই চীনের। দেশটির বার্ষিক নিঃসরণ প্রায় ১১ দশমিক ৯ বিলিয়ন টন। মাথাপিছু কার্বন নিঃসরণও বিশ্ব গড়ের চেয়ে বেশি। তবুও জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে বিনিয়োগের গতি অত্যন্ত দ্রুত।

গত বছর চীনে নির্মাণাধীন সৌর ও বায়ু বিদ্যুৎ প্রকল্পের পরিমাণ ছিল বিশ্বের বাকি সব দেশের সম্মিলিত প্রকল্পের দ্বিগুণ। দেশটি ইতোমধ্যে ১ হাজার ২০০ গিগাওয়াট নবায়নযোগ্য বিদ্যুৎ সক্ষমতা অর্জন করেছে। এ সক্ষমতা সরকারের নির্ধারিত সময়সূচির প্রায় ছয় বছর আগেই অর্জন হয়েছে।

চীনের কারখানায় তৈরি সৌর প্যানেল, উইন্ড টারবাইন ও বৈদ্যুতিক গাড়ি এখন বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে পড়ছে। বিশ্বের শীর্ষ চারটি উইন্ড টারবাইন নির্মাতা প্রতিষ্ঠানই চীনের। বৈদ্যুতিক গাড়ি উৎপাদনেও চীন এগিয়ে, যেখানে চীনা কোম্পানি বিওয়াইডি এরইমধ্যে বিদেশে কারখানা স্থাপন শুরু করেছে।

বিশ্লেষকদের মতে, ইতিহাসে যে দেশ জ্বালানি খাত নিয়ন্ত্রণ করেছে, সেই দেশই অর্থনীতি ও রাজনীতিতে নেতৃত্ব দিয়েছে। এ কারণে ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ বহু দেশ জলবায়ু নীতি ও বিনিয়োগে চীনের সঙ্গে সহযোগিতা বাড়াচ্ছে। ব্রাজিলসহ বিভিন্ন দেশ নবায়নযোগ্য প্রকল্পে চীনা বিনিয়োগ প্রত্যাশা করছে।

অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র বর্তমানে জলবায়ু গবেষণা কমানো এবং তেল-গ্যাস ও কয়লায় বিনিয়োগ বাড়ানোর কারণে সমালোচনার মুখে পড়েছে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের নীতির কারণে জলবায়ু নেতৃত্বে দুই দেশের মধ্যে বড় পার্থক্য তৈরি হয়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং বলেছেন, বিশ্ব পরিস্থিতি যাই হোক, চীন জলবায়ু কার্যক্রম কমাবে না এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতা চালিয়ে যাবে।

তবে সমালোচকরা সতর্ক করেছেন, চীন এখনও কয়লাভিত্তিক বিদ্যুতে বড় বিনিয়োগ করছে। বর্তমান নীতি অব্যাহত থাকলে বৈশ্বিক তাপমাত্রা ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত বাড়ার ঝুঁকি রয়েছে।

এরপরও নবায়নযোগ্য জ্বালানির দ্রুত প্রসার এবং সবুজ প্রযুক্তিতে বিপুল বিনিয়োগের কারণে আগামী দশকে চীন কার্বন নিঃসরণ উল্লেখযোগ্যভাবে কমাতে পারবে বলে আশা করা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ভবিষ্যতের জলবায়ু রাজনীতি ও বৈশ্বিক শক্তির ভারসাম্যে চীনের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ হবে। তথ্যসূত্র : গার্ডিয়ান
 

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow