চাকরি হারালেন ৯০০ কর্মীকে চাকরিচ্যুত করা সেই সিইও

ক্রিসমাসের আগে জুম কলে একসঙ্গে ৯০০ কর্মীকে ছাঁটাই করে আলোচনায় আসেন বেটার হোম অ্যান্ড ফাইন্যান্সের সাবেক সিইও বিশাল গর্গ। গত ৩ আগস্ট কোম্পানির প্রধান নির্বাহীর পদ থেকে তাকেই সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। এখন তিনি আবারও নিজের পদ ফিরে পেতে চান। গর্গের দাবি, তাকে সরানোর সিদ্ধান্তে তিনি প্রতারিত হয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএনের প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়। প্রতিবেদনে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে প্রধান কার্যালয় অবস্থিত এই প্রতিষ্ঠানটি তাদের অনলাইন প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে বাড়ির মালিকদের মর্টগেজ এবং বীমা পণ্য সরবরাহ করে থাকে। বেটারের সঙ্গে গর্গের নেতৃত্বের সময়টা ছিল নানা বিতর্ক ও সংকটে ভরা। ২০২১ সালের ছুটির মৌসুমের আগে একটি জুম কলে প্রায় ৯০০ কর্মীকে ছাঁটাই করার ঘটনায় ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েছিলেন তিনি। পরে তাকে সাময়িক ছুটিতেও যেতে হয়েছিল। এছাড়া একজন হুইসেলব্লোয়ারের মামলা, মার্কিন সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের তদন্ত এবং ২০২৩ সালের ব্যর্থতার ধাক্কাও সামলাতে হয়েছে কোম্পানিটিকে। এত কিছুর পরও গর্গের ভাষ্য অনুযায়ী, তাকে সরিয়ে তার স্থলাভিষিক্ত হওয়া ড্যানিয়েল লুইস আগে কোম্পানির কৌশলের প্রশংসা

চাকরি হারালেন ৯০০ কর্মীকে চাকরিচ্যুত করা সেই সিইও

ক্রিসমাসের আগে জুম কলে একসঙ্গে ৯০০ কর্মীকে ছাঁটাই করে আলোচনায় আসেন বেটার হোম অ্যান্ড ফাইন্যান্সের সাবেক সিইও বিশাল গর্গ। গত ৩ আগস্ট কোম্পানির প্রধান নির্বাহীর পদ থেকে তাকেই সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। এখন তিনি আবারও নিজের পদ ফিরে পেতে চান। গর্গের দাবি, তাকে সরানোর সিদ্ধান্তে তিনি প্রতারিত হয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএনের প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।

প্রতিবেদনে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে প্রধান কার্যালয় অবস্থিত এই প্রতিষ্ঠানটি তাদের অনলাইন প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে বাড়ির মালিকদের মর্টগেজ এবং বীমা পণ্য সরবরাহ করে থাকে। বেটারের সঙ্গে গর্গের নেতৃত্বের সময়টা ছিল নানা বিতর্ক ও সংকটে ভরা। ২০২১ সালের ছুটির মৌসুমের আগে একটি জুম কলে প্রায় ৯০০ কর্মীকে ছাঁটাই করার ঘটনায় ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েছিলেন তিনি। পরে তাকে সাময়িক ছুটিতেও যেতে হয়েছিল। এছাড়া একজন হুইসেলব্লোয়ারের মামলা, মার্কিন সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের তদন্ত এবং ২০২৩ সালের ব্যর্থতার ধাক্কাও সামলাতে হয়েছে কোম্পানিটিকে।

এত কিছুর পরও গর্গের ভাষ্য অনুযায়ী, তাকে সরিয়ে তার স্থলাভিষিক্ত হওয়া ড্যানিয়েল লুইস আগে কোম্পানির কৌশলের প্রশংসা করেছিলেন এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে বেটারের পক্ষে ইতিবাচক মন্তব্য করেছিলেন। এসবের মাধ্যমে লুইস কোম্পানির পরিচালনা পর্ষদে জায়গা করে নিয়ে বোর্ডের আস্থা অর্জন করেন বলে অভিযোগ গর্গের।

গর্গ বলেন,  ‘সে আমাকে বোকা বানিয়েছে।’  তার দাবি, কোম্পানিকে ঘুরে দাঁড়ানোর দ্বারপ্রান্তে নিয়ে যাওয়ার ঠিক সময়েই তাকে বরখাস্ত করা হয়েছে।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, মহামারির সময় বন্ধকি ঋণের পুনঃঅর্থায়ন ব্যবসার ব্যাপক প্রসারের সময়ে বেটারের মূল্যায়ন প্রায়  ৮০০ কোটি ডলারে  পৌঁছেছিল। কিন্তু পরবর্তীতে ওই ব্যবসায় ধস নামে এবং সুদের হার প্রায় ৭ শতাংশের কাছাকাছি ওঠায় কোম্পানির বাজারমূল্য নেমে এসেছে প্রায়  ৩০ কোটি ডলারে ।

২০২১ সালে বেটারের বার্ষিক বিক্রি ছিল প্রায় ১৫০ কোটি ডলার। ২০২৩ সালে তা কমে দাঁড়ায় মাত্র ৭ কোটি ডলারে। তবে গর্গের দাবি, চলতি বছর কোম্পানিটি প্রায় ২০ কোটি ডলারের বিক্রির পথে রয়েছে।

গর্গের মতে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে দ্রুত বন্ধকি ঋণের আবেদন প্রক্রিয়াকরণে সক্ষমতা তৈরির মাধ্যমেই কোম্পানিটি ঘুরে দাঁড়িয়েছে। সাধারণত যে কাজ করতে কয়েক ডজন কর্মীর কয়েক দিন সময় লাগত, এআই মডেলের মাধ্যমে তা দ্রুত সম্পন্ন করা সম্ভব হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

গর্গ আরও জানান, নিও হোম লোনসের সঙ্গে অংশীদারত্বের ফলে উৎপাদনশীলতা দ্বিগুণ হয়েছে এবং ঋণ দেওয়ার খরচ ৫০ শতাংশ কমেছে। এ সাফল্যে আগ্রহী হয়ে ইনটুইট, কয়েনবেস ও ওপেনএআই চলতি বছর বেটারের সঙ্গে অংশীদারত্ব করেছে বলেও তিনি দাবি করেন। পাশাপাশি কোম্পানিটি হোম-ইকুইটি লাইন অব ক্রেডিট ব্যবসাতেও শক্ত অবস্থান তৈরি করেছে।

গর্গের দাবি, কোম্পানির ঋণ দেওয়ার পরিমাণ তিন গুণ বেড়েছে এবং বেটার এখন লাভজনক হওয়ার খুব কাছাকাছি। তিনি বলেন,  ‘আমরা জিতছি। আমরা মাঠের এক প্রান্ত থেকে বল নিয়ে প্রায় গোললাইনের কাছে পৌঁছে গিয়েছিলাম’। তার ভাষ্য অনুযায়ী, সাফল্যের পরও তাকে চাকরিচ্যুত করা উচিত হয়নি। 

তবে নিজের কঠোর ব্যবস্থাপনা পদ্ধতি ও ৯০০ কর্মী ছাঁটাইয়ের ঘটনায় কোম্পানির সুনাম ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার বিষয়টি গর্গ স্বীকার করেছেন। তার ভাষায়, ওই সিদ্ধান্তের নেতিবাচক প্রভাব তাকে দীর্ঘদিন তাড়া করবে।

বেটার হোম অ্যান্ড ফাইন্যান্স এবং নতুন সিইও ড্যানিয়েল লুইস এ বিষয়ে মন্তব্যের অনুরোধে কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি। তবে ৪ আগস্ট লুইস এক্সে লিখেছেন,  ‘বিশাল গর্গকে ছাড়া কখনোই বেটার তৈরি হতো না। এর জন্য সম্মান প্রাপ্য।’

গর্গের দাবি, কোম্পানির বর্তমান পরিস্থিতিতে তাকে সরিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত ভুল হয়েছে এবং তিনি আবারও নেতৃত্বে ফিরতে চান।

সূত্র: সিএনএন
 

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow