চট্টগ্রাম-৯ আসনে জামায়াত প্রার্থীর মনোনয়নপত্র অবৈধ ঘোষণা

দ্বৈত নাগরিকত্ব সংক্রান্ত জটিলতায় চট্টগ্রাম-৯ (কোতোয়ালি–বাকলিয়া) আসনে জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী ডা. এ কে এম ফজলুল হকের মনোনয়নপত্র বাতিল ঘোষণা করা হয়েছে। রোববার (৪ জানুয়ারি) চট্টগ্রামে মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই শেষে রিটার্নিং কর্মকর্তা ও চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার মো. জিয়াউদ্দীন এ সিদ্ধান্তের কথা জানান। রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ডা. এ কে এম ফজলুল হক তার মনোনয়নপত্রের সঙ্গে দাখিল করা হলফনামায় নিজেকে যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক নাগরিক হিসেবে উল্লেখ করেন এবং গত ২৮ ডিসেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব ত্যাগ করেছেন বলে দাবি করেন। তবে মনোনয়নপত্র বাছাইয়ের সময় নাগরিকত্ব ত্যাগের পক্ষে কোনো সরকারি নথি বা প্রত্যয়নপত্র উপস্থাপন করতে পারেননি তিনি। রিটার্নিং কর্মকর্তা কার্যালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়, শুধু হলফনামায় নাগরিকত্ব ত্যাগের কথা উল্লেখ করলেই তা গ্রহণযোগ্য নয়। আইন অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট দেশের সরকার কর্তৃক ইস্যুকৃত নাগরিকত্ব ত্যাগের চূড়ান্ত প্রমাণ দাখিল করা বাধ্যতামূলক। এ ধরনের কোনো নথি না থাকায় তার মনোনয়নপত্র বাতিল ঘোষণা করা হয়েছে। মনোনয়নপত্র বাছাইয়ের সময় উপস্থিত থাকা ডা. এ কে এম ফজলু

চট্টগ্রাম-৯ আসনে জামায়াত প্রার্থীর মনোনয়নপত্র অবৈধ ঘোষণা

দ্বৈত নাগরিকত্ব সংক্রান্ত জটিলতায় চট্টগ্রাম-৯ (কোতোয়ালি–বাকলিয়া) আসনে জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী ডা. এ কে এম ফজলুল হকের মনোনয়নপত্র বাতিল ঘোষণা করা হয়েছে। রোববার (৪ জানুয়ারি) চট্টগ্রামে মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই শেষে রিটার্নিং কর্মকর্তা ও চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার মো. জিয়াউদ্দীন এ সিদ্ধান্তের কথা জানান।

রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ডা. এ কে এম ফজলুল হক তার মনোনয়নপত্রের সঙ্গে দাখিল করা হলফনামায় নিজেকে যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক নাগরিক হিসেবে উল্লেখ করেন এবং গত ২৮ ডিসেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব ত্যাগ করেছেন বলে দাবি করেন। তবে মনোনয়নপত্র বাছাইয়ের সময় নাগরিকত্ব ত্যাগের পক্ষে কোনো সরকারি নথি বা প্রত্যয়নপত্র উপস্থাপন করতে পারেননি তিনি।

রিটার্নিং কর্মকর্তা কার্যালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়, শুধু হলফনামায় নাগরিকত্ব ত্যাগের কথা উল্লেখ করলেই তা গ্রহণযোগ্য নয়। আইন অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট দেশের সরকার কর্তৃক ইস্যুকৃত নাগরিকত্ব ত্যাগের চূড়ান্ত প্রমাণ দাখিল করা বাধ্যতামূলক। এ ধরনের কোনো নথি না থাকায় তার মনোনয়নপত্র বাতিল ঘোষণা করা হয়েছে।

মনোনয়নপত্র বাছাইয়ের সময় উপস্থিত থাকা ডা. এ কে এম ফজলুল হক দাবি করেন, তিনি যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব ত্যাগের জন্য আবেদন করেছেন এবং বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন। আগামীকাল সোমবার এ বিষয়ে শুনানি রয়েছে উল্লেখ করে তিনি তার প্রার্থিতা বহাল রাখার আবেদন জানান। তবে রিটার্নিং কর্মকর্তা জানান, আবেদন প্রক্রিয়াধীন থাকা মানেই নাগরিকত্ব ত্যাগ সম্পন্ন হয়েছে— এমনটি ধরে নেওয়ার সুযোগ নেই।

চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার মো. জিয়াউদ্দীন বলেন, এই মুহূর্তে প্রার্থীর ক্ষেত্রে দ্বৈত নাগরিকত্ব বহাল রয়েছে। আইন অনুযায়ী বিদেশি নাগরিকত্ব ত্যাগের বৈধ নথি ছাড়া মনোনয়ন বৈধ রাখা সম্ভব নয়। তবে তিনি চাইলে নির্বাচন কমিশনে আপিল করতে পারবেন।

নির্বাচন কমিশনের সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, রোববার চট্টগ্রামে অনুষ্ঠিত মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাইয়ের দিনেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়ায় প্রার্থীদের দাখিলকৃত হলফনামা, পাসপোর্ট সংক্রান্ত তথ্য এবং নাগরিকত্ব সংক্রান্ত নথি বিশেষভাবে পর্যালোচনা করা হয়।

এর আগে নির্বাচন কমিশনে দাখিল করা হলফনামায় ডা. এ কে এম ফজলুল হকের বিদেশে অবস্থান, পেশা, আয় ও ঠিকানা সংক্রান্ত তথ্য উল্লেখ থাকলেও নাগরিকত্ব ত্যাগের বিষয়ে সুস্পষ্ট নথি সংযুক্ত না থাকায় বিষয়টি শুরু থেকেই প্রশ্নের মুখে পড়ে। 

এদিকে একই আসনে বিএনপির প্রার্থী আবু সুফিয়ানের মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই শেষে বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে বলে রিটার্নিং কর্মকর্তা কার্যালয় সূত্রে নিশ্চিত করা হয়েছে।

জামায়াতের মনোনীত প্রার্থী ডা. এ কে এম ফজলুল হক বলেন, আমার নাগরিকত্ব সংক্রান্ত বিষয়টি সম্পূর্ণ আইনি প্রক্রিয়ার মধ্যে রয়েছে। আমি নাগরিকত্ব ত্যাগের জন্য প্রয়োজনীয় আবেদন করেছি এবং এ সংক্রান্ত নথি সংগ্রহের প্রক্রিয়াও চলমান। রিটার্নিং কর্মকর্তার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আমি নির্বাচন কমিশনে আপিল করব এবং আশা করছি, ন্যায়বিচার পাব।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow