চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে (চবি) শহীদ ফরহাদ হোসেন হল সংসদের কার্যালয়ের নামে একাধিক কক্ষ বরাদ্দ করে রাখার অভিযোগ উঠেছে। এতে আবাসিক শিক্ষার্থীদের জন্য নির্ধারিত অন্তত দুটি কক্ষের আটটি সিট দীর্ঘদিন ধরে খালি পড়ে আছে বলে জানা গেছে।
এদিকে, দুটি কক্ষ খালি রেখেই হাউস টিউটরদের রুমে অস্থায়ীভাবে ছাত্র সংসদের কার্যক্রম পরিচালনা করছে বলে জানিয়েছে ছাত্র সংসদ। পাশাপাশি হল চালু হওয়ার ৯ মাস পার হলেও কয়েকটি সিট ফাঁকা রাখার অভিযোগও উঠেছে।
হল সূত্রে জানা যায়, ছাত্র সংসদের জন্য একটি কক্ষ বরাদ্দ দেওয়ার কথা ছিল। হলের ‘সি’ ব্লকের ১০৮ নম্বর কক্ষটি হল সংসদের জন্য বরাদ্দ থাকলেও শপথ গ্রহণের চার মাস পেরিয়ে গেলেও সেখানে কোনো কার্যক্রম শুরু হয়নি। এদিকে, একটি কক্ষ খালি থাকা সত্ত্বেও সংসদের নামে নতুন কক্ষ নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, ‘এ’ ব্লকের ১০৫ নম্বর কক্ষটি চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে হল সংসদের নামে খালি করা হয় এবং রুমের শিক্ষার্থীদের অন্য রুমে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। তবে, প্রায় দেড় মাস পার হলেও ওই কক্ষে কোনো কার্যক্রম শুরু হয়নি। ফলে সংসদের নামে নেওয়া দুটি কক্ষই খালি পড়ে আছে। এদিকে, এই দুটি কক্ষ ফাঁকা রেখেই হাউস টিউটরদের রুমে অস্থায়ীভাবে ছাত্র সংসদের কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে বলে জানান ছাত্র সংসদের প্রতিনিধিরা। তবে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, সেখানে ছাত্র সংসদের কার্যক্রম পরিচালনার মতো কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেই।
এছাড়াও, হল চালুর ৯ মাস অতিবাহিত হলেও ‘এ’ ব্লকের ১০২ নম্বর কক্ষের ‘ডি’ নম্বর সিটসহ আরও কয়েকটি সিট ফাঁকা রাখা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এসব সিট ফাঁকা থাকার সুযোগে সেখানে অবৈধভাবে শিক্ষার্থী অবস্থান এবং মাদক সেবনের অভিযোগও উঠেছিল। অথচ, দীর্ঘদিন ধরে খালি থাকা সত্ত্বেও এখনো এসব সিট বৈধ শিক্ষার্থীদের মধ্যে বরাদ্দ দেওয়া হয়নি।
সক্রিয় ৯ হল সংসদ :
হল সংসদ চালুর চার মাস অতিবাহিত হলেও উল্লেখযোগ্য কোনো কার্যক্রম না হওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ সময়ে মাত্র একটি কার্যনির্বাহী সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সংসদের জন্য এখন পর্যন্ত কোনো বাজেট বরাদ্দ দেওয়া হয়নি। বিশ্ববিদ্যালয়ের সবচেয়ে বড় হল হিসেবে খ্যাত এই হলে বর্তমানে রয়েছে মাত্র একটি সিসিটিভি ক্যামেরা, যা শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অপর্যাপ্ত বলে মনে করছেন অনেকে। হলে নেই পর্যাপ্ত ইন্টারনেট সুবিধা। হল চালু হওয়ার পর থেকেই সংকট রয়েছে বিশুদ্ধ পানির, নেই পর্যাপ্ত পানি ফিল্টারের ব্যবস্থাও।
যদিও হল সংসদের পক্ষ থেকে লিফট স্থাপন, খেলার মাঠ উন্নয়ন, নতুন মসজিদ স্থাপন এবং সুইমিংপুল সংস্কারের কথা বলা হয়েছে, তবে এসব প্রকল্পের অধিকাংশই আগে থেকেই বাজেটভুক্ত ও পরিকল্পনাধীন ছিল। ফলে, হল সংসদের উদ্যোগে নতুন কোনো দৃশ্যমান উন্নয়ন হয়নি বলে অভিযোগ শিক্ষার্থীদের।
শহীদ ফরহাদ হোসেন হল সংসদের ভিপি শরিফুল ইসলাম বলেন, আমাদের এখনো কোনো নির্দিষ্ট বাজেট বরাদ্দ দেওয়া হয়নি। তবে নির্দিষ্ট কাজের ক্ষেত্রে আবেদন করলে অর্থ পাওয়া যায়। বর্তমানে অনির্দিষ্টভাবে হাউজ টিউটরদের রুমে ছাত্র সংসদের কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। আগের প্রভোস্টের সময়ে ১০৮ নম্বর কক্ষটি ছাত্র সংসদের জন্য বরাদ্দ থাকার কথা থাকলেও পরবর্তীতে আমরা সব অফিস ‘এ’ ব্লকে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিই। সে অনুযায়ী ১০৫ নম্বর কক্ষটি খালি করা হয়েছে। সামনে ১০৮ নম্বর কক্ষে অ্যালটমেন্টের মাধ্যমে শিক্ষার্থী তোলা হবে এবং ১০৫ নম্বর কক্ষে অফিস কার্যক্রম চালানো হবে। এতদিন ছাত্র সংসদের কক্ষ কার্যকরভাবে চালু করা যায়নি মূলত অবকাঠামোগত কাজ শেষ না হওয়ায়।
ফাঁকা সিটের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, শুধু ১০২ নম্বর কক্ষের ‘ডি’ সিট নয়, এর বাইরেও কয়েকটি সিট ফাঁকা রয়েছে। এগুলো আগের প্রভোস্ট ফাঁকা রেখেছিলেন। সামনে অ্যালটমেন্টের মাধ্যমে এসব সিট পূরণ করা হবে।
পরিকল্পনার বিষয়ে তিনি বলেন, পরিকল্পনা ও বাজেট আগে থেকে থাকলেও ছাত্র সংসদ না হলে এসব কাজ এত সহজে বাস্তবায়ন করা সম্ভব হতো না। আমরা নিজেরাও কয়েকটি উদ্যোগ নিয়েছি। সিসিটিভি ক্যামেরার বিষয়েও আমরা গুরুত্ব দিচ্ছি। গতকাল ইউজিসি থেকে আসা সদস্যদের বিষয়টি জানিয়েছি। পাশাপাশি হলে ইন্টারনেট সংযোগ ও পানির সমস্যার কথাও তাদের জানানো হয়েছে।
শহীদ ফরহাদ হোসেন হলের প্রভোস্ট ড. এইচ এস ফারুক আলম বলেন, ছাত্র সংসদের জন্য ১০৫ নম্বর কক্ষ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে এবং কয়েকদিনের মধ্যেই তা চালু করা হবে। ১০৮ নম্বর কক্ষে শিক্ষার্থী তোলা হবে। অবকাঠামোগত কারণে এতদিন সংসদের জন্য আলাদা কক্ষ কার্যকর করা সম্ভব হয়নি। হাউজ টিউটরদের রুমে কোনো ছাত্র সংসদের কক্ষ নেই। প্রথম সভাটিও প্রভোস্টের রুমেই অনুষ্ঠিত হয়েছে।
খালি সিটের বিষয়ে তিনি বলেন, কয়েকটি সিট খালি রয়েছে। আমি নতুন দায়িত্ব পেয়েছি। আমি চাইলেই ফিলাপ করতে পারি না এখন এগুলো অ্যালটমেন্টের মাধ্যমে দেওয়া হবে।
হলের সাবেক প্রভোস্ট ড. মো. আব্দুল মান্নান সিট খালি থাকার বিষয়ে বলেন, কিছু টেকনিক্যাল সমস্যার কারণে কয়েকটি সিট ফাঁকা রাখা হয়েছিল। বিষয়টি কেন্দ্রীয় আসন বিন্যাস কমিটির এখতিয়ারভুক্ত। আমার দায়িত্ব গ্রহণের পর যে সংখ্যক শিক্ষার্থীর নাম লিস্টভুক্ত ছিল, তাদের সবাইকে যথাযথভাবে সিট বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।