চবি ল্যাবরেটরী স্কুলে পরীক্ষা বর্জন, অধ্যক্ষ কক্ষে তালা-মানববন্ধন

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় (চবি) শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের অধীন ল্যাবরেটরি স্কুল অ্যান্ড কলেজে শিক্ষক অপসারণ ও নতুন নিয়োগকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। পুরোনো ১১ জন শিক্ষককে পুনর্বহালের দাবিতে পরীক্ষা বর্জন, অধ্যক্ষের কক্ষে তালা ঝুলানো এবং মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছে শিক্ষার্থীরা। বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) সকাল ১১টায় প্রথম বর্ষের অর্ধবার্ষিক আইসিটি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। তবে পরীক্ষার নির্ধারিত সময়ে শিক্ষার্থীরা হলে গিয়ে দেখেন, দীর্ঘদিন ধরে পাঠদান করা শিক্ষকদের পরিবর্তে নতুন শিক্ষকরা উপস্থিত রয়েছেন। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে তারা পরীক্ষা বর্জনের ঘোষণা দেন এবং শ্রেণিকক্ষ ত্যাগ করেন। পরে একদল শিক্ষার্থী অধ্যক্ষের কক্ষে গিয়ে জানতে চান, কেন পুরোনো শিক্ষকদের বাদ দেওয়া হয়েছে। সন্তোষজনক ব্যাখ্যা না পেয়ে তারা অধ্যক্ষের কক্ষে তালা ঝুলিয়ে দেন। একই সঙ্গে কয়েকটি ক্লাসরুমেও তালা দেওয়া হয়। এ সময় দুটি কক্ষে শিক্ষকসহ শিক্ষার্থীরা অবস্থান করছিলেন বলে জানা গেছে। এরপর প্রথম বর্ষের একাংশ ও দ্বিতীয় বর্ষের কিছু শিক্ষার্থী কলেজের সামনে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে বিশ্ববিদ্যা

চবি ল্যাবরেটরী স্কুলে পরীক্ষা বর্জন, অধ্যক্ষ কক্ষে তালা-মানববন্ধন

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় (চবি) শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের অধীন ল্যাবরেটরি স্কুল অ্যান্ড কলেজে শিক্ষক অপসারণ ও নতুন নিয়োগকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। পুরোনো ১১ জন শিক্ষককে পুনর্বহালের দাবিতে পরীক্ষা বর্জন, অধ্যক্ষের কক্ষে তালা ঝুলানো এবং মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছে শিক্ষার্থীরা।

বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) সকাল ১১টায় প্রথম বর্ষের অর্ধবার্ষিক আইসিটি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। তবে পরীক্ষার নির্ধারিত সময়ে শিক্ষার্থীরা হলে গিয়ে দেখেন, দীর্ঘদিন ধরে পাঠদান করা শিক্ষকদের পরিবর্তে নতুন শিক্ষকরা উপস্থিত রয়েছেন। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে তারা পরীক্ষা বর্জনের ঘোষণা দেন এবং শ্রেণিকক্ষ ত্যাগ করেন।

পরে একদল শিক্ষার্থী অধ্যক্ষের কক্ষে গিয়ে জানতে চান, কেন পুরোনো শিক্ষকদের বাদ দেওয়া হয়েছে। সন্তোষজনক ব্যাখ্যা না পেয়ে তারা অধ্যক্ষের কক্ষে তালা ঝুলিয়ে দেন। একই সঙ্গে কয়েকটি ক্লাসরুমেও তালা দেওয়া হয়। এ সময় দুটি কক্ষে শিক্ষকসহ শিক্ষার্থীরা অবস্থান করছিলেন বলে জানা গেছে।

এরপর প্রথম বর্ষের একাংশ ও দ্বিতীয় বর্ষের কিছু শিক্ষার্থী কলেজের সামনে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর হোসেন শহীদ সরওয়ার্দী ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলেন।

শিক্ষার্থীদের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে পাঠদান করা ১১ জন শিক্ষককে নিজ নিজ শ্রেণিতে ফিরিয়ে আনতে হবে। অন্যথায় আন্দোলন অব্যাহত থাকবে।

একাদশ শ্রেণির বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী মো. নাঈম হাসান বলেন, ‘প্রথম পরীক্ষায় যেসব স্যারদের পেয়েছিলাম, আজ এসে দেখি তারা নেই। নতুন স্যাররা এসেছেন। আমরা বিষয়টি জানতে চাইলে অধ্যক্ষ বলেন, তিনি কিছু জানেন না। প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো আশ্বাস পাইনি। পুরোনো শিক্ষকদের ফিরিয়ে না আনা পর্যন্ত আন্দোলন চলবে।’

নবনিযুক্ত অধ্যক্ষ মো. আব্দুল কাইয়ুম বলেন, ‘কলেজের ১১ জন শিক্ষক ৫ ফেব্রুয়ারি থেকে যুক্ত হয়েছেন। আগের শিক্ষকরা কেন অব্যাহতি পেয়েছেন, সে বিষয়ে আমি কিছু বলতে পারব না। আমরা সমন্বয়ের মাধ্যমে একাডেমিক কার্যক্রম স্বাভাবিক রাখার চেষ্টা করছি।’

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর হোসেন শহীদ সরওয়ার্দী বলেন, শিক্ষার্থীরা যেসব শিক্ষককে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে তাদের ফেরানোর দাবি জানিয়েছে। বিষয়টি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের নজরে আনা হবে।

ল্যাবরেটরি স্কুল অ্যান্ড কলেজ সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটিতে মোট ৩৬ জন শিক্ষক কর্মরত রয়েছেন। নতুন নিযুক্ত শিক্ষক ও অধ্যক্ষসহ ১১ জন রয়েছেন, যাদের মধ্যে দুজন পূর্বেও কর্মরত ছিলেন।

উল্লেখ্য, গত ৮ ফেব্রুয়ারি খণ্ডকালীন ভিত্তিতে নিয়োজিত শিক্ষকদের চাকরির মেয়াদ অবসায়ন করে তাদের চিঠি দেয় বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার। এ সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে অসন্তোষের সৃষ্টি হয়েছে।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow