গ্রিস যাওয়ার পথে সুনামগঞ্জের পাঁচ যুবকের মৃত্যু

লিবিয়া থেকে নৌকায় করে গ্রিস যাওয়ার পথে সাগরে ভাসতে ভাসতে খাবার ও বিশুদ্ধ পানির অভাবে সুনামগঞ্জের পাঁচ যুবকের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। শনিবার (২৮ মার্চ) সন্ধ্যার পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এমন একটি ভিডিও ভাইরাল হয়। ভিডিওতে ভাগ্যক্রমে বেঁচে যাওয়া ওই যুবককে বলতে শোনা যায়, সাগর পথে তারা ৪৩ জন গ্রিসে রওয়ানা হয়েছিলেন। তাদের বড় বোটের কথা বলে ছোট হাওয়াই বোটে তুলে দেওয়া হয়। ওই বোটে পাঁচজন সুদানের নাগরিক ও অন্য ৩৮ জন বাংলাদেশি ছিলেন। এদের মধ্যে ১৮ জন মারা গেছেন। যাদের বাড়ি সুনামগঞ্জ ও সিলেটে। মারা যাওয়া যুবকদের মরদেহ দুদিন বোটে রাখা হয়েছিল। পরে পচে দুর্গন্ধ বের হলে সাগরে ফেলা দেওয়া হয়। নিহতরা হলেন, সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলার কুলঞ্জ ইউনিয়নের তারপাশা গ্রামের আবু সর্দারের ছেলে মো. নুরুজ্জামান সর্দার ময়না (৩২), মৃত কারি ইসলাম উদ্দিনের ছেলে মো. সাহান এহিয়া (২২), আব্দুল গণির ছেলে মো. সাজিদুর রহমান (২৬), রাজানগর ইউনিয়নের রনারচর গ্রামের মৃত আব্দুল মালেকের ছেলে মুজিবুর রহমান (৪০) ও করিমপুর ইউনিয়নের মাটিয়াপুর গ্রামের মো. আনোয়ার হোসেনের ছেলে মো. তারেক মিয়া (২৪)। নিহত মো. সাহান এহিয়ার বড় ভাই জাকারিয়া বলেন, ‘

গ্রিস যাওয়ার পথে সুনামগঞ্জের পাঁচ যুবকের মৃত্যু

লিবিয়া থেকে নৌকায় করে গ্রিস যাওয়ার পথে সাগরে ভাসতে ভাসতে খাবার ও বিশুদ্ধ পানির অভাবে সুনামগঞ্জের পাঁচ যুবকের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। শনিবার (২৮ মার্চ) সন্ধ্যার পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এমন একটি ভিডিও ভাইরাল হয়।

ভিডিওতে ভাগ্যক্রমে বেঁচে যাওয়া ওই যুবককে বলতে শোনা যায়, সাগর পথে তারা ৪৩ জন গ্রিসে রওয়ানা হয়েছিলেন। তাদের বড় বোটের কথা বলে ছোট হাওয়াই বোটে তুলে দেওয়া হয়। ওই বোটে পাঁচজন সুদানের নাগরিক ও অন্য ৩৮ জন বাংলাদেশি ছিলেন। এদের মধ্যে ১৮ জন মারা গেছেন। যাদের বাড়ি সুনামগঞ্জ ও সিলেটে। মারা যাওয়া যুবকদের মরদেহ দুদিন বোটে রাখা হয়েছিল। পরে পচে দুর্গন্ধ বের হলে সাগরে ফেলা দেওয়া হয়।

নিহতরা হলেন, সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলার কুলঞ্জ ইউনিয়নের তারপাশা গ্রামের আবু সর্দারের ছেলে মো. নুরুজ্জামান সর্দার ময়না (৩২), মৃত কারি ইসলাম উদ্দিনের ছেলে মো. সাহান এহিয়া (২২), আব্দুল গণির ছেলে মো. সাজিদুর রহমান (২৬), রাজানগর ইউনিয়নের রনারচর গ্রামের মৃত আব্দুল মালেকের ছেলে মুজিবুর রহমান (৪০) ও করিমপুর ইউনিয়নের মাটিয়াপুর গ্রামের মো. আনোয়ার হোসেনের ছেলে মো. তারেক মিয়া (২৪)।

নিহত মো. সাহান এহিয়ার বড় ভাই জাকারিয়া বলেন, ‘১২ লাখ টাকায় চুক্তিতে গত মাসে বাড়ি থেকে রওয়ানা হয় সাহান। প্রথমে তাদের ঢাকা থেকে বিমানে সৌদি আরব, পরে মিশর থেকে লিবিয়া নেওয়া হয়। সেখানে নেওয়ার পর অর্ধেক টাকা পরিশোধ করা হয়। কয়েক দিন তাদের কোনো খবর পাওয়া যাচ্ছিল না। আজ বিকেলে আমার চাচাতো ভাই রুহান গ্রিস থেকে জানিয়েছে সাহানসহ দিরাইয়ের চারজন মারা গেছেন।’

দিরাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এনামুল হক চৌধুরী বলেন, ‘সন্ধ্যার পর বিষয়টি আমাদের নজরে এসেছে। খোঁজ-খবর নিচ্ছি। এখন পর্যন্ত আমাদের কাছে কেউ কোনো অভিযোগ করেননি। স্বজনদের সঙ্গে যোগাযোগ করে আমরা কথা বলার চেষ্টা করছি।’

এ বিষয়ে দিরাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সনজীব সরকার বলেন, ‘সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকের মাধ্যমে জানতে পেরেছি দিরাইয়ের চারজন যুবক লিবিয়া থেকে গ্রিসে যাওয়ার পথে সাগরে মারা গেছেন। বিষয়টি খুবই কষ্টকর ও মর্মান্তিক। মৃত্যুর সত্যতা যাচাই করা হচ্ছে।’

লিপসন আহমেদ/আরএইচ/এমএস

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow