চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) ৩ হাজার ২৭০ জন পরিচ্ছন্নতা কর্মীর মাঝে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ঈদ উপহার বিতরণ করা হয়েছে।
রোববার (২৪ মে) দুপুরে নগরীর কাজীর দেউরী ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সেন্টারে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে এই উপহার হস্তান্তর করেন সিটি মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন।
এবার চসিকের প্রত্যেক পরিচ্ছন্নতা কর্মী ৫ হাজার টাকা করে মোট ১ কোটি ৬৩ লাখ ৫০ হাজার টাকার আর্থিক সহায়তা পেয়েছেন।
এর আগে শুক্রবার (২২ মে) সন্ধ্যায় রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারম্যানের রাজনৈতিক কার্যালয়ে মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেনের হাতে এই অনুদানের চেক হস্তান্তর করেন প্রধানমন্ত্রী।
উপহার বিতরণ অনুষ্ঠানে চসিক মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন চট্টগ্রামকে একটি আধুনিক ও পরিচ্ছন্ন নগরী হিসেবে গড়ে তোলার ঘোষণা দিয়ে বলেন, পরিচ্ছন্নতাকর্মীরাই একটি শহরের সৌন্দর্য ও পরিচ্ছন্নতার মূল চালিকাশক্তি। দিন-রাত পরিশ্রম করে, রোদ-বৃষ্টি উপেক্ষা করে তারা নগরবাসীর জন্য বাসযোগ্য পরিবেশ নিশ্চিত করেন। তাদের এই অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে প্রদত্ত এই ঈদ উপহার একটি মানবিক উদ্যোগ, যা কর্মীদের মনোবল আরও বাড়িয়ে দেবে।
মেয়র জানান, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান প্রথমবারের মতো পরিচ্ছন্নকর্মীদের ঈদ আনন্দ নিশ্চিত করতে এই উপহার সংস্কৃতি চালু করেছেন। পাশাপশি তাদের জীবনমান উন্নয়নে সম্পূর্ণ সরকারি অর্থায়নে আবাসন নির্মাণ প্রকল্প বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
এই প্রকল্পের আওতায় সাতটি ভবনে মোট ১ হাজার ৩৬টি ফ্ল্যাট নির্মাণ করা হবে, যার প্রতিটির আয়তন হবে প্রায় ৬০০ বর্গফুট। এ ছাড়া আসন্ন বর্ষায় পরিচ্ছন্নকর্মীরা যাতে নির্বিঘ্নে কাজ করতে পারেন, সেজন্য চসিকের পক্ষ থেকে তাদের রেইনকোট প্রদানের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
শহরের সার্বিক পরিচ্ছন্নতা পরিস্থিতি উন্নত হলেও কিছু ক্ষেত্রে এখনো ঘাটতি রয়েছে উল্লেখ করে মেয়র সংশ্লিষ্টদের সতর্ক করেন। বিশেষ করে ময়লা পরিবহনের সময় রাস্তায় বর্জ্য পড়ে যাওয়া এবং দ্রুত গাড়ি চালানোর কারণে দুর্ঘটনার ঝুঁকির বিষয়ে কঠোর নির্দেশনা দেন তিনি। পাশাপাশি উন্নত দেশের মতো বর্জ্যকে সম্পদে রূপান্তর করতে চসিক রিসাইক্লিং, বায়োগ্যাস, গ্রিন ডিজেল এবং বিদ্যুৎ উৎপাদনের মতো প্রকল্প বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিয়েছে বলে জানান।
নগরবাসীর উদ্দেশে তিনি বলেন, এখনো অনেকেই অনিয়মভাবে যত্রতত্র বর্জ্য ফেলছেন, যা জলাবদ্ধতা ও পরিবেশ দূষণের অন্যতম কারণ। নাগরিকদের আপত্তির মুখে বাসা থেকে সরাসরি বর্জ্য সংগ্রহের আগের উদ্যোগ বন্ধ করে এখন চসিক নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় বিনামূল্যে বাসা থেকে বর্জ্য সংগ্রহ কার্যক্রম পরিচালনা করছে।
অনুষ্ঠানে চসিকের ভারপ্রাপ্ত প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ও সচিব মো. আশরাফুল আমিন, প্রধান পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা ক্যাপ্টেন ইখতিয়ার উদ্দিন আহমেদ চৌধুরী, প্রধান শিক্ষা কর্মকর্তা ড. কিসিঞ্জার চাকমা, প্রধান প্রকৌশলী আনিসুর রহমান, প্রধান হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা হুমায়ুন কবির চৌধুরী, প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. মো. ইমাম হোসেন রানা, ম্যালেরিয়া ও মশক নিয়ন্ত্রণ কর্মকর্তা শরফুল ইসলাম মাহি এবং উপ প্রধান পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা প্রণব কুমার শর্মাসহ কর্মকর্তা-কর্মচারীবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।