চটকদার বিজ্ঞাপন দেখে অনলাইন জুয়ার ফাঁদে তরুণরা
বোনাস ও লাভের প্রলোভন, পরে ঘটে আসক্তি অনলাইন জুয়ার বিরুদ্ধে চলছে অভিযান সাইবার মনিটরিংয়ের মাধ্যমে জুয়ার চক্র শনাক্ত অনলাইন জুয়া সামাজিক-পারিবারিক সংকট বাড়াচ্ছে জুয়ার ওয়েবসাইট-বিজ্ঞাপন বন্ধ জরুরি অভিভাবকদের সচেতন হওয়ার তাগিদ ‘মোবাইলটা হাতে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঢুকলে প্রায়ই জুয়ার বিজ্ঞাপন সামনে আসতো। কৌতূহল থেকেই বিজ্ঞাপনে ক্লিক করি। পরে একটি ওয়েবসাইটে গিয়ে বিভিন্ন তথ্য দিয়ে রেজিস্ট্রেশন করি। বোনাস টাকাও দেয়। সেই টাকার লোভে খেলা শুরু। প্রথমদিকে বেশ লাভ হতো। এরপর ধীরে ধীরে অবসর সময় পেলেই খেলতে ইচ্ছে করে। আর এখন শত চেষ্টা করেও বের হতে পারি না। লোকসান হলেও নেশায় বুঁদ হয়ে থাকি।’ কথাগুলো বলছিলেন অনলাইন জুয়ায় আসক্ত এক যুবক। তার সঙ্গে কথা হয় রাজধানীর আগারগাঁও ৬০ ফিট ভাঙা ব্রিজ এলাকার একটি চায়ের দোকানে। তখনও খেলায় মগ্ন তিনি। কথার ফাঁকে অনলাইন জুয়ায় আসক্তির কথা জানালেও নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এই যুবক বলেন, ‘আমার মতো অনেকেই আছে এরকম।’ অনলাইনে জুয়া খেলা এক ব্যক্তি নাম প্রকাশ না করার শর্তে জাগো নিউজকে জানান, বেসরকারি একটা প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেন তিনি। মাঝেমধ্যে ফ্রি সময়ে খেলে সময় কাটান। সাধারণত
- বোনাস ও লাভের প্রলোভন, পরে ঘটে আসক্তি
- অনলাইন জুয়ার বিরুদ্ধে চলছে অভিযান
- সাইবার মনিটরিংয়ের মাধ্যমে জুয়ার চক্র শনাক্ত
- অনলাইন জুয়া সামাজিক-পারিবারিক সংকট বাড়াচ্ছে
- জুয়ার ওয়েবসাইট-বিজ্ঞাপন বন্ধ জরুরি
- অভিভাবকদের সচেতন হওয়ার তাগিদ
‘মোবাইলটা হাতে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঢুকলে প্রায়ই জুয়ার বিজ্ঞাপন সামনে আসতো। কৌতূহল থেকেই বিজ্ঞাপনে ক্লিক করি। পরে একটি ওয়েবসাইটে গিয়ে বিভিন্ন তথ্য দিয়ে রেজিস্ট্রেশন করি। বোনাস টাকাও দেয়। সেই টাকার লোভে খেলা শুরু। প্রথমদিকে বেশ লাভ হতো। এরপর ধীরে ধীরে অবসর সময় পেলেই খেলতে ইচ্ছে করে। আর এখন শত চেষ্টা করেও বের হতে পারি না। লোকসান হলেও নেশায় বুঁদ হয়ে থাকি।’
কথাগুলো বলছিলেন অনলাইন জুয়ায় আসক্ত এক যুবক। তার সঙ্গে কথা হয় রাজধানীর আগারগাঁও ৬০ ফিট ভাঙা ব্রিজ এলাকার একটি চায়ের দোকানে। তখনও খেলায় মগ্ন তিনি।
কথার ফাঁকে অনলাইন জুয়ায় আসক্তির কথা জানালেও নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এই যুবক বলেন, ‘আমার মতো অনেকেই আছে এরকম।’
অনলাইনে জুয়া খেলা এক ব্যক্তি নাম প্রকাশ না করার শর্তে জাগো নিউজকে জানান, বেসরকারি একটা প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেন তিনি। মাঝেমধ্যে ফ্রি সময়ে খেলে সময় কাটান। সাধারণত কাজের চাপে থাকলে খেলা হয় না।
খেলা শুরুর প্রক্রিয়া সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ফেসবুকে এক বন্ধুর পাঠানো লিংক থেকে খেলা শুরু। লিংকের মাধ্যমে রেজিস্ট্রেশন করে ৩০০ টাকার মতো বোনাস দিয়েছিলো। সেই বোনাস থেকেই খেলা শুরু।
চলছে ডিএমপির সাঁড়াশি অভিযান
গত ২৭ এপ্রিল জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ জুয়া, অনলাইন জুয়া ও মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স ঘোষণা করেন। সেই সঙ্গে সারাদেশে সমন্বিত অভিযান পরিচালনার কথা বলেন তিনি।
সম্প্রতি অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়, ছবি: সংগৃহীত
সম্প্রতি অনলাইন জুয়াড়িদের বিরুদ্ধে অভিযান শুরু করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)। গত ১ মে থেকে চাঁদাবাজ-মাদক কারবারি-সন্ত্রাসী ও অনলাইন জুয়াড়ি এই চার শ্রেণির অপরাধীদের বিরুদ্ধে সাঁড়াশি অভিযান শুরু হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী, দেশব্যাপী আইনশৃঙ্খলার উন্নয়ন এবং অপরাধ দমনের অংশ হিসেবে একটি সমন্বিত নিরাপত্তা কৌশল নেওয়া হয়েছে। এছাড়া গোয়েন্দা ইউনিট (ডিবি), বাংলাদেশ পুলিশের বিশেষায়িত ইউনিটের (সিসিটিসি) সাদা পোশাকের সদস্যরা, সাইবার মনিটরিং টিম এবং আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তির মাধ্যমে অপরাধীদের গতিবিধি নজরদারিতে রাখা হচ্ছে। অনলাইন জুয়া, প্রতারণা এবং অপরাধীদের শনাক্তে প্রযুক্তিভিত্তিক তদন্ত জোরদার করা হয়েছে।
আরও পড়ুন
অনলাইন জুয়ায় ডুবে নিঃস্ব তরুণ প্রজন্ম
শহর থেকে গ্রামে অনলাইন জুয়ার বেপরোয়া ফাঁদ
সর্বস্বান্ত করছে অনলাইন জুয়া
ডিএমপির গোয়েন্দা বিভাগের (ডিবি) দক্ষিণ ডিভিশনের সাইবার অ্যান্ড স্পেশাল ক্রাইমের উপকমিশনার (ডিসি) তরিকুল ইসলাম জাগো নিউজকে বলেন, অনেকেই অনলাইনে বিভিন্নভাবে প্রলোভনে পড়ে প্রতারিত হয়। এরপর দুটো ঘটনা ঘটে। একটা হচ্ছে হয় ভুক্তভোগী থানায় গিয়ে জিডি করেন অথবা মামলা করেন। সংশ্লিষ্ট থানা থেকে এটা আমাদের কাছে চলে আসে। আমাদের তদন্তের মাধ্যমে অপরাধীদের ফাইন্ড আউট করে, পরবর্তী যেসব লিগ্যাল প্রসিকিউর আছে সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হয়। আর এটার বাইরে আমরা আরেকটা কাজ করি। আমরা নিজেরাও কিছু সাইবার পেট্রোলিং, সাইবার মনিটরিংয়ের কাজ করি। এগুলোর মাধ্যমে অনেক লোক আমাদের বিভিন্নভাবে তথ্য দেয় যে, এমন একটা পেজ থেকে বা জায়গা থেকে এভাবে কাজ চলছে। পরে সেগুলো আমরা মনিটর করে-অ্যানালাইসিস করে অপরাধীদের শনাক্ত করে গ্রেফতার করি।
আরও পড়ুন
রূপগঞ্জে রমরমা অনলাইন জুয়া
অনলাইন জুয়ায় এক হাজার মোবাইল ব্যাংকিং এজেন্ট
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিজ্ঞাপন নিয়ন্ত্রণ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এই সক্ষমতা শুধু বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) হাতে। তিনি বলেন, সরকারের বিভিন্ন এজেন্সির সঙ্গে যেসব মিটিং হয় আমরা এগুলো উপস্থাপন করি। কিন্তু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিজ্ঞাপন নিয়ন্ত্রণে আমাদের কাছে কোনো টুল নেই। টুল আছে বিটিআরসি ও আইসিটি মন্ত্রণালয়ের কাছে। আর রেগুলেটর অথরিটি হিসেবে যে ইলিগ্যাল ফাইন্যান্সিয়াল ট্রানজেকশনগুলো হচ্ছে সেগুলা মনিটর করার জন্য আছে বাংলাদেশ ব্যাংক।
ডিএমপির গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) প্রধান অতিরিক্ত কমিশনার শফিকুল ইসলাম জাগো নিউজকে বলেন, আমরা অপরাধ কর্মকাণ্ড নিয়ে কাজ করছি। কেউ যদি জুয়ার নেশায় আসক্ত হয় তাহলে তার বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হয়। অপরাধীর অপরাধের ধরনের ওপর আমরা ব্যবস্থা নিচ্ছি।
আরও পড়ুন
মিরপুর এলাকায় বিশেষ অভিযানে গ্রেফতার ১৫৩
সিটিটিসির অভিযানে চাঁদাবাজ ও মাদক কারবারিসহ গ্রেফতার ৩
পারিবারিক বিচ্ছেদ, চুরি, ছিনতাই বাড়ছে
মানবাধিকার সংস্কৃতি ফাউন্ডেশনের (এমএসএফ) প্রধান নির্বাহী অ্যাডভোকেট সাইদুর রহমান জাগো নিউজকে বলেন, অনলাইন জুয়া বাংলাদেশের মানুষ ও সমাজ ব্যবস্থার জন্য একটি অসহনীয় সমস্যা। পরিবারের মধ্যে বিচ্ছেদ, চুরি, ছিনতাই বেড়ে যাচ্ছে, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবনতি হচ্ছে এ ধরনের অপরাধ থেকে। বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার আগেই প্রায়োরিটি ছিল মাদক ও জুয়া নির্মূলে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীও বলেছেন ১ মে থেকে অনলাইন জুয়ার বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। এটা এখনও দৃশ্যমান না।
স্মার্টফোন-সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ
অপ্রাপ্তবয়সীদের স্মার্টফোন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার নিয়ন্ত্রণসহ বেশকিছু পরামর্শ নিয়ে কাজ করে সাইবার ক্রাইম অ্যাওয়ারনেস ফাউন্ডেশন। সংগঠনটির সভাপতি কাজী মুস্তাফিজ বলেন, অনলাইন জুয়ার ভয়াবহতা থেকে দেশকে বাঁচাতে হলে সরকারি সংস্থাগুলোকে সার্বক্ষণিক মনিটরিং করা, জুয়ার সব ধরনের ওয়েবসাইট, বিজ্ঞাপন, কনটেন্ট, অ্যাপস বন্ধ বা ব্লক করা ও জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। এছাড়া ১৮ বছরের কম বয়সীদের শিক্ষার প্রয়োজন ছাড়া ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ করা দরকার। একই সঙ্গে অভিভাবকদের উচিত সন্তানদের ইন্টারনেট ব্যবহারে নজরদারিতে রাখা এবং ক্ষতিকর বিষয়গুলো নিয়ে খোলামেলা আলোচনা করা।
কেআর/এসএনআর/এমএফএ
What's Your Reaction?