আদিকাল থেকেই ‘চরিত্র হনন’ মানবাত্মার এক ধরনের নৈতিক ব্যাধি হিসেবে পরিচিত, যা মানবসভ্যতায় গভীরভাবে প্রোথিত রয়েছে। এই নৈতিক ব্যাধি যখন অনিয়ন্ত্রিতভাবে বিস্তার লাভ করে তখন তা সমাজের সর্বস্তরে মহামারির মতো ছড়িয়ে পড়ে। মানুষের অন্তর্জগতের সাথে সম্পর্কিত বলেই এটি দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং নিঃশব্দে মানুষের মানবিকতা ও মূল্যবোধের ভিতকে ধ্বংস করতে থাকে। প্রায় সকল ধর্মগ্রন্থ, ধর্মতাত্ত্বিক আলোচনা ও নৈতিক শিক্ষায় মানুষকে এ বিষয়ে সতর্ক করা হয়েছে, যেন এ মহামারির ধ্বংসযজ্ঞ থেকে তারা নিজেদের রক্ষা করতে পারে।
ধর্মীয় প্রেক্ষাপটে প্রাচীন ইতিহাসের দিকে ফিরে তাকালে আমরা এমন কিছু ঘটনা দেখতে পাব, যা গভীর আলোড়ন সৃষ্টি করে; নবী হযরত ইউসুফ (আ.)-এর ঘটনা তেমনি একটি উদাহরণ। হযরত ইউসুফ (আ.) পবিত্রতা ও নৈতিকতার অধিকারী হওয়া সত্ত্বেও তাকে ‘চরিত্র হনন’-এর মতো নির্মম ট্রাজেডির শিকার হতে হয়েছিল। হযরত ইউসুফ (আ.)- এর সাথে সম্পর্কিত জুলেখার ঘটনাটি আমাদের প্রায় সবারই জানা আছে। একটি মিথ্যা অভিযোগ কিভাবে একজন মানুষের সম্মান ধুলোয় মিশাতে পারে, তার একটি নিকৃষ্ট উদাহরণ এই ঘটনা। ‘চরিত্র হনন’ শব্দটি সমাজে প্রচলিত হবার বহু আগেই হযরত ইউসুফ (আ.)-কে এই নিকৃষ্ট ঘটনার অমানবিক আচরণের কারণে ভুক্তভোগী হতে হয়েছে। তখন সত্যকে আড়ালে রেখে মিথ্যা প্রতিষ্ঠিত করার কারণেই হযরত ইউসুফ (আ.)-এর সততা ও সুনাম কলুষিত হয়, জীবন হয় বিপর্যস্ত।
‘চরিত্র হনন’ বিষয়টি প্রাচীন হলেও সমকালীন বাস্তবতায় এই সংকট প্রবলভাবে বিরাজমান। কালের ধারাবাহিকতায় এর রূপ পরিবর্তিত হয়েছে কিন্তু উদ্দেশ্য অপরিবর্তিত রয়ে গেছে। বর্তমান প্রেক্ষাপটে শারীরিক আঘাতের চেয়ে বরং মিথ্যা, গুজব ও অপপ্রচারের মাধ্যমে মানুষ বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। একটি বিদ্বেষপূর্ণ মন্তব্য, একটি গুজব কিংবা একটি বানোয়াট কাহিনী এমনভাবে একজন ব্যক্তির মর্যাদা ক্ষুণ্ণ করতে পারে, যা পুনরায় স্বাভাবিক রূপে নিয়ে আসা দুরূহ হয়ে পড়ে।এই ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ড নিভৃতে আমাদের দৈনন্দিন জীবনযাপনের একটি অংশ হয়ে উঠেছে। পবিত্র কোরআনে সতর্ক করেছেন- ‘যে ব্যক্তি অন্যকে উপহাস করে, বিদ্রূপ করে অথবা আড়ালে নিন্দা করে, তার পরিণতি ভয়ংকর’ (সূরা আল হুমাযাহ্, ১০৪:১); এরপরও প্রতি মুহূর্তে গুজব রটানো হচ্ছে। কোনো যাচাই-বাছাই ছাড়াই ছড়িয়ে পড়ছে স্ক্রিনশট অথবা অন্যকে উস্কে দিতে প্রচার করা হচ্ছে কোনো ভিডিও ক্লিপের অংশ বিশেষ। কখনো কখনো অসাবধানতায় অথবা নিছক বিনোদনের জন্য অথবা কখনো কখনো হিংসাত্মক আচরণ থেকেও কোনো ব্যক্তি এ ধরণের ঘটনা ঘটাতে পারেন। কিন্তু বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই আমরা এটা ভুলে যাই যে, প্রত্যেকটা গুজব বা মিথ্যা রটনার পেছনে একজন ব্যক্তি, তার অনুভূতি, তার আশা-আকাঙ্ক্ষা, তার স্বপ্ন এবং তার পরিবার জড়িয়ে থাকে। গুজব রটনাকারীর জন্য সেটা শুধু নিছক একটি ‘বিভ্রান্তি ছড়ানো’, ভুক্তভোগীর জন্য তা আজীবনের একটি ক্ষত ও লজ্জাকর ঘটনা। তাৎক্ষনিক ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়ায় বর্তমানকালে আমাদের নৈতিক সংযম যেন লোপ পাচ্ছে; বিবেকের গতি মাউসের একটি ক্লিকের কাছে হার মানছে; মানুষের প্রজ্ঞা থাকলেও তা হারিয়ে যাচ্ছে।
এই বাস্তবতার নির্মম উদাহরণ হিসেবে ১৯৯৮ সালের প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটনের ঘটনাটি উল্লেখ করা যেতে পারে, যেখানে মনিকা লিউনেস্কি প্রথম অনলাইনে চরিত্র হননের ভয়াবহ অভিজ্ঞতার সম্মুখীন হন। সেসময় ইন্টারনেটের ব্যবহার বৃদ্ধির কারণে কোনো যাচাই-বাছাই বা অনুসন্ধান ছাড়াই লক্ষ লক্ষ মানুষ তাকে নিয়ে উপহাস, ঘৃণা ও গুজব ছড়ানোর পাশাপাশি তাকে বিশ্বব্যাপী ‘কেলেঙ্কারির প্রতীক’- বানিয়ে ফেলে। পরবর্তী সময়ে লিউনেস্কি বলেছিলেন, ‘তিনিই প্রথম ব্যক্তি, ইন্টারনেটের মাধ্যমে বিশ্বব্যাপী যার মর্যাদা ক্ষুণ্ণ করা হয়েছিল’। মনিকা এই ঘটনাকে ‘ডিজিটাল পাবলিক শেমিং’ বলে উল্লেখ করেছেন।
তথ্যপ্রযুক্তির যুগে এই সংকট আরও প্রকটতর হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম প্রায়ই এই বিষয়গুলোকে সমাধান করার পরিবর্তে আরও সংকটাপন্ন করে তোলে। একটি মিথ্যা গুজব দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়তে পারে অথবা একটি বিভ্রান্তিকর শিরোনাম মানুষের ধারণা বদলে দিতে পারে অথবা কখনো কখনো একটি মিথ্যা বিকৃত ছবি মুহূর্তেই কারো জীবন ধ্বংস করে ফেলতে পারে। বিখ্যাত অ্যাঙলো আইরিশ প্রবন্ধকার ও প্রহসন রচয়িতা জোনাথান সুইফট তার ‘দ্য আর্ট অব পলিটিকাল লায়িং’-এ বলেছেন, ‘ফলসহুড ফ্লাইজ অ্যান্ড দ্য ট্রুথ কামস লিম্পিং আফটার ইট’- বর্তমান বাস্তবতার প্রেক্ষাপটে যা সবচেয়ে বেশি প্রাসঙ্গিক।
এখানে লক্ষণীয় বিষয় এই যে, সমস্যাটি শুধু প্রযুক্তিগত নয়। এটি মানবসৃষ্ট সংকট, যা আমাদের বিচার-বুদ্ধি এবং দৈনন্দিন জীবনযাপনের অংশ হিসেবে বিস্তৃতি লাভ করছে। আমাদের মধ্যে অনেকেই অন্যের কটূক্তি বা খারাপ আচরণের দুঃসহ ক্ষত বছরের পর বছর, এমনকি সারাজীবন বয়ে বেড়ায়। কেউ কেউ হয়তো নিজের অজান্তেই অনিচ্ছাকৃতভাবে অন্যকে আঘাত করার পর অপরাধবোধে ভুগতে থাকে। আমাদের নিজেদের প্রশ্ন করা উচিত -‘আমরা কি এই ঘৃণ্য প্রবণতায় অভ্যস্ত হয়ে পড়ছি?’। বাস্তবতা হলো - আমরা আমাদের নিজেদের মতামতকে অবমূল্যায়ন করি; পরচর্চাকে আমরা ‘ক্ষতি নেই’, অপবাদকে ‘মতামত’ আর গুজবকে ‘নিছক মজা’ বলে মনে করছি। কিন্তু আমরা ভুলে যাই যে, আমরা যা বলছি তা শুধু ‘শব্দ’ নয়। এই শব্দ যেমন আস্থা তৈরি করতে পারে; তেমনি ভাঙতে পারে বিশ্বাস। এই শব্দই কাউকে মর্যাদার আসনে প্রতিষ্ঠিত করতে পারে, আবার কাউকে তীব্রভাবে অপমান করতে পারে। কথা দিয়ে মানুষের মধ্যে যেমন বেঁচে থাকার আশা তৈরি করা যায়, তেমনি এই কথা দিয়ে বেঁচে থাকাটা অর্থহীনও করে দেয়া যেতে পারে।
আমাদের সমাজে সবচেয়ে উদ্বেগজনক শুধু ‘চরিত্র হনন’ নয় বরং সবচেয়ে বেশি উদ্বেগজনক হলো প্রাত্যহিক জীবনে এটাকে স্বাভাবিক বিষয় হিসেবে মেনে নেয়া। মানুষ এখন ফোন স্ক্রল করার মতো অনায়াসে মানুষকে অপমান-অপদস্থ করছে। বর্তমান প্রেক্ষাপটে কারো ব্যক্তিগত ব্যর্থতা অন্যের কাছে হাসির খোরাক হয়ে ওঠে; কারো ব্যক্তিগত প্রচেষ্টা বা সংগ্রাম অন্যের কাছে পরচর্চার বিষয়; আর কেউ কোনো ভুলের দায়ে শিকার হয় তীব্র কটাক্ষ আর অশেষ লাঞ্ছনার। নির্মম ব্যাপার হলো এই সমস্ত অপমান আর লাঞ্ছনার শিকার যে ভুক্তভোগী, তাকে অসহায়ের মতো নীরবে সব সহ্য করে যেতে হয়; তার করার কিছুই থাকে না। এই অপমানের যন্ত্রণা যতোটা দৃশ্যমান তার চেয়েও বেশি অদৃশ্য ক্ষত তৈরি করে ভেতরে ভেতরে। পরিবার ধ্বংস হয়ে যায়, ভুক্তভোগী হারায় তার আত্মবিশ্বাস। বহু বছরের অর্জিত সুনাম, ভবিষ্যতের উচ্চাকাঙ্ক্ষা, স্বপ্ন - সব নিমিষেই ধূলিসাৎ হয়ে যায়। ইন্টারনেটে অনলাইনে লাঞ্ছনার শিকার এমন অনেক ভুক্তভোগী নিভৃতে গোপন ক্ষত বয়ে বেড়ায়, যা সবাই দেখতে পায় না। কেউ কেউ লাঞ্ছিত হবার এই যন্ত্রণা সহ্য করতে না পেরে অত্মহত্যার পথও বেছে নেয়। এই যন্ত্রণা ভুক্তভোগী ছাড়া আর কারও পক্ষে বোঝা সম্ভব নয়; ঠিক যেমন কবি কৃষ্ণ চন্দ্র মজুমদার তার ‘বুঝিবে সে কিসে’ কবিতায় বলেছেন, ‘কী যাতনা বিষে, বুঝিবে সে কিসে; কভু আশীবিষে দংশেনি যারে’। আমাদের মনে রাখা প্রয়োজন অন্যের পাপ গণনা করে নিজেকে সাধু বানানো যায় না।
মানুষের নৈতিক ও মানসিক নিরাপত্তা বিঘ্নিত হলে সমাজ সত্যিকার অর্থে এগোতে পারে না। আস্থা হলো মানবসম্পর্কের ভিত্তি, আর চরিত্র হনন সেই ভিত্তিকে চূর্ণ করে দেয়। আন্তরিকতার স্থানে সন্দেহ এবং সহর্মমিতার স্থানে বিদ্বেষ সৃষ্টি হলে সমাজ সমষ্টিগতভাবে ভেতর থেকে দুর্বল হয়ে পড়ে। অসম্মানের আশংকা মানুষের ভেতরের সৃজনশীল প্রতিভাকে নিষ্ক্রিয় করে দেয়, সাহস নির্জীব হয়ে পড়ে। সমাজে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা বিঘ্নিত হলে সামগ্রিক উন্নতি হয় বাধাগ্রস্ত।
চরিত্র হননের মতো মহামারির অবসান ঘটাতে সর্বপ্রথম আমাদের উপলব্ধি করতে হবে যে, এটি একটি সংকটপূর্ণ সামাজিক সমস্যা। আপাতদৃষ্টিতে বিভিন্ন ব্যক্তির সাথে ঘটতে থাকা এই বিব্রতকর পরিস্থিতি ধীরে ধীরে সমাজের সর্বস্তরে প্লেগের মতো সামাজিক ব্যাধি সৃষ্টি করে; আর সাথে সাথে সহমর্মিতা, সংহতি, এমনকি সমাজের মূল ভিত নাড়িয়ে দেয়। তরুণরা যদি সাইবার আক্রমণের ভয়ে আতঙ্কগ্রস্ত থাকে, তবে এটি তাদের সৃজনশীল বিকাশে ব্যাঘাত ঘটায়, তাদের ভবিষ্যৎ উন্নতি ও সম্ভাবনাকে ব্যাহত করে। পাশাপাশি, সত্যের আড়ালে যখন একটি মিথ্যা গুজব ছড়িয়ে পড়ে তখন পরিবারের শান্তি বা সামাজিক মর্যাদা বলতে কিছুই অবশিষ্ট থাকে না।
এই গভীর সংকট থেকে উত্তরণের জন্য সর্বপ্রথম প্রয়োজন ‘সহমর্মিতা’, যা আমাদের নৈতিক দায়িত্ব এবং প্রজ্ঞাকে আরও দৃঢ় করে তোলে। আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো যাচাই-বাছাইকরণ। পবিত্র কোরআনে উল্লেখ আছে - ‘যদি কোনো দুষ্কৃতিকারী তোমার নিকট কোনো সংবাদ নিয়ে আসে, তবে তা যাচাই করো’ (সুরা আল হুজুরাত, ৪৯:৬)। সমকালীন প্রেক্ষাপটে এর অর্থ হলো ভিত্তিহীন, যাচাই-বাছাইবিহীন স্ক্রিনশট, ভিডিও কন্টেন্ট ও কোনো গুজবকে প্রশ্রয় না দেয়া। একটি তথ্য অনেক মানুষ শেয়ার করলেই বা কোনো গুজব ছড়ালেই তা সত্য হিসেবে প্রমাণিত হয় না। তথ্য যাচাই-বাছাই করা শুধু সংবাদিকতার মূল নীতি নয়, বরং এটি আমাদের একটি নৈতিক দায়িত্ব।
আমাদের অন্যের প্রতি শ্রদ্ধাশীল ও সহানুভূতিশীল হয়ে আলোচনা করতে হবে। মানুষের মধ্যে মতভেদ এবং দৃষ্টিভঙ্গির পার্থক্য থাকাটাই স্বাভাবিক; তবে এটার কোনো নেতিবাচক প্রভাব থাকা উচিত নয়। কাউকে অর্থহীনভাবে আঘাত করার চেয়ে গঠনমূলক সমালোচনা করা সবসময়ই গ্রহণযোগ্য। মহানবী হযরত মোহাম্মদ (সা.) বলেছেন - ‘ভালো কথা বলো, নয়তো চুপ থাকো’ (সহীহ আল বুখারি: ৬১৩৬); যা বর্তমান সময়ের প্রেক্ষিতে সবচেয়ে বেশি কার্যকর।
সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকেও এ প্রেক্ষিতে দায়িত্ব পালন করতে হবে। গণমাধ্যমকে চাঞ্চল্যকর তথ্য বিস্তারের চেয়ে বরং সত্য প্রচারকে প্রাধান্য দিতে হবে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোকে বিভিন্ন ধরনের হয়রানি শনাক্তকরণ ও মানহানি প্রতিরোধে আরও শক্তিশালী ব্যবস্থা জোরদার করতে হবে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে ‘Digital Ethics’ এবং ‘Emotional Intelligence’ সম্পর্কে শিক্ষার্থীদের সচেতন করে তুলতে পারে।
তবে, সবচেয়ে বড় পরিবর্তন শুরু হয় মানুষের অন্তর্জগত বা হৃদয় থেকে; কারণ হিংসা-বিদ্বেষ মানুষকে সুখী করতে পারে না। আমাদেরকে নিজেদের ও চারপাশের মানুষের সম্মান ও মর্যাদা রক্ষা করার বিষয়ে সাহসী হতে হবে। গুজব যতোই মুখরোচক ও চাঞ্চল্যকর হোক না কেন, তা রোধ করতে হবে।
আমাদের এমন একটি সমাজ-সংস্কৃতি গড়ে তুলতে হবে যেখানে সম্মান অমূল্য সম্পদের মতো সুরক্ষিত থাকবে। শিশুরা বড় হবে এই শিক্ষা নিয়ে যে - মানবিকতা ও দয়া হলো শক্তি; যেখানে সমষ্টিকভাবে সমাজে কেউ কারো ক্ষতি করবে না বরং শ্রদ্ধার জায়গা তৈরি করবে। যে সংস্কৃতিতে মানুষকে ভুলের জন্য অপদস্থ না করে বরং নীরবে ভুল সংশোধন করে দেয়া হয়, সেখানে বিদ্বেষের পরিবর্তে সৃষ্টি হয় শেখার সুযোগ। এ ধরনের সমাজ-সংস্কৃতি বর্তমান প্রেক্ষাপটে অলীক স্বপ্ন নয় বরং এটাই এখন সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন। আমরা ইচ্ছে করলে নিষ্ঠুরতার পথ বেছে নিতে পারি অথবা চাইলে সহানুভ‚তিশীল হতে পারি; আমরা চাইলে কাউকে অপমান-অপদস্থ করতে পারি, আবার ইচ্ছে করলে সম্মান প্রদর্শন করতে পারি; আমরা ইচ্ছেমতো গুজব ছড়াতে পারি অথবা সত্যের পথে ন্যায়ের পক্ষে থাকতে পারি। প্রকৃত বিনয় হলো অন্যের দোষ দেখার আগে নিজের দোষের প্রতি দৃষ্টি নিবদ্ধ করা। কারো সম্পর্কে কোনো মন্তব্য করা প্রয়োজন হলে, তা যথোপযুক্ত বিনয়ের সাথে করা উচিত। আমাদের মনে রাখা উচিত- ‘Great minds discuss ideas; average minds discuss events; small minds discuss people’। চারপাশের কোনো ব্যক্তি আমাদের কথা বা কাজে যেন আঘাত না পায়, এজন্য আমাদের এ ধরনের কাজ থেকে বিরত থাকা উচিত। মহানবী (সা.) বলেছেন, - ‘একজন প্রকৃত মুসলিম সে, যার জিহ্বা এবং হাত থেকে অন্যরা নিরাপদ (আল বুখারী, ১০)।
উপাচার্য, বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালস