চট্টগ্রামে যানজটের ৩ কারণ হাসপাতাল, স্কুল ও শপিংমল
চট্টগ্রাম নগরীতে দীর্ঘদিন ধরেই তীব্র যানজট লেগে আছে। রমজান মাসে ঈদকে সামনে রেখে যানজটের মাত্রা দিনদিন বেড়ে চলছে। নগরের উত্তর থেকে দক্ষিণ প্রান্ত-সবখানেই যানজটের চিত্র একইরকম। যেসব কারণে নগরে যানজটে ঘণ্টার পর ঘণ্টা ভোগান্তি পোহাতে হয় যাত্রীদের, তার মধ্যে অন্যতম তিন কারণ শনাক্ত করেছেন স্থানীয়রা। কারণ গুলো হলো, সড়কের পাশেই হাসপাতাল, স্কুল আর শপিংমল। যাদের নিজস্ব কোনো পার্কিং ব্যবস্থা নেই। যানজটের এ ভয়াবহতা প্রতিদিনকার ঘটনা হলেও রমজানের শুরু থেকেই তা আরও ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছে। মূল সড়ক বটেই, অলি-গলিতেও এখন ছড়িয়ে পড়েছে যানজট। শুধু ইফতারের সময় নয়, সন্ধ্যার পরেও যানজট যেন তার চিরচেনা সব রূপ থেকে আরও বেশি ভয়ংকর হয়ে উঠেছে। নগরের আগ্রাবাদ, জিইসি মোড়, দুই নম্বর গেট, মুরাদপুর, বহদ্দারহাট, চকবাজার, কাজির দেউড়ি, গোল পাহাড়, প্রবর্তক মোড় ও নিউমার্কেট এলাকায় দুপুরের পর থেকেই যানজট বাড়তে থাকে। বিকেল গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। কোথাও কোথাও এক কিলোমিটার পথ পাড়ি দিতে সময় লাগে ৪০ মিনিট থেকে এক ঘণ্টা পর্যন্ত। সিএমপির ট্রাফিক বিভাগ জানিয়েছে, রমজানকে কেন্দ্র করে বাজারমুখী মানুষের চ
চট্টগ্রাম নগরীতে দীর্ঘদিন ধরেই তীব্র যানজট লেগে আছে। রমজান মাসে ঈদকে সামনে রেখে যানজটের মাত্রা দিনদিন বেড়ে চলছে। নগরের উত্তর থেকে দক্ষিণ প্রান্ত-সবখানেই যানজটের চিত্র একইরকম। যেসব কারণে নগরে যানজটে ঘণ্টার পর ঘণ্টা ভোগান্তি পোহাতে হয় যাত্রীদের, তার মধ্যে অন্যতম তিন কারণ শনাক্ত করেছেন স্থানীয়রা। কারণ গুলো হলো, সড়কের পাশেই হাসপাতাল, স্কুল আর শপিংমল। যাদের নিজস্ব কোনো পার্কিং ব্যবস্থা নেই। যানজটের এ ভয়াবহতা প্রতিদিনকার ঘটনা হলেও রমজানের শুরু থেকেই তা আরও ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছে। মূল সড়ক বটেই, অলি-গলিতেও এখন ছড়িয়ে পড়েছে যানজট। শুধু ইফতারের সময় নয়, সন্ধ্যার পরেও যানজট যেন তার চিরচেনা সব রূপ থেকে আরও বেশি ভয়ংকর হয়ে উঠেছে।
নগরের আগ্রাবাদ, জিইসি মোড়, দুই নম্বর গেট, মুরাদপুর, বহদ্দারহাট, চকবাজার, কাজির দেউড়ি, গোল পাহাড়, প্রবর্তক মোড় ও নিউমার্কেট এলাকায় দুপুরের পর থেকেই যানজট বাড়তে থাকে। বিকেল গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। কোথাও কোথাও এক কিলোমিটার পথ পাড়ি দিতে সময় লাগে ৪০ মিনিট থেকে এক ঘণ্টা পর্যন্ত।
সিএমপির ট্রাফিক বিভাগ জানিয়েছে, রমজানকে কেন্দ্র করে বাজারমুখী মানুষের চাপ বৃদ্ধি পাওয়ায় সড়কে ব্যক্তিগত গাড়ি ও রিকশার সংখ্যা বেড়েছে। একই সঙ্গে বিভিন্ন স্থানে খোঁড়াখুঁড়ি ও অবৈধ পার্কিং যানজট বাড়িয়ে তুলেছে। তবে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। পাশাপাশি কিছু স্বেচ্ছাসেবীকেও যানজট নিয়ন্ত্রণে কাজ করছেন। তবে, যাদের কারণে যানজট, সেসব প্রতিষ্ঠানের কোনো দায়বদ্ধতা নেই।
জানা যায়, রমজান মাসে বিভিন্ন শপিংমল ব্যবসায়ী সমিতিকে নিজেদের উদ্যোগে আগে বেশ কয়েকবার লোক নিয়োগ করতেন। যারা হাতে লাঠি ও মুখে বাঁশি নিয়ে পুলিশের পাশাপাশি রাস্তার যানজট নিয়ন্ত্রণ করতেন। কিন্তু চলতি বছর ৭ রোজা চলে গেলেও নগরের ব্যস্ততম রেয়াজুদ্দিন বাজার, টেরিবাজার কিংবা চকবাজার এলাকার কোথাও এরকম কোনো উদ্যোগ দেখা যায়নি।
ভুক্তভোগী যাত্রীদের অভিযোগ, গন্তব্যে পৌঁছাতে নির্ধারিত সময়ের দ্বিগুণ সময় লাগছে। অফিস শেষে বাসায় ফেরা ও ইফতারের প্রস্তুতি নিতে গিয়ে চরম ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে নগরবাসীকে। ফলে যানজটে আটকে পড়ে সড়কেই করতে হচ্ছে ইফতার। সন্ধ্যার পরও যানবাহনের ধীরগতি অব্যাহত থাকায় অনেক এলাকায় গণপরিবহনের সংকট তৈরি হয়েছে। নগরবাসীর আশঙ্কা রমজান যত এগোবে, কেনাকাটার চাপ তত বাড়বে। ফলে যানজট পরিস্থিতি আরও জটিল আকার ধারণ করতে পারে। দ্রুত সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে সামনের দিনগুলোতে ভোগান্তি চরমে পৌঁছাতে পারে বলে।
কোথায় কী কারণে যানজট
নগরের মেহেদিবাগে সামনাসামনি দুটি হাসপাতাল। একটি ন্যাশনাল হাসপাতাল, অন্যটি ম্যাক্স হাসপাতাল। দুটিই ব্যস্ত প্রতিষ্ঠান। প্রতিদিন হাজারের ওপর রোগীর ভার সামাল দিতে হিমশিম অবস্থা এই দুই হাসপাতালের। রোগী আর তার আত্মীয় স্বজনকে নিয়ে আসা গাড়ির কারণে এখানে দিন-রাত যানজট লেগে থাকে। দুটি হাসপাতালের একটিতেও নেই নিজস্ব পার্কিং ব্যবস্থা। ফুটপাতের অংশও ঢুকে গেছে হাসপাতালের পেটে। ফলে সরু রাস্তায় দিনরাত যানজটে ভোগান্তি পোহাতে হয় যাত্রী ও পথচারীদের।
মেহেদিবাগ এলাকার স্থানীয় বাসিন্দা তায়েফুল ইসলাম বলেন, বছরের পর বছর আমরা এ দুই হাসপাতালের যন্ত্রণায় অতিষ্ঠ। একটা হাসপাতালেরও পার্কিং নেই। সব গাড়ি এসে থামে সড়কের ওপর। এ হাসপাতালের সামনেই নতুন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর নগরের বাসভবন। তিনি যদি এ সমস্যা সমাধানে কোনো উদ্যোগ নেন, তাহলে বাঁচতে পারি।
নগরের চকবাজারে অলিখাঁ মসজিদ থেকে প্যারেড কর্নার পর্যন্ত কয়েকশ মিটারের মধ্যে অন্তত ১০টি ছোট-বড় শপিং মল। এক পাশে মতি কমপ্লেক্স, মতি টাওয়ার, সুবসতি সৈয়দ সেন্টার, গুলজার টাওয়ার, অন্যপাশে শাহানশাহ মার্কেট, শাহজাদা মার্কেট, অল্প কিছুদূর এগোলেই কেয়ারি ইলিশিয়ামসহ আরও একটি শপিং মল। এছাড়া একই এলাকায় ৪০/৫০টি কোচিং সেন্টারের হাজার হাজার শিক্ষার্থীর ভিড়। সবমিলিয়ে চকবাজার এলাকায় গাড়ি চলে কচ্ছপ গতিতে। এর ওপর গুলজার মোড় চার রস্তার সংযোগস্থল হওয়ায় যানজট এখানে আতঙ্কের নাম।
নগরের প্রবর্তক মোড়েও শপিংমলের যন্ত্রণা। এসব শপিং মলে এখন ঈদের তোড়জোড়। ব্যস্ত সড়কগুলোতে যাত্রীদের ঘণ্টার পর ঘণ্টা অসহায় বসে থাকতে হয়। এর অল্প দূরেই চট্টগ্রাম সরকারি মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল। হাসপাতাল সড়কের দুপাশ দখল হয়ে আছে হকারদের হাতে। তার সাথে যোগ হয়েছে বড় বড় ডায়াগনস্টিক সেন্টার। এসব ডায়াগনস্টিক সেন্টারেও প্রতিদিন শত শত গাড়ি আসে আর যায়। নিজস্ব পার্কিং ব্যবস্থা না থাকায় এখানেও যানজট চরম ভোগান্তির নাম।
নগরের সবচেয়ে ব্যস্ততম এলাকা আগ্রাবাদ। এটি বাণিজ্যিক এলাকা হওয়ায় অফিস ছুটির পর এখানে গণপরিবহণের জন্য রাস্তায় নেমে আসেন হাজার হাজার মানুষ। প্রাইভেট গাড়ির পাশাপাশি বাস টেম্পো, মোটরসাইকেল, হিউম্যান হলারের দীর্ঘ সারি। এত গাড়ির ভিড়ে যানজট ছাড়িয়ে যায় আগ্রাবাদ থেকে চৌমুহনী হয়ে দেওয়ান হাট পাড়ি দিয়ে টাইগার পাস ফেলে লালখান বাজার পর্যন্ত।
এছাড়া নগরের চট্টেশরী রোড, জামালখান, পাঁচলাইশ, কাতালগঞ্জ এলাকায় যানজটের অন্যতম কারণ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। জামালখান ছাড়া অন্যান্য এলাকায় বেশিরভাগ স্কুলই ইংলিশ মিডিয়াম। এসব প্রতিষ্ঠানের প্রায় সব শিক্ষার্থী ব্যক্তিগত গাড়ি ব্যবহার করেন। ফলে শত শত গাড়ি রাস্তায় পার্কিং করে স্কুল ছুটির জন্য অপেক্ষা করে। এতে করে যানজট ছড়িয়ে পড়ে সড়কের এক মাথা থেকে অন্য মাথা পর্যন্ত।
দক্ষিণ চট্টগ্রামের প্রবেশ পথ কর্ণফুলী সেতুকেন্দ্রিক যানজটে চরম ভোগান্তি পোহাতে হয় মানুষজনকে। এলোপাতাড়ি করে রাখা বাস আর পথে পথে যাত্রীর জন্য অপেক্ষা দুর্ভোগকে আরও বাড়িয়ে তুলে। যান নিয়ন্ত্রণে এখানে ট্রাফিক পুলিশ থাকলেও গাড়ির চাপে তাদের অনেকটা অসহায় সময় পার করতে হয়। চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ (সিএমপি) এবং সিটি কর্পোরেশন এখন যানজট নিয়ন্ত্রণে উদ্যোগ নিলেও কার্যত কোনো সুফল মিলেনি।
নষ্ট হচ্ছে শ্রমঘণ্টা
পরিবহন সংশ্লিষ্টদের হিসাব অনুযায়ী, নগরে প্রতিদিন গড়ে কয়েক লাখ মানুষ বিভিন্ন কর্মস্থল, ব্যবসা ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যাতায়াত করেন। যানজটের কারণে যদি প্রত্যেকে অতিরিক্ত গড়ে ৩০ থেকে ৬০ মিনিট সময় নষ্ট করতে হয়। প্রতিদিন সম্মিলিতভাবে কয়েক লাখ কর্মঘণ্টা নষ্ট হচ্ছে। এর সরাসরি প্রভাব পড়ছে উৎপাদনশীলতা, সেবা খাত ও ব্যবসায়িক কার্যক্রমে। ব্যবসায়ীরা জানান, পণ্যবাহী ট্রাক সময়মতো গন্তব্যে পৌঁছাতে না পারায় সরবরাহ ব্যবস্থায় বিঘ্ন ঘটছে। বিশেষ করে রমজানে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের চাহিদা বাড়ায় পরিবহন বিলম্ব বাজারমূল্যেও প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
পাশাপাশি যানজটে জ্বালানি অপচয়, যানবাহনের রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয় বৃদ্ধি এবং কর্মঘণ্টা ক্ষতির ফলে প্রতিদিন বিপুল অর্থনৈতিক ক্ষতি হচ্ছে। ব্যক্তিগত গাড়ি ও গণপরিবহণ দীর্ঘ সময় ইঞ্জিন চালু রেখে দাঁড়িয়ে থাকায় অতিরিক্ত জ্বালানি ব্যয় বাড়ছে। এতে পরিবেশ দূষণও তীব্র হচ্ছে। স্বাস্থ্যঝুঁকিও বাড়ছে সমানতালে। দীর্ঘ সময় যানবাহনে আটকে থাকায় রোজাদারদের মধ্যে পানিশূন্যতা, ক্লান্তি ও মানসিক চাপ বাড়ছে। জরুরি রোগীবাহী অ্যাম্বুলেন্সও অনেক সময় যানজটে আটকে পড়ছে।
সিএমপির উপপুলিশ কমিশনার (বন্দর) কবির আহম্মেদ বলেন, রমজানে সড়কে যানজট নিরসনে অতিরিক্ত ডেভলপমেন্ট রয়েছে। আমাদের মূল লক্ষ্য চট্টগ্রাম শহরের ট্রাফিক ব্যবস্থাপনাকে শৃঙ্খলার মধ্যে আনা। একটি শহরকে শৃঙ্খলভাবে পরিচালনার জন্য ২৫ শতাংশ সড়কের প্রয়োজন। তবে চট্টগ্রামে সড়ক আছে মাত্র ১০ শতাংশ। এ ক্ষেত্রে আমাদের প্রধান সমস্যা হচ্ছে, পার্কিংয়ের সংকট। অতি দ্রুত চট্টগ্রাম শহরে পার্কিং প্লেস নির্ধারণ করা জরুরি। অনেক সময় দেখা যায়, রাস্তার পাশে বিভিন্ন যে কমার্সিয়াল প্রতিষ্ঠান, মার্কেটগুলো আছে তারা তাদের যে পার্কিংগুলো আছে পার্কিংগুলোকে অকুপাইড করে রাখে অন্য কাজে। এগুলো উন্মুক্ত করা দরকার।
What's Your Reaction?