চলতি বছরেই শেষ হচ্ছে নারায়ণগঞ্জের এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের নির্মাণ কাজ
চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যেই শেষ হচ্ছে নারায়ণগঞ্জের পঞ্চবটি থেকে মুন্সিগঞ্জের মুক্তারপুরের এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের নির্মাণ কাজ। ‘মুক্তারপুর-পঞ্চবটি সড়ক প্রশস্তকরণ ও দোতলাকরণ’ প্রকল্পের আওতায় নির্মিত এ দ্বিতল সড়কের মধ্য দিয়ে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ-মুন্সিগঞ্জের যোগাযোগ ব্যবস্থা আরও সহজ ও গতিশীল হবে। সেই সঙ্গে দীর্ঘদিনের তীব্র যানজট নিরসনেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে এই মেগা অবকাঠামো। যদিও ২০২৬ সালের জুনের মধ্যে এই প্রকল্পের নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু নানা প্রতিবন্ধকতার কারণে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করতে কিছুটা বেগ পোহাতে হয়। তারপরও কয়েক মাস বিলম্বে কাজ শেষ হওয়ার মধ্য দিয়ে মুন্সীগঞ্জ-নারায়ণগঞ্জ-ঢাকা জেলার সঙ্গে সড়ক যোগাযোগ গড়ে উঠবে। একই সঙ্গে চট্টগ্রাম-সিলেট থেকে দক্ষিণাঞ্চলগামী যানবাহন ঢাকার ভেতর দিয়ে না যেয়ে এ সড়কে সরাসরি যাতায়াত করতে পারবে। সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, প্রকল্পটির বাস্তবায়নে প্রথম ধাপে ব্যয় ধরা হয়েছিল প্রায় ২ হাজার ৬৫৯ কোটি টাকা। তখন ২০২৫ সালের ৩০ জুন নির্মাণকাজ শেষ করার সময় নির্ধারণ ছিল। পরে সেতু কর্তৃপক্ষ প্রকল্পের মেয়াদ বাড়িয়ে ২০২৬ সালের জুনের মধ্যে প্রকল্পটি বাস্তবা
চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যেই শেষ হচ্ছে নারায়ণগঞ্জের পঞ্চবটি থেকে মুন্সিগঞ্জের মুক্তারপুরের এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের নির্মাণ কাজ। ‘মুক্তারপুর-পঞ্চবটি সড়ক প্রশস্তকরণ ও দোতলাকরণ’ প্রকল্পের আওতায় নির্মিত এ দ্বিতল সড়কের মধ্য দিয়ে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ-মুন্সিগঞ্জের যোগাযোগ ব্যবস্থা আরও সহজ ও গতিশীল হবে। সেই সঙ্গে দীর্ঘদিনের তীব্র যানজট নিরসনেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে এই মেগা অবকাঠামো।
যদিও ২০২৬ সালের জুনের মধ্যে এই প্রকল্পের নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু নানা প্রতিবন্ধকতার কারণে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করতে কিছুটা বেগ পোহাতে হয়। তারপরও কয়েক মাস বিলম্বে কাজ শেষ হওয়ার মধ্য দিয়ে মুন্সীগঞ্জ-নারায়ণগঞ্জ-ঢাকা জেলার সঙ্গে সড়ক যোগাযোগ গড়ে উঠবে। একই সঙ্গে চট্টগ্রাম-সিলেট থেকে দক্ষিণাঞ্চলগামী যানবাহন ঢাকার ভেতর দিয়ে না যেয়ে এ সড়কে সরাসরি যাতায়াত করতে পারবে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, প্রকল্পটির বাস্তবায়নে প্রথম ধাপে ব্যয় ধরা হয়েছিল প্রায় ২ হাজার ৬৫৯ কোটি টাকা। তখন ২০২৫ সালের ৩০ জুন নির্মাণকাজ শেষ করার সময় নির্ধারণ ছিল। পরে সেতু কর্তৃপক্ষ প্রকল্পের মেয়াদ বাড়িয়ে ২০২৬ সালের জুনের মধ্যে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করার পরিকল্পনা করে।
১০ দশমিক ৩৭ কিলোমিটার দীর্ঘ মুক্তারপুর-পঞ্চবটি সড়কে প্রস্তাবিত প্রকল্পের আওতায় ৭ কিলোমিটার অ্যাটগ্রেড সড়ক দুই লেন এবং তৃতীয় শীতলক্ষ্যা সেতু থেকে মুক্তারপুর সেতু পর্যন্ত ৩ দশমিক ৭৫ কিলোমিটার অ্যাটগ্রেড সড়ক ৪ লেনে উন্নীত করা হবে। পঞ্চবটি থেকে শীতলক্ষ্যা-৩ সেতু পর্যন্ত ২ দশমিক ৮০ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের ৬টি র্যামসহ দুই লেন বিশিষ্ট ৯ দশমিক ৬ কিলোমিটার হচ্ছে এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে (দ্বিতল সড়ক)।
এরমধ্যে পঞ্চবটি থেকে কাশিপুর পর্যন্ত ৩ দশমিক ৫ কিলোমিটার এ্যাডগ্রেড সড়কের ওপর এবং কাশিপুর থেকে চর সৈয়দপুর পর্যন্ত ২ দশমিক ৭৬ কিলোমিটার নিচু ভূমির ওপর দিয়ে যাবে। এছাড়া যানজট নিরসনে পঞ্চবটি মোড় থেকে ফতুল্লার দিকে ও নারায়ণগঞ্জের চাষাঢ়ার দিকে ৩১০ মিটার করে ৬ লেন সড়ক নির্মাণ করা হবে। মুক্তারপুর সেতুর দক্ষিণপ্রান্তে ৪৪৩ মিটার এ্যাডগ্রেড সড়ক ৪ লেনে উন্নীত করা হবে।
একই সঙ্গে চর সৈয়দপুরে তৃতীয় শীতলক্ষ্যা সেতু পয়েন্টে একটি গোলচত্বর থাকবে। নিচে ওপরে ২টি করে ৪টি টোল প্লাজা নির্মাণ করা হবে এবং যানবাহনের ওজন পরিমাপের জন্য থাকবে ৬টি ওজন স্টেশন। নিচতলায় যান চলাচলের জন্য ফ্রি থাকলেও দোতলা সড়কে যাতায়াতে টোল পরিশোধ করতে হবে।
এদিকে নারায়ণগঞ্জের শিল্পনগরী ফতুল্লর বিসিক শিল্প এলাকায় প্রায় ৭ শতাধিক শিল্পকারখানা রয়েছে। একই সঙ্গে বিসিক থেকে মুক্তাপুর পর্যন্ত প্রায় ৩ শতাধিক শিল্পপ্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেছে। আর এসব শিল্পপ্রতিষ্ঠানে প্রায় ৪ লাখ শ্রমিক কাজ করেন। পাশাপাশি মুক্তারপুরে পাঁচটি সিমেন্ট কারখানাসহ ৬টি হিমাগার থাকায় মুক্তারপুর-পঞ্চবটি সড়কে প্রতিদিন হাজার হাজার যানবাহন চলাচল করে। এসব যানবাহন চলাচলের ক্ষেত্রে যোগসূত্র স্থাপন করবে।
নারায়ণগঞ্জ বিসিক মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক ও বিকেএমইএ সহ-সভাপতি মোরশেদ সারোয়ার সোহেল বলেন, যে কোনো দেশের জন্য যাতায়াত ব্যবস্থার উন্নতি হলে সব ক্ষেত্রেই উন্নতি হয়। তেমনিভাবে পঞ্চবটি-মুক্তারপুর সড়কের মধ্যে দিয়ে যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতি হবে। তবে মুন্সিগঞ্জের সঙ্গে নারায়ণগঞ্জের আগে থেকেই যোগাযোগ রয়েছে। নতুন করে আলাদাভাবে উল্লেখ করার মতো ব্যবসার উন্নতি ঘটবে এরকম নয়।
প্রকল্পের ডেপুটি টিম লিডার প্রকৌশলী জহুরুল হক বলেন, ডিসেম্বরের মধ্যে পুরো কাজ শেষ করবো। ইতোমধ্যে ৯৪ পার্সেন্ট কাজ শেষ হয়ে গেছে। আশা করছি এলিভেটেড ডিসেম্বরের আগেই চালু হয়ে যাবে। দ্বিতীয় তলার কাজ পুরোপুরি শেষ। বিটুমিনের কাজ শুরু হয়েছে, আশা করি এক মাসের মধ্যেই কাজ শেষ হয়ে যাবে। তারপর জোড়ার কাজগুলো হবে দুইমাস লাগতে পারে। সেপ্টেম্বরের মধ্যে এলিভেটেড অংশটি জনগণের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হবে। সব মিলিয়ে ডিসেম্বরের মধ্যেই শেষ হয়ে যাবে।
মোবাশ্বির শ্রাবণ/এনএইচআর/এএসএম
What's Your Reaction?