চট্টগ্রামে নির্মাণাধীন ভবনে এসএসসি পরীক্ষা কেন্দ্র

চট্টগ্রামের কুসুম কুমারী সিটি করপোরেশন বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়। চলতি বছর এ বিদ্যালয়ের কেন্দ্রে এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেবে ৮০০ শিক্ষার্থী। স্থান সংকুলান না হওয়ায় প্রায় দেড় শতাধিকের বেশি শিক্ষার্থীদের জন্য পাশের প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নির্মাণাধীন ভবনে পরীক্ষার আয়োজন করেছে কেন্দ্র কর্তৃপক্ষ।  অসম্পূর্ণ ভবনের তৃতীয় ও চতুর্থ তলার ৭টি কক্ষে দুর্ঘটনা ঝুঁকি ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে পরীক্ষায় আয়োজন করায় সমালোচনার মুখে পড়েছেন কেন্দ্র কর্তৃপক্ষ ও চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ড। চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ড, কুসুম কুমারী সিটি করপোরেশন বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, প্রতিবছর এ বিদ্যালয় কেন্দ্রে ৬৫০ এর মতো পরীক্ষার্থী অংশ নেয়। কিন্তু চলতি বছর এ কেন্দ্রে ৮০৮ জন শিক্ষার্থীর কেন্দ্র দেওয়া হয়েছে। বিদ্যালয়ের মূল ভবনে পর্যাপ্ত স্থান না থাকায় প্রায় ১৫০-১৯০ জন পরীক্ষার্থীকে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের জন্য নির্মাণাধীন ভবনের মধ্যে কেন্দ্র তৈরি করা হয়েছে। পরীক্ষা গ্রহণের ক্ষেত্রে অনুমতি নেওয়া হয়নি নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠান স্থানীয় সরকার ও প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) ও প্রাথমিক শিক্ষা কার্যালয়েরও। জানা গেছে, ১৯৬৬ সালে কুসুম কুমারী প্রা

চট্টগ্রামে নির্মাণাধীন ভবনে এসএসসি পরীক্ষা কেন্দ্র

চট্টগ্রামের কুসুম কুমারী সিটি করপোরেশন বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়। চলতি বছর এ বিদ্যালয়ের কেন্দ্রে এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেবে ৮০০ শিক্ষার্থী। স্থান সংকুলান না হওয়ায় প্রায় দেড় শতাধিকের বেশি শিক্ষার্থীদের জন্য পাশের প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নির্মাণাধীন ভবনে পরীক্ষার আয়োজন করেছে কেন্দ্র কর্তৃপক্ষ। 

অসম্পূর্ণ ভবনের তৃতীয় ও চতুর্থ তলার ৭টি কক্ষে দুর্ঘটনা ঝুঁকি ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে পরীক্ষায় আয়োজন করায় সমালোচনার মুখে পড়েছেন কেন্দ্র কর্তৃপক্ষ ও চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ড।

চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ড, কুসুম কুমারী সিটি করপোরেশন বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, প্রতিবছর এ বিদ্যালয় কেন্দ্রে ৬৫০ এর মতো পরীক্ষার্থী অংশ নেয়। কিন্তু চলতি বছর এ কেন্দ্রে ৮০৮ জন শিক্ষার্থীর কেন্দ্র দেওয়া হয়েছে। বিদ্যালয়ের মূল ভবনে পর্যাপ্ত স্থান না থাকায় প্রায় ১৫০-১৯০ জন পরীক্ষার্থীকে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের জন্য নির্মাণাধীন ভবনের মধ্যে কেন্দ্র তৈরি করা হয়েছে। পরীক্ষা গ্রহণের ক্ষেত্রে অনুমতি নেওয়া হয়নি নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠান স্থানীয় সরকার ও প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) ও প্রাথমিক শিক্ষা কার্যালয়েরও।

জানা গেছে, ১৯৬৬ সালে কুসুম কুমারী প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয়। পরবর্তীতে ১৯৬৯ সালে এটি মাধ্যমিক বিদ্যালয় উন্নীত হয়। ১৯৭২ সালে এই বিদ্যালয়ের প্রাথমিক শাখাটি জাতীয়করণের মাধ্যমে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে রূপান্তর হয়। যদিও বিদ্যালয়টির মাধ্যমিক অংশটি চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের অধীনে পরিচালিত হয়ে আসছে। বিদ্যালয়ের ভবন সংখ্যা কম হওয়ায় প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শ্রেণি পাঠদানসহ যাবতীয় কাজ মর্নিং শিফটে সিটি কর্পোরেশনের ভবনে হয়। চতুর্থ প্রাথমিক শিক্ষা উন্নয়ন কর্মসূচির (পিইডিপি-৪) অধীনে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের জন্য একটি নতুন ভবন নির্মাণের কাজ শুরু হয় ২০২৩ সালে। প্রকল্পের কাজ চলতি বছরের জুনে শেষ হয়ে যাবে। 

ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ও এলজিইডি কর্তৃপক্ষ বলছে, প্রকল্পের মেয়াদ জুনের মধ্যে শেষ হয়ে যাবে। এজন্য দ্রুত ভবনের ফিনিশিং কাজ চলমান রয়েছে। মাধ্যমিক বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ, সিটি কর্পোরেশন ও চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের পক্ষ থেকে নির্মাণাধীন ভবনে এসএসসি পরীক্ষার কেন্দ্র স্থাপনের বিষয়ে একাধিকবার মৌখিকভাবে অনুরোধ করা হলেও সেটি অনুমোদন করা হয়নি। ঝুঁকিপূর্ণ নির্মাণাধীন ভবনের পাশাপাশি প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হয়ে আসায় দ্রুত সময়ের মধ্যে বাকি কাজ সম্পন্ন করার প্রয়োজনে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে পরীক্ষা কেন্দ্র স্থাপনে নিষেধ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন তারা।  

সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, বিদ্যালয়টির এক পাশে মূল ভবনে সকালের শিফটে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাঠদান চলছে। নির্মাণাধীন ভবনের নিচের খোলা অংশ, সিঁড়ি, বারান্দার প্রাচীর, নকশা অনুযায়ী জানলা ও ভবনের বিভিন্ন খোলা রয়েছে। জানালা ও রেলিং না দেওয়ায় যেকোনো সময়ে দুর্ঘটনার ঝুঁকি রয়েছে। সিঁড়ির কার্নিশগুলোতে নিরাপত্তা রেলিং দেওয়া হয়নি। ভবনটির বাথরুম সহ কোনো বৈদ্যুতিক সংযোগও লাগানো হয়নি। ভবনের তৃতীয় ও চতুর্থ তলায় উঠার সিঁড়ি, বারান্দা স্যাঁতসেঁতে অবস্থায় রয়েছে। ভবনের যত্রতত্র নির্মাণসামগ্রী যেমন ইট, রড, সিমেন্ট, বালি পড়ে রয়েছে। ভবনের উঠার মূল অংশে এখনো বড় গর্ত রয়েছে যা বস্তায় বালি ভরাট করে কোনো রকমে ভবনের উঠার ব্যবস্থা করেছে নির্মাণ শ্রমিকরা। 

তবে বিদ্যালয়টির নির্মাণাধীন ভবনে সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে-বিদ্যুৎ সংযোগ না থাকায় পরীক্ষার জন্য একটি সংযোগ লাইন ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় সিঁড়ির পাশ দিয়ে তৃতীয় ও চতুর্থ তলায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে। তাছাড়া ভবন নির্মাণের জন্য প্রয়োজনীয় পানির পাইপ সিঁড়ি দিয়ে উপরে নিয়ে যাওয়ায় পাইপের ছিদ্র দিয়ে পানি বের হয়ে সিঁড়িগুলো স্যাঁতসেঁতে হয়ে আছে। সিঁড়ি ও বারান্দায় বালি, ইট ও সিমেন্টের কারণে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ তৈরি হয়েছে। একটি পরীক্ষা কেন্দ্রে টয়লেট সুবিধা গুরুত্বপূর্ণ হলেও কেন্দ্রটির নির্মাণাধীন ভবন অংশে সেটি নেই। যার কারণে ১৫০ পরীক্ষার্থীকে পরীক্ষা চলাকালীন সময়ে টয়লেটে যেতে হলে নিচে নামতে হবে। 

জানা গেছে, আগামী ২১ এপ্রিল সারাদেশে একযোগে শুরু হচ্ছে এসএসসি পরীক্ষা। চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের অধীনে এবছর ১ লাখ ৩০ হাজার ৬৬৮ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ  নেবে। যার মধ্যে ৫৬ হাজার ৩২৫ জন ছাত্র ও ৭৪ হাজার ৩৪৩ জন ছাত্রী। বোর্ডের ১ হাজার ২১৮টি বিদ্যালয়ের পরীক্ষার্থীদের জন্য ২১৮টি কেন্দ্র নির্বাচন করা রয়েছে। এর মধ্যে শুধুমাত্র চট্টগ্রাম জেলায় পরীক্ষায় অংশ নেবে ৯২ হাজার ২৯৬ জন শিক্ষার্থী।  

কুসুম কুমারী বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এবছর একটি বিদ্যালয় বাড়িয়ে চারটিতে উন্নীত করা হয়েছে। যার কারণে পরীক্ষার্থীর সংখ্যা বেড়ে গেছে। এ বছর কাজেম আলী উচ্চ বিদ্যালয়, শাহ ওয়ালীউল্লাহ ইনস্টিটিউট, মুসলিম এডুকেশন সোসাইটি (এমইএস) উচ্চ বিদ্যালয়, বলুয়ারদিঘী সিটি কর্পোরেশন বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, পাহাড়িকা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা জামালখান কুসুম কুমারী সিটি কর্পোরেশন বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের কেন্দ্রে এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেবে।

কুসুম কুমারী সিটি করপোরেশন বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. লোকমান উদ্দিন বলেন, ভবনটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের জন্য নির্মিত হলেও এ ভূমির মালিক চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন। এখনো প্রাথমিক বিদ্যালয়টির সমস্ত কার্যক্রম মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ভবনে অনুষ্ঠিত হয়। এবছর এসএসসির পরীক্ষার্থীর সংখ্যা বেশি হওয়ায় বাধ্য হয়ে নির্মাণাধীন ভবনে ১৫০ জনের পরীক্ষার আয়োজন করা হয়েছে। শতভাগ নিরাপত্তা দিয়েই আমরা পরীক্ষার আয়োজন করছি। এজন্য প্রাথমিক শিক্ষা অফিসসহ সকল প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে অনুমোদন নেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। 

এলজিইডির জ্যেষ্ঠ উপসহকারী প্রকৌশলী মো. তুহিন বলেন, ভবনটি নির্মাণের সময় স্থানীয় জনগোষ্ঠীর ধর্মীয় অনুষ্ঠানের প্রয়োজনে নকশা পরিবর্তন করা হয়েছিল। আবার দুই দফায় পূজার জন্য মোট ৫ মাস কাজ বন্ধ রাখতে হয়েছে। প্রকল্পের মেয়াদ জুন মাসে শেষ হয়ে যাবে, এজন্য প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর থেকে বার বার তাগাদা দেওয়া হচ্ছে। ভবন নির্মাণের কাজ বন্ধ রেখে প্রায় এক মাসের বেশি পরীক্ষার জন্য কাজ বন্ধ রাখা হলে নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ করা যাবে না। এরপরও ঝুঁকিপূর্ণ পরিবেশে নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে পরীক্ষার কেন্দ্র করা হলে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরকে এ বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে চিঠি দেওয়া ছাড়া উপায় থাকবে না বলে জানিয়েছেন তিনি। 

চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক ড. পারভেজ সাজ্জাদ চৌধুরী বলেন, দেশে প্রতিবছর এসএসসি পরীক্ষার সংখ্যা বাড়ছে। কিন্তু এজন্য প্রয়োজনীয় পরীক্ষা কেন্দ্র বাড়ানোর সুযোগ কম। কুসুম কুমারী সিটি কর্পোরেশন বিদ্যালয়ের অভ্যন্তরে নির্মাণাধীন ভবনে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হলেও সেটি বোর্ডের পরিদর্শন টিমের অনুমতিতেই হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের ন্যূনতম ঝুঁকি থাকলে সেখানে পরীক্ষা নেওয়ার প্রশ্নই আসে না। এরপরও অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে পরীক্ষা কেন্দ্রটি পুনরায় পরিদর্শন করা হবে।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow