চট্টগ্রামে ডেঙ্গু ঝুঁকিতে তিন স্কুলের দেড় হাজার শিক্ষার্থী

চট্টগ্রাম নগরীর ১৭ নম্বর পশ্চিম বাকলিয়া ওয়ার্ডের চকবাজার কে বি আমান আলী রোডে অবস্থিত পশ্চিম বাকলিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। চারতলা বিশিষ্ট এ বিদ্যালয়ে শিশু শ্রেণি থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত মিলিয়ে মোট ৫১০ জন ছাত্র-ছাত্রী রয়েছে। চারতলা বিশিষ্ট এই বিদ্যালয়ে শ্রেণি কার্যক্রম চলার ব্যবস্থা থাকলেও নিচতলার রুমগুলো অনেকটা পরিত্যক্ত বললেই চলে। সরেজমিনে দেখা গেছে, বিদ্যালয়ের সাথে লাগোয়া নালার পাশেই মূল রাস্তা যেখানে দুই ধারে ভাসমান মাছ ও সবজির বাজার বসে। এইসব ভাসমান দোকানদারেরা দিন-রাত রাস্তার দুইধারে বেচাবিক্রি করার কারণে নিয়মিত যানজটের সৃষ্টি হয়। এছাড়া তাদের সবজি বা মাছ কাটার আবর্জনা রাস্তার দুইপাশে নালাগুলোতে ফেলে চলে যায়। যার কারণে নালাতে ময়লা জমে এর থেকে তীব্র দুর্গন্ধ ছড়ানোর পাশাপাশি বংশবিস্তার করছে ডেঙ্গু রোগের মূল বাহক এডিস মশা। বর্ষাকালের পুরোটা সময় স্কুল ভবনের নিচতলায় জমে থাকে পানি। তখন অন্ধকার, স্যাঁতসেতে পরিবেশে জমে থাকা পানির উপর লো বেঞ্চ বসিয়ে উপরের তলায় ক্লাস করতে যেতে হয় শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের। এলাকায় রাজনৈতিকভাবে প্রভাবশালীদের নিয়মিত চাঁদা দেওয়া ও বেশিরভাগ দোকানদার স্থানীয় হওয়

চট্টগ্রামে ডেঙ্গু ঝুঁকিতে তিন স্কুলের দেড় হাজার শিক্ষার্থী
চট্টগ্রাম নগরীর ১৭ নম্বর পশ্চিম বাকলিয়া ওয়ার্ডের চকবাজার কে বি আমান আলী রোডে অবস্থিত পশ্চিম বাকলিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। চারতলা বিশিষ্ট এ বিদ্যালয়ে শিশু শ্রেণি থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত মিলিয়ে মোট ৫১০ জন ছাত্র-ছাত্রী রয়েছে। চারতলা বিশিষ্ট এই বিদ্যালয়ে শ্রেণি কার্যক্রম চলার ব্যবস্থা থাকলেও নিচতলার রুমগুলো অনেকটা পরিত্যক্ত বললেই চলে। সরেজমিনে দেখা গেছে, বিদ্যালয়ের সাথে লাগোয়া নালার পাশেই মূল রাস্তা যেখানে দুই ধারে ভাসমান মাছ ও সবজির বাজার বসে। এইসব ভাসমান দোকানদারেরা দিন-রাত রাস্তার দুইধারে বেচাবিক্রি করার কারণে নিয়মিত যানজটের সৃষ্টি হয়। এছাড়া তাদের সবজি বা মাছ কাটার আবর্জনা রাস্তার দুইপাশে নালাগুলোতে ফেলে চলে যায়। যার কারণে নালাতে ময়লা জমে এর থেকে তীব্র দুর্গন্ধ ছড়ানোর পাশাপাশি বংশবিস্তার করছে ডেঙ্গু রোগের মূল বাহক এডিস মশা। বর্ষাকালের পুরোটা সময় স্কুল ভবনের নিচতলায় জমে থাকে পানি। তখন অন্ধকার, স্যাঁতসেতে পরিবেশে জমে থাকা পানির উপর লো বেঞ্চ বসিয়ে উপরের তলায় ক্লাস করতে যেতে হয় শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের। এলাকায় রাজনৈতিকভাবে প্রভাবশালীদের নিয়মিত চাঁদা দেওয়া ও বেশিরভাগ দোকানদার স্থানীয় হওয়ায় এদের কেউ কিছু বলার সাহস রাখে না। তাছাড়া মূল বিদ্যালয়ের অন্যপাশে একটি দীর্ঘদিনের নির্মাণাধীন ভবন রয়েছে, যেখানে নিয়মিত পানি জমে থাকার কারণে বিভিন্ন প্রকারের কীট-পতঙ্গ ও এডিস মশার প্রজনন উৎসতে পরিণত হয়েছে। জানা গেছে, এই দীর্ঘদিনের নির্মাণাধীন ভবনটির মালিক ১৭নং পশ্চিম বাকলিয়া ওয়ার্ডের কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সাবেক কাউন্সিলর শহিদুল আলম। কাউন্সিলর থাকা অবস্থায় উনাকে অনেকবার এ ব্যাপারে জানানো হলে তিনি কখনো যথাযোগ্য ব্যবস্থা গ্রহণ করেননি। জানতে চাইলে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সুমীত সেন কালবেলাকে বলেন, বিদ্যালয়ের সঙ্গে লাগোয়া একটি নালা আছে যা সবসময় অপরিষ্কার থাকে যার কারণে নিচ তলায় শ্রেণি কার্যক্রম চালানো সম্ভব হয় না। একই চিত্র দেখা গেছে ওই ওয়ার্ডের সবুজ বাগ আবাসিক এলাকায় বাকলিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের। সব শ্রেণি মিলিয়ে মোট ৭২০ জন শিক্ষার্থী পড়াশোনা করা এই বিদ্যালয়ে। স্কুলের ভেতর পরিষ্কার থাকলেও বিদ্যালয়টির সামনে রয়েছে বিশাল ময়লার ভাগাড়। যার কারণে বিকট দুর্গন্ধ ও স্বাস্থ্য ঝুঁকি নিয়ে শিক্ষকদের এখানে শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করতে হয়। স্থানীয়দের মতে, ময়লার ভাগাড়ের এই সমস্যা দীর্ঘদিনের হলেও সমস্যা সমাধানের কখনো স্থায়ী উদ্যোগ নেননি ওয়ার্ডের দায়িত্বশীলরা। এর আগেও চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের পক্ষ থেকে ময়লা ফেলার বিশেষ বিনের ব্যবস্থা করলেও তা ছিলো সাময়িক। আশেপাশের আবাসিকে থাকা লোকজনকে বারবার অনুরোধ করার পরেও প্রায় নিয়ম করেই ওই জায়গাটিতে ময়লা ফেলছের তারা। আশেপাশে থাকা আরো দুইটি বিদ্যালয়গুলোকে পোহাতে হচ্ছে সমান দুর্ভোগ। বাকলিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক কাইছারুল আলম কালবেলাকে বলেন, বিদ্যালয়ে ক্লাসরুম কম থাকার কারণে মূলত তিন শিফটে শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করতে হয়। সামনের ভাগাড়টির দুর্গন্ধের কারণে ওই ক্লাসগুলো নেয়া পীড়াদায়ক হয়ে যায়। বর্ষা মৌসুম এলে অতি বৃষ্টির কারণে ময়লাগুলো গড়িয়ে মূল রাস্তায় চলে আসে যার কারণে শিক্ষক-শিক্ষিকা এবং ছাত্র-ছাত্রীদের এই ময়লা মাড়িয়ে বিদ্যালয়ে প্রবেশ করতে হয়। এছাড়া এর কারণে বিভিন্ন স্বাস্থ্য ঝুঁকিতেও পরছে বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। এই দুটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের থানাভিত্তিক দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা (টিইও) শফিকুল ইসলাম কালবেলাকে বলেন, শহর অঞ্চলে থাকা বিদ্যালয়গুলোতে যেহেতু সিটি কর্পোরেশনের একটা ব্যাপার আছে তাই বিদ্যালয়গুলোর প্রধান শিক্ষকের মাধ্যমে করপোরেশনের যে আঞ্চলিক কার্যালয়গুলো আছে সেখানে আবেদন জানানো হয়। তবে একটা মুশকিল হয়েছে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি না থাকার কারণে কাজের একটু ঘাটতি আছে। জনপ্রতিনিধি থাকা অবস্থায়ও কি নিয়মিত পরিষ্কার হয়েছিল? এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, খুব যে বেশি তা নয়, তবে এর চেয়ে একটু ভালো ছিলো মনে হয়। স্কুলগুলোতে নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার ব্যাপারে জানতে চাইলে চট্টগ্রাম জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ফিরোজ আহাম্মদ বলেন, আমি দায়িত্ব নিয়েছি মাত্র তিন মাস হলো। বিভিন্ন থানাভিত্তিক প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তাদের (টিইও) থেকে এই সংক্রান্ত রিপোর্ট চাইব। তারা রিপোর্ট দিলে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনে (চসিক) লিখিত আকারে ব্যবস্থা নিতে অনুরোধ জানাব। এদিকে ডেঙ্গু ঝুঁকিতে রয়েছে নগরীর পাঁচলাইশ মুরাদপুরের মোহাম্মদীয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৬০৪ জন শিক্ষার্থী। সরেজমিন পরিদর্শনে দেখা গেছে, মূল বিদ্যালয়ের গেইটের পাশে ময়লায় ভাগাড় এবং তার পাশেই রয়েছে বিশাল ডোবা যা মশার বংশবিস্তারের জন্য যথাযথ স্থান। অভিভাবকদের মতে, বিদ্যালয়ের পাশেই রয়েছে বড় ডোবা যার আশেপাশে দোকানদাররা নিয়মিত ময়লা ফেলে যার থেকে দুর্গন্ধ ছড়ানোর পাশাপাশি বিভিন্ন কীটপতঙ্গ ও মশা বংশবিস্তার করে। এছাড়া বৃষ্টি পড়লে পাশে মুরাদপুরের বড় নালার মাধ্যমে থেকে উপচে পড়া নোংরা পানিতে ডোবা ডুবে গিয়ে বিদ্যালয়ের অভ্যন্তরে ঢুকে পড়ে যার কারণে বাচ্চাদের বর্ষা মৌসুমে বিদ্যালয়ে আসতে ভোগান্তির সৃষ্টি হয়, আর তাছাড়া স্বাস্থ্য ঝুঁকিতো আছেই।     জানতে চাইলে বিদ্যালয়টির প্রধান শিক্ষক সৈয়দা আবরার বলেন, আমরা সিটি করপোরেশন বরাবর আবেদন করেছি তারা যাতে মশা নিয়ন্ত্রণে থাকার জন্য নিয়মিত স্প্রে করে কিন্তু তাদের দেখা যায় না। জিজ্ঞেস করলে তারা বলে, স্প্রে করেছে। যদি তারা আগে থেকে আমাদের শিডিউল নির্ধারণ করে দেয়, তাহলে আমরা আমাদের প্রতিনিধি রেখে ব্যাপারটা তদারকি করাতে পারি। স্কুলের পাশে থাকা ময়লার ভাগাড়টি সড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছেন কিনা? জানতে চাইলে তিনি বলেন, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের অনুরোধ করলে উনারা লোক লাগিয়ে পরিষ্কার করান। আবার বিদ্যালয়ের কর্মচারী দিয়েও নিয়মিত পরিষ্কার করায় কিন্তু আশেপাশের দোকানদারেরা একই স্থানে আবার ময়লা ফেলে। তবে শিশুস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, শিশুদের স্বাস্থ্যের ব্যাপারটি মাথায় রেখে লোকালয় বিশেষ করে স্কুল-কলেজগুলোর সামনে ফেলে রাখা আবর্জনা নিয়মিত পরিষ্কারের পাশাপাশি জনসচেতনতা বাড়াতে প্রশাসনের সকল সংস্থাকে একসাথে কাজ করা উচিত। চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) প্রধান পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা ক্যাপ্টেন ইখতিয়ার উদ্দিন চৌধুরী বলেন, মূলত ওই স্থানগুলো থেকে ময়লা বারবার সরালেও আশেপাশের লোকজন পুনরায় ওইসব জায়গায় ময়লা ফেলে। তাছাড়া স্থানগুলো থেকে বর্জ্য স্থানান্তর করে সুবিধাজনক স্থানে রাখতে হয় যাতে ময়লায় গাড়ি এসে পরবর্তীতে নিয়ে যেতে পারে। এটাতেও স্থানীয় লোকজন বাধা দেয় যার কারণে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম চালাতে আমাদের অসুবিধা হয়। কিছু কিছু স্থানে স্থায়ীভাবে আমরা ময়লা পরিষ্কার করে ফুলের টব বসিয়ে দিলেও লোকজন তা ভেঙে ওইসব স্থানে পুনরায় ময়লা ফেলে।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow