গ্রিনল্যান্ড নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রকে কড়া বার্তা ফ্রান্সের

গ্রিনল্যান্ডকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের আগ্রহ নিয়ে এবার প্রকাশ্যে সতর্কতা দিল ফ্রান্স। দেশটির প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁর প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তারা যুক্তরাষ্ট্রকে স্পষ্ট করে জানিয়ে দিয়েছেন, এই বিষয়ে কোনো একতরফা পদক্ষেপ নিলে তার প্রভাব ইউরোপের সঙ্গে সম্পর্কের ওপর পড়বে। ফ্রান্সের অর্থমন্ত্রী রোনাল্ড লেসকুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। গতকাল বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) ব্রিটিশ দৈনিক ফিন্যান্সিয়াল টাইমসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্টের সঙ্গে তার কথা হয়েছে। সে সময় তিনি গ্রিনল্যান্ড নিয়ে ইউরোপীয় ইউনিয়নের অবস্থান পরিষ্কারভাবে তুলে ধরেন। লেসকুরে বলেন, গ্রিনল্যান্ড দখলের চেষ্টা করলে ইউরোপীয় ইউনিয়ন সেটিকে গুরুতর সীমা লঙ্ঘন হিসেবে দেখবে। এমন কোনো উদ্যোগ নিলে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের মধ্যে বিদ্যমান অর্থনৈতিক সম্পর্ক বড় সংকটে পড়তে পারে বলেও তিনি সতর্ক করেন। ফ্রান্সের অর্থমন্ত্রী আরও বলেন, গ্রিনল্যান্ড একটি সার্বভৌম ভূখণ্ড এবং এটি ইউরোপীয় ইউনিয়নের অংশ। এই অঞ্চল নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের কোনো ধরনের উত্তেজনায় জড়ানো উচিত নয়। তিনি জানান, যদি যু

গ্রিনল্যান্ড নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রকে কড়া বার্তা ফ্রান্সের

গ্রিনল্যান্ডকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের আগ্রহ নিয়ে এবার প্রকাশ্যে সতর্কতা দিল ফ্রান্স। দেশটির প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁর প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তারা যুক্তরাষ্ট্রকে স্পষ্ট করে জানিয়ে দিয়েছেন, এই বিষয়ে কোনো একতরফা পদক্ষেপ নিলে তার প্রভাব ইউরোপের সঙ্গে সম্পর্কের ওপর পড়বে।

ফ্রান্সের অর্থমন্ত্রী রোনাল্ড লেসকুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। গতকাল বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) ব্রিটিশ দৈনিক ফিন্যান্সিয়াল টাইমসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্টের সঙ্গে তার কথা হয়েছে। সে সময় তিনি গ্রিনল্যান্ড নিয়ে ইউরোপীয় ইউনিয়নের অবস্থান পরিষ্কারভাবে তুলে ধরেন।

লেসকুরে বলেন, গ্রিনল্যান্ড দখলের চেষ্টা করলে ইউরোপীয় ইউনিয়ন সেটিকে গুরুতর সীমা লঙ্ঘন হিসেবে দেখবে। এমন কোনো উদ্যোগ নিলে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের মধ্যে বিদ্যমান অর্থনৈতিক সম্পর্ক বড় সংকটে পড়তে পারে বলেও তিনি সতর্ক করেন।

ফ্রান্সের অর্থমন্ত্রী আরও বলেন, গ্রিনল্যান্ড একটি সার্বভৌম ভূখণ্ড এবং এটি ইউরোপীয় ইউনিয়নের অংশ। এই অঞ্চল নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের কোনো ধরনের উত্তেজনায় জড়ানো উচিত নয়। তিনি জানান, যদি যুক্তরাষ্ট্র সব সতর্কতা উপেক্ষা করে গ্রিনল্যান্ডে সামরিক বা দখলমূলক পদক্ষেপ নেয়, তাহলে আন্তর্জাতিক ব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে এবং বিশ্ব পরিস্থিতি নতুন দিকে মোড় নিতে পারে।

গ্রিনল্যান্ড বিশ্বের সবচেয়ে বড় দ্বীপ। এর আয়তন প্রায় ২১ লাখ ৬৬ হাজার বর্গকিলোমিটার হলেও জনসংখ্যা মাত্র প্রায় ৫৬ হাজার। এই জনসংখ্যার বড় অংশ ইনুইট জনগোষ্ঠীর মানুষ। দ্বীপটি ভৌগোলিকভাবে উত্তর আমেরিকার কাছাকাছি হলেও এটি ডেনমার্কের অধীন একটি স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল। গ্রিনল্যান্ডের বাসিন্দারা ডেনমার্ক এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের নাগরিক হিসেবে বিবেচিত।

আর্কটিক ও আটলান্টিক মহাসাগরের মাঝামাঝি অবস্থানের কারণে গ্রিনল্যান্ডের বেশিরভাগ অংশ বছরের বড় সময় বরফে ঢাকা থাকে। তবে ভূতত্ত্ববিদদের মতে, দ্বীপটির ভেতরে জ্বালানি তেলসহ নানা ধরনের মূল্যবান খনিজসম্পদের সম্ভাবনা রয়েছে।

চলতি বছরের ২০ জানুয়ারি দ্বিতীয় মেয়াদে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই ডোনাল্ড ট্রাম্প গ্রিনল্যান্ডকে যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণে আনার বিষয়ে আগ্রহ প্রকাশ করে আসছেন। সর্বশেষ তিনি এ নিয়ে মন্তব্য করেন ১০ জানুয়ারি, ওয়াশিংটনে হোয়াইট হাউসে এক ব্রিফিংয়ে।

সেই বক্তব্যে ট্রাম্প বলেন, গ্রিনল্যান্ড যুক্তরাষ্ট্রের জন্য কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ। তার মতে, যুক্তরাষ্ট্র এগিয়ে না এলে চীন বা রাশিয়া সেখানে প্রভাব বিস্তার করতে পারে, যা তিনি যুক্তরাষ্ট্রের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ বলে মনে করেন।

সূত্র : এএফপি

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow