চাকরি না পেয়ে স্কুল মাঠেই পাট চাষ করছেন ক্ষুব্ধ যুবক

যে স্কুল মাঠে কোমলমতি শিশুদের মনের আনন্দে খেলাধুলা করার কথা, আজ সেই মাঠেই বাতাসে দোল খাচ্ছে সবুজ পাট। আর নিরুপায় হয়ে শিক্ষার্থীরা সেই পাটক্ষেতের ভেতরেই ঝুঁকি নিয়ে খেলাধুলা করছে। রাজবাড়ীর কালুখালী উপজেলার মুরারীখোলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে স্কুলে দপ্তরির চাকরি না পেয়ে ক্ষোভে মাঠের জমিতে পাট চাষের এমন এক অভিনব কাণ্ড ঘটিয়েছেন সজীব খাঁন নামের এক যুবক। তিনি ওই গ্রামের কালাম খাঁনের ছেলে। সজীব খাঁনের বাবা কালাম খাঁন অভিযোগ করে বলেন, ২০২৪ সালের শুরুর দিকে স্কুল কর্তৃপক্ষ আমার ছেলেকে দপ্তরির চাকরি দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে আমাদের পৈতৃক জমি স্কুলের সীমানাপ্রাচীর (বাউন্ডারি ওয়াল) নির্মাণের জন্য লিখে নেয়। কিন্তু দীর্ঘ দুই বছর পার হয়ে গেলেও তারা আমার ছেলেকে চাকরি দেয়নি। বাধ্য হয়ে আমরা আমাদের নিজেদের জমিতে পুনরায় পাটের চাষ করেছি।  ভুক্তভোগী যুবক সজীব খাঁন বলেন, চাকরি দেওয়ার কথা বলে আমাদের জমি নেওয়া হয়েছিল। দুই বছর ধরে শুধু আশ্বাসই দেওয়া হয়েছে, কাজ হয়নি। আমরা চাই স্কুল কর্তৃপক্ষ হয় আমাকে চাকরি দিক, না হয় আমাদের জমির ন্যায্য মূল্য বুঝিয়ে দিক। আর তা না পারলে বাউন্ডারি ওয়াল ভেঙে আমাদের জমি ফিরিয়ে দিক, য

চাকরি না পেয়ে স্কুল মাঠেই পাট চাষ করছেন ক্ষুব্ধ যুবক

যে স্কুল মাঠে কোমলমতি শিশুদের মনের আনন্দে খেলাধুলা করার কথা, আজ সেই মাঠেই বাতাসে দোল খাচ্ছে সবুজ পাট। আর নিরুপায় হয়ে শিক্ষার্থীরা সেই পাটক্ষেতের ভেতরেই ঝুঁকি নিয়ে খেলাধুলা করছে। রাজবাড়ীর কালুখালী উপজেলার মুরারীখোলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে স্কুলে দপ্তরির চাকরি না পেয়ে ক্ষোভে মাঠের জমিতে পাট চাষের এমন এক অভিনব কাণ্ড ঘটিয়েছেন সজীব খাঁন নামের এক যুবক। তিনি ওই গ্রামের কালাম খাঁনের ছেলে।

সজীব খাঁনের বাবা কালাম খাঁন অভিযোগ করে বলেন, ২০২৪ সালের শুরুর দিকে স্কুল কর্তৃপক্ষ আমার ছেলেকে দপ্তরির চাকরি দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে আমাদের পৈতৃক জমি স্কুলের সীমানাপ্রাচীর (বাউন্ডারি ওয়াল) নির্মাণের জন্য লিখে নেয়। কিন্তু দীর্ঘ দুই বছর পার হয়ে গেলেও তারা আমার ছেলেকে চাকরি দেয়নি। বাধ্য হয়ে আমরা আমাদের নিজেদের জমিতে পুনরায় পাটের চাষ করেছি। 

ভুক্তভোগী যুবক সজীব খাঁন বলেন, চাকরি দেওয়ার কথা বলে আমাদের জমি নেওয়া হয়েছিল। দুই বছর ধরে শুধু আশ্বাসই দেওয়া হয়েছে, কাজ হয়নি। আমরা চাই স্কুল কর্তৃপক্ষ হয় আমাকে চাকরি দিক, না হয় আমাদের জমির ন্যায্য মূল্য বুঝিয়ে দিক। আর তা না পারলে বাউন্ডারি ওয়াল ভেঙে আমাদের জমি ফিরিয়ে দিক, যেন আমরা স্বাধীনভাবে চাষাবাদ করতে পারি।

বিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, প্রথম থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত এই স্কুলে বর্তমানে ১৪২ জন শিক্ষার্থী পড়াশোনা করছে। মাঠের মধ্যে ঘন পাটক্ষেত থাকায় শিক্ষার্থীদের খেলাধুলা করতে চরম বেগ পেতে হচ্ছে।

কয়েকজন শিক্ষার্থী জানায়, পাটক্ষেতের কারণে মাঠে দৌড়াদৌড়ি করা যায় না। অনেক সময় ক্ষেতের ভেতর অন্ধকার থাকায় তারা একা যেতে ভয় পায়। এই ভীতির কারণে অনেক সহপাঠী স্কুলেও আসতে চাইছে না। তারা দ্রুত খেলার মাঠ থেকে পাটক্ষেত অপসারণের দাবি জানিয়েছে।

এ বিষয়ে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নূরুন্নাহার খানম বলেন, তৎকালীন স্থানীয় সংসদ সদস্য (এমপি) জিল্লুল হাকিম স্কুলের সীমানাপ্রাচীর নির্মাণের জন্য কালাম খাঁনের কাছ থেকে জমিটি নিয়ে দিয়েছিলেন। কথা ছিল সজীবকে চাকরি দেওয়ার পর জমিটি স্কুলের নামে রেজিস্ট্রি করা হবে। কিন্তু গত ৫ আগস্ট দেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট আমূল বদলে যাওয়ার কারণে সরকারি নিয়মতান্ত্রিক জটিলতায় সজীবের চাকরির বিষয়টি আর সম্ভব হয়নি। যে কারণে ক্ষুব্ধ হয়ে সজীব ও তার বাবা ওই জমিতে পাটের আবাদ করেছেন। 

বিষয়টি নিয়ে কালুখালী উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মুহাম্মদ মিজানুর রহমান বলেন, স্কুলের মাঠে পাট গাছ দিন দিন বড় হচ্ছে। এতে কোমলমতি শিক্ষার্থীরা এক ধরনের স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা ঝুঁকির মধ্যে পড়ছে। মাঠটি কীভাবে দ্রুত উদ্ধার ও সমস্যার সমাধান করা যায়, সে বিষয়ে আমি ইতোমধ্যে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলেছি। আশা করছি দ্রুতই একটি সুরাহা হবে। 

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow