চাঁদপুরে ৭৫ জাতের বিদেশি আম চাষে সফল হেলাল উদ্দিন

৭৫ জাতের বিদেশি ও উচ্চমূল্যের আম চাষ হচ্ছে সারিবদ্ধভাবে সাজানো প্রায় ৩ শতাধিক আম গাছ এ বছরও ৫-৬ লাখ টাকা আয়ের আশা চাঁদপুর সদর উপজেলার শাহতলী বাজার সংলগ্ন ডাকাতিয়া নদীর তীরে পরিত্যক্ত ইটভাটাকে আধুনিক ফল বাগানে রূপান্তর করে আলোচনায় এসেছেন সাংবাদিক ও উদ্যোক্তা মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন। তার প্রতিষ্ঠিত ‘ফ্রুটস ভ্যালি অ্যাগ্রো’ খামারে বর্তমানে ৭৫ জাতের বিদেশি ও উচ্চমূল্যের আম চাষ হচ্ছে। যা এরই মধ্যে কৃষিপ্রেমী, উদ্যোক্তা ও দর্শনার্থীদের ব্যাপক আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। খামারটিতে প্রবেশ করলেই চোখে পড়ে সারিবদ্ধভাবে সাজানো প্রায় ৩ শতাধিক আম গাছ। ছোট-বড় বিভিন্ন আকৃতির গাছে ঝুলছে থোকায় থোকায় আম। আমকে পোকামাকড়ের আক্রমণ থেকে রক্ষা করতে এবং নিরাপদ উৎপাদন নিশ্চিত করতে বিশেষ পদ্ধতিতে ফলের ওপর ব্যবহার করা হয়েছে পট ও প্ল্যাস্টিকের আবরণ। উদ্যোক্তার দাবি, এতে রাসায়নিক ও বিষমুক্ত আম উৎপাদন সম্ভব হচ্ছে। খামারটি ঘুরে দেখা যায়, অধিকাংশ আম এখনো পরিপক্ব হওয়ার অপেক্ষায়। তবে আগামী ১০-১৫ দিনের মধ্যেই ফল সংগ্রহ শুরু হবে বলে জানিয়েছেন উদ্যোক্তা। আমের মৌসুম ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে প্রতিদিনই টিকিট কেটে দূর-দূর

চাঁদপুরে ৭৫ জাতের বিদেশি আম চাষে সফল হেলাল উদ্দিন
  • ৭৫ জাতের বিদেশি ও উচ্চমূল্যের আম চাষ হচ্ছে
  • সারিবদ্ধভাবে সাজানো প্রায় ৩ শতাধিক আম গাছ
  • এ বছরও ৫-৬ লাখ টাকা আয়ের আশা

চাঁদপুর সদর উপজেলার শাহতলী বাজার সংলগ্ন ডাকাতিয়া নদীর তীরে পরিত্যক্ত ইটভাটাকে আধুনিক ফল বাগানে রূপান্তর করে আলোচনায় এসেছেন সাংবাদিক ও উদ্যোক্তা মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন। তার প্রতিষ্ঠিত ‘ফ্রুটস ভ্যালি অ্যাগ্রো’ খামারে বর্তমানে ৭৫ জাতের বিদেশি ও উচ্চমূল্যের আম চাষ হচ্ছে। যা এরই মধ্যে কৃষিপ্রেমী, উদ্যোক্তা ও দর্শনার্থীদের ব্যাপক আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।

খামারটিতে প্রবেশ করলেই চোখে পড়ে সারিবদ্ধভাবে সাজানো প্রায় ৩ শতাধিক আম গাছ। ছোট-বড় বিভিন্ন আকৃতির গাছে ঝুলছে থোকায় থোকায় আম। আমকে পোকামাকড়ের আক্রমণ থেকে রক্ষা করতে এবং নিরাপদ উৎপাদন নিশ্চিত করতে বিশেষ পদ্ধতিতে ফলের ওপর ব্যবহার করা হয়েছে পট ও প্ল্যাস্টিকের আবরণ। উদ্যোক্তার দাবি, এতে রাসায়নিক ও বিষমুক্ত আম উৎপাদন সম্ভব হচ্ছে।

খামারটি ঘুরে দেখা যায়, অধিকাংশ আম এখনো পরিপক্ব হওয়ার অপেক্ষায়। তবে আগামী ১০-১৫ দিনের মধ্যেই ফল সংগ্রহ শুরু হবে বলে জানিয়েছেন উদ্যোক্তা। আমের মৌসুম ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে প্রতিদিনই টিকিট কেটে দূর-দূরান্ত থেকে দর্শনার্থীরা বাগানটি দেখতে আসেন।

mango

উদ্যোক্তা মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন বলেন, ‌‘বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে সংগ্রহ করা উচ্চমান ও উচ্চমূল্যের ফলের চারা এনে চাষ করছি। সবচেয়ে বড় বিষয় হলো, একসময় পরিত্যক্ত ও অনাবাদি হয়ে থাকা একটি ইটভাটাকে আধুনিক কৃষিখামারে রূপান্তর করা সম্ভব হয়েছে। বিশ্বের সবচেয়ে দামি আমের অন্তত ৩০টি জাত আমাদের সংগ্রহে আছে। এ বছর মোট ৭৫ জাতের আমের পরীক্ষামূলক ও বাণিজ্যিক চাষাবাদ করছি।’

তিনি জানান, বাগানে ভ্যালেন্সিয়া প্রাইড, লেমন জেস্ট, বেইলি মার্বেল, রোসা রোসা, সানসেট, কিং অব চাকাপাত, আতাউলফো, কারাবাও, আলফানসো, গ্লেন, হাডেন, মায়া, সেনসেশন, অস্টিন, অস্টিন গোল্ড, আর-টু-ই-টু, ক্যাংসিংটন প্রাইড, টমি অ্যাটকিনস, রেড আইভরি, মিয়াজাকি, কেন্ট, কেইট, পালমার, কেশর, পুষা আম্বিকা, পুষা অরুণিমা, পুষা সুরাইয়া, মল্লিকা, তোতাপুরি, নাম ডক মাই, গোল্ডেন নাম ডক মাই, মহাচানক, ক্যারি, কাটিমন, ব্রুনাই কিং, ফ্রান্সিস, থাই কাঁচামিঠা, গৌরমতি ও বারি-৪সহ দেশি-বিদেশি বহু জনপ্রিয় ও বিরল জাতের আমের চাষ করা হচ্ছে।

হেলাল উদ্দিন বলেন, ‘গত বছর ৫৭ জাতের আম বিক্রি করে প্রায় ৬ লাখ টাকা আয় হয়েছে। চলতি বছর ফলন কিছুটা কম হলেও জাতের সংখ্যা বেড়ে ৭৫-এ পৌঁছেছে। তাই এ বছরও ৫-৬ লাখ টাকা আয়ের আশা করছি। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কারিগরি সহায়তা ও পরামর্শ পেলে ফলন আরও বাড়ানো সম্ভব হবে।’

খামার দেখতে আসা জাহিদুল ইসলাম ও মো. সবুজ বলেন, ‘একসঙ্গে এত ধরনের আম আগে কখনো দেখিনি। বাগানের পরিবেশ, আমের বৈচিত্র্য এবং উদ্যোক্তার আন্তরিকতায় আমরা মুগ্ধ। বিভিন্ন জাতের আম চেখে দেখার সুযোগও পেয়েছি। এমন উদ্যোগ দেখে আমাদেরও কৃষিখাতে কাজ করার আগ্রহ তৈরি হয়েছে।’

mango

চাঁদপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মোহাম্মদ আবু তাহের বলেন, ‘বিদেশি আম মূলত নিজ দেশের আবহাওয়া ও মাটির উপযোগী। তবে বর্তমানে অনেকেই নতুন সম্ভাবনা তৈরির লক্ষ্যে এসব জাতের আম চাষ করছেন। বাংলাদেশের মাটি ও আবহাওয়ার কারণে বিদেশি জাতের আমে স্বাদ ও মিষ্টতার কিছু পার্থক্য দেখা যেতে পারে। তাই বাণিজ্যিকভাবে সফল হতে হলে সঠিক পরিকল্পনা ও পরিচর্যা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।’

তিনি বলেন, ‘সাধারণত জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারি মাসে আমের মুকুল আসে। এ বছর অতিরিক্ত তাপমাত্রা ও কিছু ক্ষেত্রে পরিচর্যার ঘাটতির কারণে ফলন কিছুটা কম হতে পারে। তবে নিয়মিত পরিচর্যা, সুষম সার প্রয়োগ ও আধুনিক ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা গেলে উৎপাদন আরও বৃদ্ধি পাবে। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর কৃষকদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও সহযোগিতা দিয়ে যাচ্ছে।’

পরিত্যক্ত ইটভাটাকে আধুনিক ফলবাগানে রূপান্তর করে ৭৫ জাতের বিদেশি আম চাষের এ উদ্যোগ চাঁদপুরে কৃষির নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করেছে। একই সঙ্গে এটি তরুণ উদ্যোক্তাদের জন্য কৃষিভিত্তিক উদ্ভাবনী উদ্যোগ গ্রহণে অনুপ্রেরণার উজ্জ্বল উদাহরণ হয়ে উঠেছে।

এমএসআই/এসইউ

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow