গ্লাসগো ২০২৬: বাংলাদেশের সামনে কি তবে 'শূন্য' পদকের শঙ্কা?

মাসউদুর রহমান, নিজস্ব প্রতিবেদক: ২০২৬ সালের গ্লাসগো কমনওয়েলথ গেমস যখন শুরু হবে, বাংলাদেশের ক্রীড়াপ্রেমীদের জন্য তা হয়তো গত কয়েক দশকের মধ্যে সবচেয়ে নিরুত্তাপ এক আসর হতে যাচ্ছে। যে ইভেন্টগুলো বাংলাদেশের পদক জয়ের প্রধান আশা ছিল, খরচ কমানোর দোহাই দিয়ে গ্লাসগোর সংক্ষিপ্ত তালিকা থেকে সেগুলোর প্রায় সবই ছেঁটে ফেলা হয়েছে। ফলে আসন্ন এই 'মিনি' কমনওয়েলথ গেমসে বাংলাদেশের অ্যাথলেটদের জন্য লড়াইটা এখন কেবল টিকে থাকার। শ্যুটিং ও ক্রিকেটের বিদায় বড় ধাক্কা বাংলাদেশের জন্য। কমনওয়েলথ গেমসের ইতিহাসে বাংলাদেশের প্রাপ্তি খুব বেশি নয়। এ পর্যন্ত লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা মোট ৮টি পদক জিতেছে, যার সবকটিই এসেছে শ্যুটিং থেকে। অথচ গত আসরের মতো এবারও শ্যুটিংকে তালিকার বাইরে রাখা হয়েছে। পাশাপাশি, বাংলাদেশের জন্য পদকের আরেকটি বড় আশা ছিল ক্রিকেট। ২০২২ সালের বার্মিংহাম আসরে নারী ক্রিকেটে বাংলাদেশ অংশ না নিলেও, সাম্প্রতিক সময়ে টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে বাংলাদেশের উন্নতি পদকের স্বপ্ন দেখাচ্ছিল। কিন্তু গ্লাসগো থেকে ক্রিকেট বাদ পড়ায় সেই সম্ভাবনাও বিনষ্ট হলো। যেখানে টিকে আছে ক্ষীণ আশা ১০টি ডিসিপ্লিনের মধ্যে বাংলাদেশের অ্যাথলেটরা এখ

গ্লাসগো ২০২৬: বাংলাদেশের সামনে কি তবে 'শূন্য' পদকের শঙ্কা?

মাসউদুর রহমান, নিজস্ব প্রতিবেদক: ২০২৬ সালের গ্লাসগো কমনওয়েলথ গেমস যখন শুরু হবে, বাংলাদেশের ক্রীড়াপ্রেমীদের জন্য তা হয়তো গত কয়েক দশকের মধ্যে সবচেয়ে নিরুত্তাপ এক আসর হতে যাচ্ছে। যে ইভেন্টগুলো বাংলাদেশের পদক জয়ের প্রধান আশা ছিল, খরচ কমানোর দোহাই দিয়ে গ্লাসগোর সংক্ষিপ্ত তালিকা থেকে সেগুলোর প্রায় সবই ছেঁটে ফেলা হয়েছে। ফলে আসন্ন এই 'মিনি' কমনওয়েলথ গেমসে বাংলাদেশের অ্যাথলেটদের জন্য লড়াইটা এখন কেবল টিকে থাকার।

শ্যুটিং ও ক্রিকেটের বিদায় বড় ধাক্কা বাংলাদেশের জন্য। কমনওয়েলথ গেমসের ইতিহাসে বাংলাদেশের প্রাপ্তি খুব বেশি নয়। এ পর্যন্ত লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা মোট ৮টি পদক জিতেছে, যার সবকটিই এসেছে শ্যুটিং থেকে। অথচ গত আসরের মতো এবারও শ্যুটিংকে তালিকার বাইরে রাখা হয়েছে।

পাশাপাশি, বাংলাদেশের জন্য পদকের আরেকটি বড় আশা ছিল ক্রিকেট। ২০২২ সালের বার্মিংহাম আসরে নারী ক্রিকেটে বাংলাদেশ অংশ না নিলেও, সাম্প্রতিক সময়ে টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে বাংলাদেশের উন্নতি পদকের স্বপ্ন দেখাচ্ছিল। কিন্তু গ্লাসগো থেকে ক্রিকেট বাদ পড়ায় সেই সম্ভাবনাও বিনষ্ট হলো। যেখানে টিকে আছে ক্ষীণ আশা ১০টি ডিসিপ্লিনের মধ্যে বাংলাদেশের অ্যাথলেটরা এখন মূলত তিনটি ইভেন্টের ওপর নির্ভর করছেন।

১. ভারোত্তোলন: কমনওয়েলথ গেমসে শ্যুটিংয়ের পর বাংলাদেশের সবচেয়ে ধারাবাহিক পারফরম্যান্স আসে ভারোত্তোলন থেকে। মাবিয়া আক্তার সীমান্ত বা নতুন প্রজন্মের ভারোত্তোলকরা যদি অলৌকিক কিছু ঘটাতে পারেন, তবেই পদকের মুখ দেখা সম্ভব।

২. অ্যাথলেটিক্স: দ্রুততম মানব ইমরানুর রহমানের হাত ধরে ১০০ মিটার স্প্রিন্টে বাংলাদেশ কিছুটা স্বপ্ন দেখছে। যদিও বিশ্বমানের অ্যাথলেটদের ভিড়ে পদক জেতা অত্যন্ত কঠিন, তবে হিটে ভালো করা বা ফাইনালে ওঠা হবে বাংলাদেশের জন্য বড় অর্জন।

৩. বক্সিং: গ্লাসগোতে বক্সিং ইভেন্টটি রাখা হয়েছে। বাংলাদেশের বক্সাররা যদি উন্নত প্রশিক্ষণ পায়, তবে এই বিভাগ থেকে চমক আসার একটি ক্ষীণ সম্ভাবনা থাকে।

বাংলাদেশের পদক যাত্রা ও বর্তমান বাস্তবতা বিষয় তথ্য ও পরিস্থিতি অর্জিত মোট পদক ৮টি (২টি সোনা, ৪টি রুপা, ২টি ব্রোঞ্জ)পদক জয়ের একমাত্র উৎস শ্যুটিং (যা এবার বাদ) সর্বশেষ সাফল্য ২০১৮ সালে শ্যুটিংয়ে রুপা জয় বর্তমান আশার ক্ষেত্র ভারোত্তোলন, অ্যাথলেটিক্স ও বক্সিং।

বিদেশে প্রশিক্ষণ বনাম দেশি প্রস্তুতিক্রীড়া বিশ্লেষকদের মতে, শ্যুটিং ও ক্রিকেট না থাকায় বাংলাদেশের মনোযোগ এখন অন্য খেলাগুলোতে বাড়ানো উচিত। বিশেষ করে ৩x৩ বাস্কেটবল বা জিমন্যাস্টিকসের মতো খেলায় বিদেশের কোচ এনে দীর্ঘমেয়াদী প্রস্তুতি না নিলে গ্লাসগো থেকে খালি হাতে ফেরার প্রবল ঝুঁকি রয়েছে।

গ্লাসগো ২০২৬ বাংলাদেশের জন্য এক বড় অগ্নিপরীক্ষা। আমাদের চিরচেনা পদক জয়ের ক্ষেত্রগুলো যখন বন্ধ, তখন নতুন কোনো ইভেন্টে নিজেদের জাত চেনানোর এটাই সেরা সময়। তবে বাস্তবতা বলছে, যদি অলৌকিক কোনো সাফল্য না আসে, তবে ২০২৬ সাল হতে পারে বাংলাদেশের জন্য সবচেয়ে হতাশাজনক এক আসর।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow