চবিতে বন্ধ হচ্ছে না বহিরাগত বাইক চলাচল
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে (চবি) বহিরাগত মোটরসাইকেল চলাচলের ওপর প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞা থাকলেও বাস্তবে তা কার্যকর হচ্ছে না। একাধিক নোটিশ জারি করা হলেও ক্যাম্পাসে বহিরাগত বাইকের অবাধ যাতায়াত বন্ধ করা যায়নি। ফলে ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা ও চলাচল নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ২০২৪ সালের ১৩ মে চবি প্রক্টরের নির্দেশে ক্যাম্পাসে বহিরাগত মোটরসাইকেল চলাচলের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়। তবে প্রায় এক বছর পেরিয়ে গেলেও সেই নির্দেশনা বাস্তবে কার্যকর হয়নি। বিশেষ করে ছুটির দিন ও বিভিন্ন উৎসবের সময় বহিরাগত বাইকারদের উপস্থিতি আরও বেশি দেখা যায়। ক্যাম্পাসে ভারী যানবাহন চলাচল সীমিত থাকা, তুলনামূলক নিরাপদ পরিবেশ এবং প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের কারণে অনেক বহিরাগত বাইকার ক্যাম্পাসে প্রবেশ করছেন বলে জানা গেছে। কিন্তু বেপরোয়া গতিতে মোটরসাইকেল চালানোর কারণে শিক্ষার্থীদের চলাচলে দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ছে। বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, প্রধান ফটক ছাড়াও উত্তর ক্যাম্পাসের প্যাডোগার পার্শ্ববর্তী তিন রাস্তার মোড়, ২ নম্বর গেট, মামুন পাঠাগার সংলগ্ন সড়ক, সোহরাওয়ার্দী হল সংলগ্ন রাস্তা, পুলিশ পাড়ি এবং ন
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে (চবি) বহিরাগত মোটরসাইকেল চলাচলের ওপর প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞা থাকলেও বাস্তবে তা কার্যকর হচ্ছে না। একাধিক নোটিশ জারি করা হলেও ক্যাম্পাসে বহিরাগত বাইকের অবাধ যাতায়াত বন্ধ করা যায়নি। ফলে ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা ও চলাচল নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ২০২৪ সালের ১৩ মে চবি প্রক্টরের নির্দেশে ক্যাম্পাসে বহিরাগত মোটরসাইকেল চলাচলের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়। তবে প্রায় এক বছর পেরিয়ে গেলেও সেই নির্দেশনা বাস্তবে কার্যকর হয়নি। বিশেষ করে ছুটির দিন ও বিভিন্ন উৎসবের সময় বহিরাগত বাইকারদের উপস্থিতি আরও বেশি দেখা যায়।
ক্যাম্পাসে ভারী যানবাহন চলাচল সীমিত থাকা, তুলনামূলক নিরাপদ পরিবেশ এবং প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের কারণে অনেক বহিরাগত বাইকার ক্যাম্পাসে প্রবেশ করছেন বলে জানা গেছে। কিন্তু বেপরোয়া গতিতে মোটরসাইকেল চালানোর কারণে শিক্ষার্থীদের চলাচলে দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ছে।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, প্রধান ফটক ছাড়াও উত্তর ক্যাম্পাসের প্যাডোগার পার্শ্ববর্তী তিন রাস্তার মোড়, ২ নম্বর গেট, মামুন পাঠাগার সংলগ্ন সড়ক, সোহরাওয়ার্দী হল সংলগ্ন রাস্তা, পুলিশ পাড়ি এবং নীপবন স্কুল সংলগ্ন রাস্তা- এমন অন্তত ২১টি পয়েন্ট দিয়ে বহিরাগত মোটরসাইকেল ক্যাম্পাসে প্রবেশ করছে। এ কারণে একাধিক দুর্ঘটনার ঘটনাও ঘটেছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
