ঘরে প্রথম স্ত্রী রেখে দ্বিতীয় বিয়ে করতে গিয়ে অবরুদ্ধ ছাত্রদল নেতা

প্রথম বিয়ের তথ্য গোপন রেখে দ্বিতীয় বিয়ে করতে গিয়ে কনের বাড়িতে অবরুদ্ধ হওয়া এবং পরবর্তীতে ৫ লাখ টাকা পরিশোধ করে মুক্তি পাওয়ার অভিযোগ উঠেছে নেত্রকোণার মদন উপজেলার এক ছাত্রদল নেতার বিরুদ্ধে। এ ঘটনার পর প্রথম স্ত্রীর বাড়িতে হামলার ঘটনাও ঘটেছে, এতে একজন আহত হয়েছেন। চাঞ্চল্যকর এই ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। অভিযুক্ত সাব্বির আহমেদ সাদান মদন উপজেলার তিয়শ্রী ইউনিয়ন ছাত্রদলের সভাপতি এবং উপজেলা বিএনপির সহ-সভাপতি আসাদুজ্জামান আজাদের ছেলে। তিনি উপজেলার বাঘমারা গ্রামের বাসিন্দা। স্থানীয় ও পরিবার সূত্রে জানা গেছে, সাব্বির আহমেদ সাদান ২০২২ সালে প্রতিবেশী ধনাই মিয়ার মেয়ে আইমনা আক্তারকে গোপনে বিয়ে করেন এবং এরপর থেকে তারা গোপনে সংসার করে আসছিলেন। তবে প্রথম বিয়ের বিষয়টি সম্পূর্ণ গোপন রেখে সম্প্রতি কেন্দুয়া উপজেলার পাইকুড়া ইউনিয়নের কৃষকদল নেতা শাহজাহান মিয়ার কলেজপড়ুয়া মেয়ের সঙ্গে সাদানের বিয়ের আয়োজন করা হয়। পূর্বনির্ধারিত সূচি অনুযায়ী, গত শুক্রবার (১২ জুন) বরযাত্রী নিয়ে কেন্দুয়ায় কনের বাড়িতে যান সাদান। বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা চলাকালীন প্রথম স্ত্রী আইমনা আক্তার কনে পক্ষকে তাদের বিয়ের বিষয়টি প্রম

ঘরে প্রথম স্ত্রী রেখে দ্বিতীয় বিয়ে করতে গিয়ে অবরুদ্ধ ছাত্রদল নেতা

প্রথম বিয়ের তথ্য গোপন রেখে দ্বিতীয় বিয়ে করতে গিয়ে কনের বাড়িতে অবরুদ্ধ হওয়া এবং পরবর্তীতে ৫ লাখ টাকা পরিশোধ করে মুক্তি পাওয়ার অভিযোগ উঠেছে নেত্রকোণার মদন উপজেলার এক ছাত্রদল নেতার বিরুদ্ধে। এ ঘটনার পর প্রথম স্ত্রীর বাড়িতে হামলার ঘটনাও ঘটেছে, এতে একজন আহত হয়েছেন। চাঞ্চল্যকর এই ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

অভিযুক্ত সাব্বির আহমেদ সাদান মদন উপজেলার তিয়শ্রী ইউনিয়ন ছাত্রদলের সভাপতি এবং উপজেলা বিএনপির সহ-সভাপতি আসাদুজ্জামান আজাদের ছেলে। তিনি উপজেলার বাঘমারা গ্রামের বাসিন্দা।

স্থানীয় ও পরিবার সূত্রে জানা গেছে, সাব্বির আহমেদ সাদান ২০২২ সালে প্রতিবেশী ধনাই মিয়ার মেয়ে আইমনা আক্তারকে গোপনে বিয়ে করেন এবং এরপর থেকে তারা গোপনে সংসার করে আসছিলেন। তবে প্রথম বিয়ের বিষয়টি সম্পূর্ণ গোপন রেখে সম্প্রতি কেন্দুয়া উপজেলার পাইকুড়া ইউনিয়নের কৃষকদল নেতা শাহজাহান মিয়ার কলেজপড়ুয়া মেয়ের সঙ্গে সাদানের বিয়ের আয়োজন করা হয়।

পূর্বনির্ধারিত সূচি অনুযায়ী, গত শুক্রবার (১২ জুন) বরযাত্রী নিয়ে কেন্দুয়ায় কনের বাড়িতে যান সাদান। বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা চলাকালীন প্রথম স্ত্রী আইমনা আক্তার কনে পক্ষকে তাদের বিয়ের বিষয়টি প্রমাণসহ জানিয়ে দেন। এই খবর জানাজানি হলে কনের পরিবারের লোকজন ও স্থানীয় বাসিন্দারা ক্ষুব্ধ হয়ে বর সাদানসহ বরপক্ষকে আটকে রাখেন। পরে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে উভয় পক্ষের মধ্যে দীর্ঘ বৈঠক শেষে ৫ লাখ টাকা পরিশোধের শর্তে বরপক্ষ মুক্তি পায় বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।

এদিকে, কনের বাড়ি থেকে ফিরে শনিবার সকালে প্রথম স্ত্রী আইমনা আক্তারের বাড়িতে সাদান ও তার সমর্থকেরা হামলা চালায় বলে অভিযোগ উঠেছে। হামলায় আইমনার বড় বোন সুমনা আক্তার আহত হন। তাকে উদ্ধার করে মদন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে আইমনার পরিবার জাতীয় জরুরি সেবা ‘৯৯৯’-এ কল করলে মদন থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

কনের বাবা ও পাইকুড়া ইউনিয়ন কৃষকদলের সভাপতি শাহজাহান মিয়া বলেন, ছেলেটি যে আগে আরেকটি বিয়ে করেছে, তা আমাদের জানা ছিল না। বিয়ের আসরে বিষয়টি জানতে পেরে আমরা স্তম্ভিত হয়ে যাই। সব জেনেশুনে আমি আমার মেয়েকে একজন বিবাহিত ছেলের কাছে বিয়ে দিতে পারি না, তাই বিয়ে ভেঙে দেওয়া হয়েছে।

তবে ৫ লাখ টাকা জরিমানা আদায়ের গুঞ্জনের বিষয়ে তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

অভিযুক্তের বাবা বিএনপি নেতা আসাদুজ্জামান আজাদ বলেন, আমার ছেলে যে আগে বিয়ে করেছিল, সেই তথ্য আমাদের পরিবারকেও জানায়নি। বিষয়টি আগে জানা থাকলে কেন্দুয়ায় গিয়ে আমাদের এমন বিব্রতকর পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হতো না।

মদন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (তদন্ত) অসীম কুমার দাস ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, ৯৯৯ নম্বর থেকে কল পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করে। বিয়ে সংক্রান্ত এই বিরোধের জেরে এক নারী আহত হওয়ার খবর পেয়েছি। এই বিষয়ে ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। 

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow