চট্টগ্রামে গণিত-ইংরেজিতে ফেল ৪৫ হাজারের বেশি শিক্ষার্থী

চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডে বেশিরভাগ বিষয়ে পাসের হার ৯০ শতাংশের ওপরে। অথচ গণিত ও ইংরেজিতে পাসের হার নেমে এসেছে ৮০ শতাংশের ঘরে। বিষয়ভিত্তিক ফলাফলে এমন বৈপরীত্যই চট্টগ্রাম বোর্ডের এবারের এসএসসির ফলে বড় দুর্বলতা হিসেবে সামনে এসেছে।  শুধু গণিতেই অকৃতকার্য হয়েছে ২৪ হাজার ১১ জন, যা পরীক্ষার্থীদের ১৮ দশমিক ৪৭ শতাংশ। ইংরেজি প্রথম পত্রে ফেল করেছে ২১ হাজার ৬১১ জন, অর্থাৎ ১৬ দশমিক ৭৬ শতাংশ। দুই বিষয়ে মিলিয়ে অকৃতকার্য হয়েছে ৪৫ হাজার ৬২২ জন শিক্ষার্থী। বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী ফেল করার প্রভাব পড়েছে বোর্ডের সামগ্রিক ফলাফলেও। বিশেষ করে বিজ্ঞান বিভাগের তুলনায় ব্যবসায় শিক্ষা ও মানবিক বিভাগের শিক্ষার্থীদের মধ্যে এ দুই বিষয়ে অকৃতকার্যের হার তুলনামূলক বেশি। সোমবার (১০ আগস্ট) চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ড প্রকাশিত বিষয়ভিত্তিক ফলাফল বিশ্লেষণ করে এ চিত্র পাওয়া গেছে। বোর্ডের প্রকাশিত ফলাফল অনুযায়ী, গণিতে এক লাখ ২৯ হাজার ৯৯৯ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেছে এক লাখ ৫ হাজার ৯৮৮ জন। পাসের হার ৮১ দশমিক ৫৩ শতাংশ। সে হিসাবে এ বিষয়ে অকৃতকার্য হয়েছে ২৪ হাজার ১১ জন। ইংরেজি প্রথম পত্রে পরীক্ষার্থী ছিল এক লাখ ২৮ হাজার ৯২৫ জন। এর ম

চট্টগ্রামে গণিত-ইংরেজিতে ফেল ৪৫ হাজারের বেশি শিক্ষার্থী

চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডে বেশিরভাগ বিষয়ে পাসের হার ৯০ শতাংশের ওপরে। অথচ গণিত ও ইংরেজিতে পাসের হার নেমে এসেছে ৮০ শতাংশের ঘরে। বিষয়ভিত্তিক ফলাফলে এমন বৈপরীত্যই চট্টগ্রাম বোর্ডের এবারের এসএসসির ফলে বড় দুর্বলতা হিসেবে সামনে এসেছে। 

শুধু গণিতেই অকৃতকার্য হয়েছে ২৪ হাজার ১১ জন, যা পরীক্ষার্থীদের ১৮ দশমিক ৪৭ শতাংশ। ইংরেজি প্রথম পত্রে ফেল করেছে ২১ হাজার ৬১১ জন, অর্থাৎ ১৬ দশমিক ৭৬ শতাংশ। দুই বিষয়ে মিলিয়ে অকৃতকার্য হয়েছে ৪৫ হাজার ৬২২ জন শিক্ষার্থী। বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী ফেল করার প্রভাব পড়েছে বোর্ডের সামগ্রিক ফলাফলেও। বিশেষ করে বিজ্ঞান বিভাগের তুলনায় ব্যবসায় শিক্ষা ও মানবিক বিভাগের শিক্ষার্থীদের মধ্যে এ দুই বিষয়ে অকৃতকার্যের হার তুলনামূলক বেশি।

সোমবার (১০ আগস্ট) চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ড প্রকাশিত বিষয়ভিত্তিক ফলাফল বিশ্লেষণ করে এ চিত্র পাওয়া গেছে।

বোর্ডের প্রকাশিত ফলাফল অনুযায়ী, গণিতে এক লাখ ২৯ হাজার ৯৯৯ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেছে এক লাখ ৫ হাজার ৯৮৮ জন। পাসের হার ৮১ দশমিক ৫৩ শতাংশ। সে হিসাবে এ বিষয়ে অকৃতকার্য হয়েছে ২৪ হাজার ১১ জন।

ইংরেজি প্রথম পত্রে পরীক্ষার্থী ছিল এক লাখ ২৮ হাজার ৯২৫ জন। এর মধ্যে পাস করেছে এক লাখ ৭ হাজার ৩১৪ জন। পাসের হার ৮৩ দশমিক ২৪ শতাংশ। এ বিষয়ে অকৃতকার্য হয়েছে ২১ হাজার ৬১১ জন।

অর্থাৎ গণিত ও ইংরেজি প্রথম পত্র শুধু এ দুই বিষয়েই ফেল করেছে ৪৫ হাজার ৬২২ জন। অন্যদিকে অধিকাংশ বিষয়ে পাসের হার ৯০ শতাংশের বেশি। ফলে বিষয়ভিত্তিক ফলাফলে শিক্ষার্থীদের সবচেয়ে বড় ধাক্কা এসেছে গণিত ও ইংরেজি থেকেই।

তবে অভিভাবকদের অভিযোগ অন্য জায়গায়। বারবার শিক্ষাপদ্ধতি পরিবর্তন ও গত দুই বছরের রাজনৈতিক অস্থিরতা ও সামাজিক নিরাপত্তার ঘাটতি ফলাফলে প্রভাব পড়েছে বলে জানিয়েছেন তারা। 

এ বিষয়ে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ণন্ত্রক প্রফেসর ড. পারভেজ সাজ্জাদ চৌধুরী কালবেলাকে বলেন, ‘গণিত ও ইংরেজিতে পাসের হার তুলনামূলক কম হওয়ার বিষয়টি বোর্ডের বিশেষ নজরে রয়েছে। বিষয়ভিত্তিক ফলাফল বিশ্লেষণ করে শিক্ষার্থীদের দুর্বলতার কারণ চিহ্নিত করা হবে। বিশেষ করে বাণিজ্য ও মানবিক বিভাগের শিক্ষার্থীদের মধ্যে এ দুই বিষয়ে অকৃতকার্যের হার বেশি দেখা গেছে।’

তিনি আরো বলেন, ‘গণিত ও ইংরেজিতে শিক্ষার্থীদের ভিত্তি শক্ত করতে শিক্ষক, অভিভাবক ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। ফলাফলের দুর্বল দিকগুলো চিহ্নিত করে পরবর্তী সময়ে সেগুলো কাটিয়ে উঠতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।’

এ বিষয়ে চট্টগ্রাম সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মুহাম্মদ নুরুল আমিন বলেন, ‘অন্যান্য বিষয়ে ভালো ফল করেও গণিত ও ইংরেজিতে তুলনামূলক বেশি শিক্ষার্থী ফেল করছে। এটি অবশ্যই গুরুত্ব দিয়ে দেখার বিষয়। প্রাথমিক ও মাধ্যমিক পর্যায় থেকেই শিক্ষার্থীদের গণিতের মৌলিক ধারণা এবং ইংরেজি ভাষার ভিত্তি শক্ত করতে হবে। শুধু পরীক্ষার আগে প্রস্তুতি নিয়ে এ দুই বিষয়ে কাঙ্ক্ষিত ফল পাওয়া কঠিন।


অন্য বিষয়গুলোতে স্বস্তি

গণিত ও ইংরেজির বিপরীতে অধিকাংশ বিষয়েই শিক্ষার্থীদের ফলাফল সন্তোষজনক। বিষয়ভিত্তিক ফলাফলে সর্বোচ্চ পাসের হার বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় বিষয়ে—৯৮ দশমিক ৯১ শতাংশ।

বাংলা প্রথম পত্রে পাসের হার ৯৮ দশমিক ৬২ শতাংশ। এ বিষয়ে ১ লাখ ২৪ হাজার ৭৩৮ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেছে ১ লাখ ২৩ হাজার ১৩ জন।

ধর্মীয় শিক্ষার বিষয়গুলোতেও পাসের হার ৯৭ শতাংশের বেশি। ইসলাম ও নৈতিক শিক্ষায় ৯৭ দশমিক ৮৭ শতাংশ, হিন্দুধর্ম ও নৈতিক শিক্ষায় ৯৮ দশমিক ৩৩ শতাংশ, বৌদ্ধধর্ম ও নৈতিক শিক্ষায় ৯৭ দশমিক ২৪ শতাংশ এবং খ্রিষ্টধর্ম ও নৈতিক শিক্ষায় ৯৮ দশমিক ৩৫ শতাংশ শিক্ষার্থী পাস করেছে।

বিজ্ঞান বিভাগের বিষয়গুলোতেও ফলাফল ভালো। পদার্থবিজ্ঞানে পাসের হার ৯৭ দশমিক ৬১ শতাংশ, রসায়নে ৯৭ দশমিক ২৯ শতাংশ এবং জীববিজ্ঞানে ৯৮ দশমিক ৭৬ শতাংশ। উচ্চতর গণিতেও পাসের হার ৯৭ দশমিক ১১ শতাংশ।

এ ছাড়া কৃষিশিক্ষায় ৯৩ দশমিক ৭৭ শতাংশ, ভূগোল ও পরিবেশে ৯৩ দশমিক ০৩ শতাংশ, পৌরনীতি ও নাগরিকত্বে ৯৫ দশমিক ৯৯ শতাংশ এবং অর্থনীতিতে ৯৩ দশমিক ২১ শতাংশ শিক্ষার্থী পাস করেছে।

ব্যবসায় শিক্ষার বিষয়গুলোর ফলও ছিল সন্তোষজনক। ব্যবসায় উদ্যোগে পাসের হার ৯৭ দশমিক ৯১ শতাংশ, হিসাববিজ্ঞানে ৯৫ দশমিক ৫৬ শতাংশ এবং ফিন্যান্স ও ব্যাংকিংয়ে ৯৬ দশমিক ০২ শতাংশ।

সব মিলিয়ে বিষয়ভিত্তিক ফলাফলে অধিকাংশ বিষয়ে সাফল্য থাকলেও গণিত ও ইংরেজির ফলাফল পুরো চিত্রটিকে কিছুটা ম্লান করেছে। বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থীর এ দুই বিষয়ে অকৃতকার্য হওয়ার বিষয়টি আগামী শিক্ষাবর্ষে পাঠদান ও শিক্ষার্থীদের প্রস্তুতির ক্ষেত্রে বিশেষ গুরুত্বের সঙ্গে দেখার প্রয়োজনীয়তাই সামনে এনেছে।

 


 

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow