চট্টগ্রামে সনদহীন কারখানার অস্বাস্থ্যকর খাদ্যপণ্যের বিস্তার, স্বাস্থ্যঝুঁকিতে ভোক্তারা

চট্টগ্রাম মহানগরীতে সনদবিহীন কারখানায় খাদ্যপণ্য উৎপাদন, অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাবার প্রস্তুত এবং মেয়াদোত্তীর্ণ বা নিম্নমানের পণ্য বাজারজাত করার প্রবণতা উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, এতে একদিকে যেমন জনস্বাস্থ্য হুমকির মুখে পড়ছে, অন্যদিকে সরকারি রাজস্বও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, নগরীর বিভিন্ন এলাকায় বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশন (বিএসটিআই)-এর সার্টিফিকেশন মার্কস (সিএম) সনদ ও মোড়কজাত নিবন্ধন সনদ ছাড়াই কেক, পাউরুটি, বিস্কুটসহ বিভিন্ন বেকারি পণ্য উৎপাদন ও বাজারজাত করা হচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে উৎপাদন ও সংরক্ষণ প্রক্রিয়ায় স্বাস্থ্যবিধির ন্যূনতম মানও অনুসরণ করা হচ্ছে না। নগরীর বাকলিয়া, চকবাজার, চান্দগাঁও, পতেঙ্গাসহ বিভিন্ন এলাকায় গড়ে ওঠা কিছু নিবন্ধনহীন বেকারি ও খাদ্য উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানে বিস্কুট, কেক, বার্গার বান, পেস্ট্রি, কুকিজ, ডোনাট, ক্রসেন্ট, রোল ও প্যাটিসসহ নানা খাদ্যপণ্য তৈরি হচ্ছে। এসব পণ্যের অনেকগুলোই প্রয়োজনীয় অনুমোদন ছাড়াই বাজারে সরবরাহ করা হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, অনেক প্রতিষ্ঠান নিজেদের ইচ্ছামতো পণ্যের মেয়াদ

চট্টগ্রামে সনদহীন কারখানার অস্বাস্থ্যকর খাদ্যপণ্যের বিস্তার, স্বাস্থ্যঝুঁকিতে ভোক্তারা

চট্টগ্রাম মহানগরীতে সনদবিহীন কারখানায় খাদ্যপণ্য উৎপাদন, অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাবার প্রস্তুত এবং মেয়াদোত্তীর্ণ বা নিম্নমানের পণ্য বাজারজাত করার প্রবণতা উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, এতে একদিকে যেমন জনস্বাস্থ্য হুমকির মুখে পড়ছে, অন্যদিকে সরকারি রাজস্বও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, নগরীর বিভিন্ন এলাকায় বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশন (বিএসটিআই)-এর সার্টিফিকেশন মার্কস (সিএম) সনদ ও মোড়কজাত নিবন্ধন সনদ ছাড়াই কেক, পাউরুটি, বিস্কুটসহ বিভিন্ন বেকারি পণ্য উৎপাদন ও বাজারজাত করা হচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে উৎপাদন ও সংরক্ষণ প্রক্রিয়ায় স্বাস্থ্যবিধির ন্যূনতম মানও অনুসরণ করা হচ্ছে না।

নগরীর বাকলিয়া, চকবাজার, চান্দগাঁও, পতেঙ্গাসহ বিভিন্ন এলাকায় গড়ে ওঠা কিছু নিবন্ধনহীন বেকারি ও খাদ্য উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানে বিস্কুট, কেক, বার্গার বান, পেস্ট্রি, কুকিজ, ডোনাট, ক্রসেন্ট, রোল ও প্যাটিসসহ নানা খাদ্যপণ্য তৈরি হচ্ছে। এসব পণ্যের অনেকগুলোই প্রয়োজনীয় অনুমোদন ছাড়াই বাজারে সরবরাহ করা হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, অনেক প্রতিষ্ঠান নিজেদের ইচ্ছামতো পণ্যের মেয়াদ নির্ধারণ করছে। তবে সেই মেয়াদও যথাযথভাবে অনুসরণ করা হচ্ছে না। ফলে কখনো কখনো মেয়াদোত্তীর্ণ বা মানহীন পণ্যও বাজারে থেকে যাচ্ছে।

নগরীর অভিজাত রেস্তোরাঁ থেকে শুরু করে অলিগলির ছোট দোকান এবং রাস্তার পাশের খাবারের স্টলগুলোতেও এসব পণ্যের ব্যাপক ব্যবহার দেখা যায়। এতে সাধারণ ভোক্তারা অজান্তেই স্বাস্থ্যঝুঁকির মুখে পড়ছেন।

স্বাস্থ্য ও পুষ্টিবিজ্ঞানীদের মতে, নিম্নমানের, ভেজাল ও মেয়াদোত্তীর্ণ খাদ্যপণ্য নিয়মিত গ্রহণ করলে তাৎক্ষণিকভাবে ফুড পয়জনিং, ডায়রিয়া ও হজমজনিত সমস্যা দেখা দিতে পারে। দীর্ঘমেয়াদে এসব খাদ্য লিভার ও কিডনির ক্ষতি, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা হ্রাস এবং ক্যানসারের মতো জটিল রোগের ঝুঁকি বাড়াতে পারে। বিশেষ করে খাবারে ব্যবহৃত ক্ষতিকর রাসায়নিক ও বিষাক্ত রং মানবদেহের কোষে জিনগত পরিবর্তন ঘটিয়ে মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকি সৃষ্টি করতে পারে।

এদিকে দীর্ঘদিন ধরেই চট্টগ্রামের ভোক্তাদের অভিযোগ, বিভিন্ন মিষ্টি ও দুগ্ধজাত পণ্য উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের অনেকেই ওজন ও পরিমাপের ক্ষেত্রে নির্ধারিত মান বজায় রাখছে না। এতে ক্রেতারা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।

চট্টগ্রাম বিভাগীয় বিএসটিআইয়ের সহকারী পরিচালক রিগ্যান বৈদ্য বলেন, ‘বিএসটিআইয়ের সার্টিফিকেশন মার্কস (সিএম) সনদ এবং মোড়কজাত নিবন্ধন সনদ ছাড়া কেক, পাউরুটি ও বিস্কুট উৎপাদন ও বাজারজাত করা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ।’

তিনি জানান, ওজন ও পরিমাপ মানদণ্ড আইন, ২০১৮-এর ২৪(১) ধারা অনুযায়ী পণ্যের ওজন ও পরিমাণ সঠিক না হলে ৪১ ধারার আওতায় অপরাধ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে এক বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড, এক লাখ টাকা পর্যন্ত অর্থদণ্ড অথবা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত করা যেতে পারে।

নগরীর চকবাজার এলাকার বাসিন্দা আবু সাঈদ বলেন, ‘অনেক নিবন্ধনহীন কারখানায় অত্যন্ত অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাদ্যপণ্য তৈরি ও সংরক্ষণ করা হয়। ফলে আমরা ভোক্তারা টাকা খরচ করেও প্রতারিত হচ্ছি এবং স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়ছি।’

চট্টগ্রাম জেলা কার্যালয়ের জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মাহমুদা আক্তার বলেন, ‘জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা ও নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে নিয়মিত বাজার তদারকি কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। প্রতিষ্ঠানগুলোকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে খাদ্য প্রস্তুত ও পরিবেশনের নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে। সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে সত্যতা পাওয়া গেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়।’

কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব) চট্টগ্রাম বিভাগের সভাপতি এস এম নাজের হোসাইন বলেন, ‘ভেজাল ও নিম্নমানের খাদ্যপণ্য বাজারজাতকরণের প্রবণতা রোধে বিএসটিআই, ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর, জেলা প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্ট সব নিয়ন্ত্রক সংস্থাকে আরও সক্রিয় হতে হবে। নিয়মিত ওজন ও পরিমাপ যাচাই, নিবন্ধন তদারকি এবং খাদ্যের মান পরীক্ষার মাধ্যমে ভোক্তাদের স্বার্থ নিশ্চিত করতে হবে।’

সংশ্লিষ্টদের মতে, জনস্বাস্থ্য রক্ষায় সনদবিহীন খাদ্য উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান চিহ্নিত করে নিয়মিত নজরদারি ও কঠোর আইন প্রয়োগের পাশাপাশি ভোক্তাদের মধ্যেও সচেতনতা বৃদ্ধি জরুরি। অন্যথায় নিম্নমানের ও অস্বাস্থ্যকর খাদ্যপণ্যের বিস্তার আরও বড় জনস্বাস্থ্য সংকটে রূপ নিতে পারে।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow