চর দখলের চেষ্টা
নোয়াখালীর হাতিয়া উপজেলায় চরের সরকারি খাস জায়গা দখলের চেষ্টাকালে অভিযান চালিয়েছে প্রশাসন। এ সময় ঘটনাস্থল থেকে দুজনকে আটক করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (০৮ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় উপজেলার বুড়িরচর ইউনিয়নের রহমত বাজার পর্যটন এলাকা সংলগ্ন চরে এ ঘটনা ঘটে। আটক ব্যক্তিরা হলেন- চরকিং ইউনিয়নের মৃত আব্দুর রশিদের ছেলে মোহাম্মদ আবুল কাশেম এবং চরইশ্বর ইউনিয়নের মোবাশ্বের আহমেদের ছেলে মোহাম্মদ হাশেম। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, একটি ভূমিহীন সংগঠনের ব্যানারে একটি চক্র কিছু মানুষকে ওই এলাকায় নিয়ে আসে। তারা টাকার বিনিময়ে জমি বুঝিয়ে দেওয়ার কথা বলে সকাল থেকেই জায়গা পরিমাপ ও স্লিপ বিতরণের কার্যক্রম শুরু করে। বন বিভাগ প্রথমে বাধা দিলেও দখলকারীরা তা উপেক্ষা করে কার্যক্রম চালিয়ে যেতে থাকে। এ খবর ছড়িয়ে পড়লে বিকেলে সেখানে বিপুলসংখ্যক মানুষের সমাগম ঘটে। তবে জমি বুঝিয়ে দিতে ব্যর্থ হওয়ায় উপস্থিত লোকজনের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। পরবর্তীতে বন বিভাগের অনুরোধে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নেতৃত্বে প্রশাসনের একটি দল ঘটনাস্থলে অভিযান পরিচালনা করে। প্রশাসনের উপস্থিতি টের পেয়ে দখলকারীরা দিগ্বিদিক ছুটে পালিয়ে যায়। তবে এ সময় দুইজনকে আ
নোয়াখালীর হাতিয়া উপজেলায় চরের সরকারি খাস জায়গা দখলের চেষ্টাকালে অভিযান চালিয়েছে প্রশাসন। এ সময় ঘটনাস্থল থেকে দুজনকে আটক করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (০৮ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় উপজেলার বুড়িরচর ইউনিয়নের রহমত বাজার পর্যটন এলাকা সংলগ্ন চরে এ ঘটনা ঘটে।
আটক ব্যক্তিরা হলেন- চরকিং ইউনিয়নের মৃত আব্দুর রশিদের ছেলে মোহাম্মদ আবুল কাশেম এবং চরইশ্বর ইউনিয়নের মোবাশ্বের আহমেদের ছেলে মোহাম্মদ হাশেম।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, একটি ভূমিহীন সংগঠনের ব্যানারে একটি চক্র কিছু মানুষকে ওই এলাকায় নিয়ে আসে। তারা টাকার বিনিময়ে জমি বুঝিয়ে দেওয়ার কথা বলে সকাল থেকেই জায়গা পরিমাপ ও স্লিপ বিতরণের কার্যক্রম শুরু করে। বন বিভাগ প্রথমে বাধা দিলেও দখলকারীরা তা উপেক্ষা করে কার্যক্রম চালিয়ে যেতে থাকে। এ খবর ছড়িয়ে পড়লে বিকেলে সেখানে বিপুলসংখ্যক মানুষের সমাগম ঘটে। তবে জমি বুঝিয়ে দিতে ব্যর্থ হওয়ায় উপস্থিত লোকজনের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়।
পরবর্তীতে বন বিভাগের অনুরোধে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নেতৃত্বে প্রশাসনের একটি দল ঘটনাস্থলে অভিযান পরিচালনা করে। প্রশাসনের উপস্থিতি টের পেয়ে দখলকারীরা দিগ্বিদিক ছুটে পালিয়ে যায়। তবে এ সময় দুইজনকে আটক করা হয় এবং তাদের ব্যবহৃত একটি ট্রলার জব্দ করা হয়।
আরও জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে ‘হাতিয়া নদীভাঙা পুনর্বাসন বহুমুখী সমবায় সমিতি লিমিটেড’ নামের একটি সংগঠন নির্দিষ্ট অর্থের বিনিময়ে মানুষকে সদস্যভুক্ত করে আসছিল। আজ তালিকাভুক্ত সদস্যদের মাঝে জমি বুঝিয়ে দেওয়ার কার্যক্রম শুরু করা হলে প্রশাসনের অভিযান চালানো হয়।
স্থানীয় পল্লী চিকিৎসক ফাহাদুল ইসলাম পাবেল বলেন, রহমতবাজার পর্যটন এলাকার পাশে এই চরটি দখল করার জন্য একটি সংঘবদ্ধ চক্র কাজ করছিল। প্রশাসন যদি আজকে অভিযান না করতো তাহলে জাগলার চরের মতো এখানেও হতাহতের ঘটনা ঘটতো।
এ বিষয়ে সংগঠনটির সভাপতি মো. আবুল কাশেমের সঙ্গে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি কল রিসিভ করেননি।
হাতিয়া থানার ওসি মো. সাইফুল আলম বলেন, পর্যটন কেন্দ্র দখলের চেষ্টার খবর পেয়ে ইউএনওর সঙ্গে ঘটনাস্থলে যাই। অভিযানের সময় দুজনকে আটক করা হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
হাতিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আলাউদ্দিন বলেন, এটি সরকারি খাস জমি, যা এখনো বন্দোবস্ত দেওয়া হয়নি। কিছু লোক জোরপূর্বক দখলের চেষ্টা করছিল। ঘটনাস্থল থেকে দুজনকে আটক করা হয়েছে এবং তাদের বিরুদ্ধে মামলা করা হবে। কেউ অবৈধভাবে দখল ও বাণিজ্যের চেষ্টা করলে কঠিন ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
What's Your Reaction?