নৃবিজ্ঞান বিভাগের ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী মো. মনিরুজ্জামান রাজ সম্প্রতি এমনই এক দুর্ঘটনার শিকার হন। তিনি বলেন, বিজয় উদ্যানের দিকে রাস্তার এক পাশ দিয়ে হাঁটার সময় দুইজন বহিরাগত মোটরসাইকেল চালক আমাকে ধাক্কা দেয়। তারা নতুন চালক ছিল। এমন ব্যস্ত রাস্তায় তাদের গতি ছিল ঘণ্টায় ৫০-৬০ কিলোমিটার। ধাক্কা খেয়ে আমি রাস্তার পাশে ছিটকে পড়ে যাই। পরে আমাকে চবি মেডিকেলে নেওয়া হয়। আল্লাহর রহমতে বড় কোনো ক্ষতি হয়নি।
বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা কর্মীরা জানান, প্রধান ফটকে বহিরাগত মোটরসাইকেল চালকদের প্রবেশে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করা হলেও অনেক সময় শিক্ষার্থীদের কারণে তা সম্ভব হয় না।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক নিরাপত্তাকর্মী বলেন, আমরা কাউকে বহিরাগত মনে হলে আইডি কার্ড দেখাতে বলি। তখন অনেকেই আমাদের সঙ্গে খারাপ আচরণ করে। অনেক সময় বহিরাগত হলেও ভেতরের পরিচিত শিক্ষার্থীরা তাদের পরিচয় দিয়ে ঢুকিয়ে দেয়।
চবি প্রক্টর হোসেন শহীদ সরওয়ার্দী বলেন, নিষেধাজ্ঞা থাকলেও এটি কার্যকর করা কঠিন হয়ে পড়ছে। অনেক সময় শিক্ষার্থীদের অসহযোগিতা থাকে। একই সঙ্গে রাজনৈতিক ও স্থানীয় প্রভাবও রয়েছে।
এদিকে শিক্ষার্থীদের যাতায়াত সমস্যাও দীর্ঘদিন ধরে রয়ে গেছে। সম্প্রতি ক্যাম্পাসে ই-কার চালু হওয়ায় কিছুটা স্বস্তি মিললেও তা পর্যাপ্ত নয়। চাকসুর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ডিসেম্বর থেকে ২৫-৩০টি জো-বাইক চালুর কথা থাকলেও এখনো তা চালু হয়নি। এছাড়া মিনিটপ্রতি ৩ টাকা ভাড়ায় ইলেকট্রিক স্কুটার চলতি বছরের ১৫ ফেব্রুয়ারি থেকে মার্চের মধ্যে চালুর ঘোষণা দেওয়া হলেও সেটিও এখনো বাস্তবায়ন হয়নি।
বর্তমানে ক্যাম্পাসে মোট ১২টি ই-কার চালু রয়েছে। এর মধ্যে ৬টি চাকসু নির্বাচনের আগেই চালু ছিল। বাকি ৬টি ই-কার প্রশাসনের সহযোগিতায় চাকসুর প্রতিনিধিদের শপথ গ্রহণের পরদিন, গত ২৪ অক্টোবর চালু করা হয়। ই-কার চালুর ক্ষেত্রে চাকসুর ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন অনেক শিক্ষার্থী।
চবি প্রক্টর বলেন, চাকসুর শপথ গ্রহণের আগেই অধিকাংশ ই-কার চালু হয়েছিল। তাই এতে চাকসুর অবদান কতটা তা সুনির্দিষ্ট করে বলা কঠিন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (প্রশাসনিক) অধ্যাপক কামাল উদ্দিন বলেন, দায়িত্ব নেওয়ার পর আমরা পরিবেশবান্ধব ই-কার চালুর ঘোষণা দিয়েছিলাম। সেই ধারাবাহিকতায় ক্যাম্পাসে ১২টি ই-কার চালু হয়েছে। এজন্য আমরা চীনে গিয়ে মা এন্টারপ্রাইজের সঙ্গে ৩০টি ই-কার আনার চুক্তি করেছি।
তবে চাকসুর সহযোগাযোগ ও আবাসনবিষয়ক সম্পাদক ওবাইদুল সালমান বলেন, ই-কার চালুর ক্ষেত্রে আমরা সমন্বয়ের কাজ করেছি। বিশেষ করে ভাড়া নির্ধারণ ও রুট ঠিক করার ক্ষেত্রে চাকসুর ভূমিকা ছিল।
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের প্রধান পরিবহন শাটল ট্রেনেও নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে। সম্প্রতি শাটলে পাথর নিক্ষেপের ঘটনায় এক শিক্ষার্থীর হাতের হাড় ভেঙে যাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। যদিও শুরুতে শাটলে বহিরাগত শনাক্তে অভিযান চালানো হয়েছিল, বর্তমানে সেই কার্যক্রমও বন্ধ রয়েছে।
ওবাইদুল সালমান বলেন, শাটলকে বহিরাগতমুক্ত রাখতে শুরু থেকেই আমরা অভিযান পরিচালনা করেছি। কিছু সময়ের জন্য এটি বন্ধ থাকলেও খুব দ্রুতই আবার অভিযান শুরু করা হবে।
শাটলে পাথর নিক্ষেপের ঘটনা প্রতিরোধে প্রতিমাসে জনসচেতনতা বৃদ্ধির জন্য লিফলেট বিতরণের কথাও জানিয়েছে চাকসু। তবে অনেক শিক্ষার্থী এ বিষয়ে অবগত নন।
What's Your Reaction?