চট্টগ্রামে ফুলের কোটি টাকার বাজার
চট্টগ্রামের মোমিন রোডের মোড়ে পা রাখতেই নাকে এল একরাশ স্নিগ্ধ সুবাস। তবে এই সুবাস কেবল বসন্তের নয়, এতে মিশে আছে রাজনীতির জয়ের ঘ্রাণও। একদিকে ভালোবাসা দিবস ও পহেলা ফাল্গুন, অন্যদিকে ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে বিএনপির নিরঙ্কুশ জয় এ তিনে মিলে বন্দরনগরীর ফুলের বাজারে এখন দম ফেলার ফুরসত নেই। ব্যবসায়ীদের প্রত্যাশা, দুই দিনে চট্টগ্রামে ফুল বিক্রির অঙ্ক ছাড়িয়ে যাবে কোটি টাকা। শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে নগরীর চেরাগী পাহাড় মোমিন রোডের একটি দোকানে দেখা গেল ব্যস্ত কর্মযজ্ঞ। কম্পিউটারে টাইপ করা হচ্ছে একটি নাম ‘আবু সুফিয়ান’। কোতোয়ালি আসন থেকে নবনির্বাচিত এ সংসদ সদস্যকে অভিনন্দন জানাতে কয়েকজন যুবক তৈরি করছেন বিশাল এক তোড়া। তাদেরই একজন কালবেলাকে বলেন, সুফিয়ান ভাই আমাদের গর্ব। এমন পরিচ্ছন্ন রাজনীতিবিদের বিজয় উদ্যাপন করতে আমরা চান্দগাঁও আবাসিক এলাকায় তার বাসায় যাচ্ছি। দোকানের কারিগর রবিন বলেন, চট্টগ্রামের ১৬টি আসনের অধিকাংশ বিজয়ীর নামেই শতশত তোড়া যাচ্ছে মোমিন রোড থেকে। কেউ মাইক্রোবাসে করে নিয়ে যাচ্ছেন শহরে, কেউবা আবার পিকআপে করে পাঠিয়ে দিচ্ছেন প্রত্যন্ত গ্রামে। জানা গেছে, অন্য বছরগুলোতে বসন্তের আগে স
চট্টগ্রামের মোমিন রোডের মোড়ে পা রাখতেই নাকে এল একরাশ স্নিগ্ধ সুবাস। তবে এই সুবাস কেবল বসন্তের নয়, এতে মিশে আছে রাজনীতির জয়ের ঘ্রাণও। একদিকে ভালোবাসা দিবস ও পহেলা ফাল্গুন, অন্যদিকে ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে বিএনপির নিরঙ্কুশ জয় এ তিনে মিলে বন্দরনগরীর ফুলের বাজারে এখন দম ফেলার ফুরসত নেই। ব্যবসায়ীদের প্রত্যাশা, দুই দিনে চট্টগ্রামে ফুল বিক্রির অঙ্ক ছাড়িয়ে যাবে কোটি টাকা।
শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে নগরীর চেরাগী পাহাড় মোমিন রোডের একটি দোকানে দেখা গেল ব্যস্ত কর্মযজ্ঞ। কম্পিউটারে টাইপ করা হচ্ছে একটি নাম ‘আবু সুফিয়ান’। কোতোয়ালি আসন থেকে নবনির্বাচিত এ সংসদ সদস্যকে অভিনন্দন জানাতে কয়েকজন যুবক তৈরি করছেন বিশাল এক তোড়া।
তাদেরই একজন কালবেলাকে বলেন, সুফিয়ান ভাই আমাদের গর্ব। এমন পরিচ্ছন্ন রাজনীতিবিদের বিজয় উদ্যাপন করতে আমরা চান্দগাঁও আবাসিক এলাকায় তার বাসায় যাচ্ছি।
দোকানের কারিগর রবিন বলেন, চট্টগ্রামের ১৬টি আসনের অধিকাংশ বিজয়ীর নামেই শতশত তোড়া যাচ্ছে মোমিন রোড থেকে। কেউ মাইক্রোবাসে করে নিয়ে যাচ্ছেন শহরে, কেউবা আবার পিকআপে করে পাঠিয়ে দিচ্ছেন প্রত্যন্ত গ্রামে।
জানা গেছে, অন্য বছরগুলোতে বসন্তের আগে সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলোর যে অগ্রিম অর্ডার থাকত, এবার তা কিছুটা কম। ব্যবসায়ীদের মতে, রাজনীতির ডামাডোলে ফাল্গুনের সেই ধ্রুপদী আয়োজন কিছুটা ম্লান হয়েছে। তবে তার জায়গা দখল করে নিয়েছে ভালোবাসা দিবস। তরুণ-তরুণীদের ভিড় এখন লাল গোলাপের দিকে।
লাল শাড়ি আর বাসন্তী পাঞ্জাবি পরা এক দম্পতিকে দেখা গেল ফুল কিনতে। তারা জানান, ফুল আমাদের অনুভূতি প্রকাশের শ্রেষ্ঠ মাধ্যম।
চট্টগ্রামের ফুলের বাজার মূলত নিয়ন্ত্রিত হয় চেরাগি পাহাড় এলাকা থেকে। জানা গেছে, সেখানে প্রায় ২৫টি বড় ডিপো রয়েছে। এ ছাড়া নগরীরভআগ্রাবাদ, চকবাজার, জিইসি ও বহদ্দারহাটসহ নগরীর ৭০-৭৫টি দোকানেও এখন উপচে পড়া ভিড়। ব্যবসায়ীরা জানান, এই বিশেষ দিনগুলো সামনে রেখে তারা প্রায় ৫ কোটি টাকার ফুল মজুত করেছেন।
বাজারে আসা সিংহভাগ ফুলই এসেছে যশোর, চুয়াডাঙ্গা, সাতক্ষীরা ও রংপুর থেকে। স্থানীয়ভাবে চকরিয়া থেকেও এসেছে বড় একটি চালান। বর্তমান বাজার দর দেশি গোলাপ ২০/৪০ টাকা, চীনা (ইমপোর্টেড) গোলাপ ১৩০/১৫০ টাকা, রজনীগন্ধা ১০/১৫ টাকা, জারবেরা ৪০/৪৫ টাকা, গাঁদা (প্রতি লহর) ৩০/৪০ টাকা, চীনা জিপসি (প্রতি বান্ডিল) ৩ হাজার থেকে সাড়ে ৩ হাজার টাকা।
চট্টগ্রাম ফুল ব্যবসায়ী ও চাষি বহুমুখী সমবায় সমিতির সভাপতি মো. কুতুব উদ্দিন বলেন, আগে থাইল্যান্ড থেকে প্রচুর ফুল আসত, এখন সেই বাজার বন্ধ। ভারত ও চীন থেকে ফুল আনতে গিয়ে খরচ অনেক বেড়ে গেছে। তবে দেশি ফুলের মান ভালো হওয়ায় ফুল ব্যবসায়ীরা সামলে নিচ্ছে। আশা করছি, গত বছরের লক্ষ্যমাত্রা এবার ছাড়িয়ে যাবে। এ বিক্রির জোয়ার আরও কয়েক দিন অব্যাহত থাকবে।
What's Your Reaction?