চাকসু নির্বাচনের আগে ৪ ছাত্রদল নেতার ছাত্রত্ব ফিরিয়ে দিলো প্রশাসন

2 days ago 10

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্রসংসদ (চাকসু) নির্বাচনের প্রাক্কালে ছাত্রদলের চার নেতার ছাত্রত্ব ফিরিয়ে দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় (চবি) কর্তৃপক্ষ। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের এ সিদ্ধান্তে নির্বাচনী মাঠে নতুন সমীকরণ তৈরি করতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, অনেক আগেই শিক্ষাবর্ষ অনুযায়ী ছাত্রত্ব শেষ হয়েছে ছাত্রদলের এ চার নেতার। তবে সাম্প্রতিক চাকসু নির্বাচন সামনে রেখে প্রশাসনের সুপারিশে নতুন করে তাদের ছাত্রত্ব পুনর্বহাল করে কর্তৃপক্ষ। প্রশাসনের বিশেষ সুপারিশে ইতোমধ্যে হলে সিট পেয়েছে একজন।

ছাত্রত্ব ফিরে পাওয়া ছাত্রদল নেতারা হলেন, আব্দুল্লাহ আল নোমান। তিনি চবি ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক এবং রাজনীতি বিজ্ঞান বিভাগের ২০০৯-১০ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। তিনি মঙ্গলবার (২৬ আগস্ট) প্রশাসনের বিশেষ সুপারিশে মাস্টার্সে ভর্তির সুযোগ পায়। সাংগঠনিক সম্পাদক মোহাম্মদ সাজ্জাদ হোসেন হৃদয়, তিনি দর্শন বিভাগের ২০১৫-১৬ শিক্ষার্থী। হাসান আহমেদ অর্থনীতি বিভাগের ২০১৫-১৬ শিক্ষাবর্ষের স্নাতকোত্তরের শিক্ষার্থী। স্নাতকোত্তরের শিক্ষার্থী হওয়া সত্ত্বেও তার আসন রয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের অতীশ দীপঙ্কর শ্রীজ্ঞান হলে।

এছাড়াও ইংরেজি বিভাগের ২০১৫-১৬ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী জালাল সিদ্দিকী পরীক্ষা দিচ্ছেন বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সিদ্ধান্তে।

বিশ্ববিদ্যালয় সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, বিভিন্ন সময়ে প্রশাসনের সুপারিশে ছাত্রদলের এ চার নেতাকে ছাত্রত্ব ফিরিয়ে দেওয়া ও পরীক্ষার সিদ্ধান্ত হয়। আর এ সিদ্ধান্ত বিশেষভাবে সুপারিশ করেন প্রশাসনের একাধিক ঊর্ধ্বতন শিক্ষক। বিশ্ববিদ্যালয় আইনে এমন নিয়ম না থাকলেও বিশেষ বিবেচনায় ভর্তি ও পরীক্ষার সুযোগ করে দিয়েছে বলে জানান কর্তৃপক্ষ।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক শিক্ষক জাগো নিউজকে জানান, একজন শিক্ষার্থী যে কোনো ইয়ারে দুবার পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ পাবে এর বাহিরে আর সুযোগ নেই। গত ১৩ আগস্ট উপাচার্যের আদেশক্রমে স্পেশাল পরীক্ষা বন্ধ করা হয়েছে। অনার্সের রেজিস্ট্রেশন মেয়াদ ৬ বছর আর মাস্টার্সের রেজিস্ট্রেশন মেয়াদ দুই বছর। এর বাহিরে বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুযায়ী ভর্তি বা পরীক্ষা দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে চবি ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল নোমান জাগো নিউজকে বলেন, ‘বিগত সরকারের সময় হামলা, মামলা, জুলুম নির্যাতনের কারণে পরীক্ষা দিতে পারি নাই। এটা শুধু চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় না ঢাবি, রাবি, জবি সবখানে ছাত্রত্ব ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে। বিশেষ ব্যবস্থায় মাস্টার্সের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন আছে জন্যই আমাকে দিয়েছে।

এ বিষয়ে জানতে চবি ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক মোহাম্মদ সাজ্জাদ হোসেন হৃদয়কে একাধিকবার ফোন ও হটসঅ্যাপে যোগাযোগ করেও সাড়া পাওয়া যায়নি।

জালাল সিদ্দিকী জাগো নিউজকে বলেন, আমি পলিটিক্যাল কারণে পরীক্ষাগুলো দিতে পারিনি। আমাদের জন্য একটি ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং কমিটি গঠিত হয়। সেই কমিটি ফ্যাসিবাদী আমলের যারা নিপীড়ন ও নির্যাতনের শিকার হয়ে অ্যাকাডেমিক লাইভ শেষ করতে পারে নাই কিংবা যারা বৈষম্যের শিকার হয়েছে তাদের সেখানে (ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং কমিটিতে) আবেদন করতে বলা হয়। আমিও সেখানে আবেদন করেছিলাম। পরে তারা তদন্ত করে ডিপার্টমেন্টের সঙ্গে কথা বলে আমাকে পরীক্ষায় বসার অনুমতি দেয়।

ছাত্র অধিকার পরিষদ চবির আহ্বায়ক তামজিদ উদ্দীন জাগো নিউজকে বলেন, ‘এ বিষয়ে আমরা কিছুটা জেনেছিলাম যে স্বৈরাচারী শাসনে যারা ক্যাম্পাসে আসতে বা মাস্টার্স করতে পারেনি তাদের বিশেষভাবে ভর্তির সুযোগ করে দিয়েছে প্রশাসন। বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুযায়ী এরকম কোনো নিয়ম যেহেতু নেই তাই আমরা নোমান ভাইয়ের ভর্তির বিষয়কে নৈতিকভাবে সমর্থন করছি না। তারা আইনকে অমান্য করে তাদের উদ্দেশ্যকে হাসিল করেছে।

চবি বিপ্লবী ছাত্র মৈত্রীর সভাপতি জশদ জাকির জাগো নিউজকে বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এ সময়ে তাদের যে স্বেচ্ছাচারীতামূলক সিদ্ধান্তগুলো নিয়েছে তা শিক্ষার্থীদের কাছে প্রকাশ করতে হবে। কোনো অধিকারে বা আইনে তারা এমন সিদ্ধান্ত নিচ্ছে আমরা জানতে চাই। কোনো শিক্ষার্থী যদি টানা ৩ বছর একাডেমিকে না থাকে তাহলে তার ছাত্রত্ব বাতিল হয়ে যায়। এতোদিন পরে এ শিক্ষার্থীরা কীভাবে ছাত্রত্ব ফিরিয়ে পেলো আমরা তার স্বচ্ছতার জবাব চাই।

চাকসু নির্বাচন কমিশনার অধ্যাপক ড. মনির উদ্দিন জাগো নিউজকে বলেন, এমন কোনো শিক্ষার্থী মাস্টার্সে ভর্তি হওয়ার পরে চাকসুতে অংশগ্রহণ করতে পারবে কী না জানি না। আমাদের চাকসু গঠনতন্ত্র অনুযায়ী যারা সুযোগ পাবে তারাই প্রার্থীতে দাঁড়াতে পারবে।

উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মো. কামাল উদ্দিন জাগো নিউজকে বলেন, এটা একাডেমি বিষয় আমি এ ব্যাপারে কিছু বলতে পারবো না। আমি যে বিষয় জানি না বা রিলেভ্যান্ট না সে বিষয়ে আমি বলবো না।

উপ-উপাচার্য (একাডেমিক) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ শামীম উদ্দিন খান জগো নিউজকে বলেন, এটা কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়মের মধ্যে পড়ে না যেহেতু আওয়ামী লীগের সময় তারা বিশ্ববিদ্যালয়ে আসতে পারেনি পরীক্ষা দিতে পারেনি যার জন্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় এগুলোতেও বিশেষ বিবেচনায় তাদের ভর্তি ও পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ দেওয়া হচ্ছে।

চাকসু নির্বাচনকে কেন্দ্র করে চবি ক্যাম্পাসে ইতোমধ্যে রাজনৈতিক সংগঠনগুলোর তৎপরতা বেড়েছে। ছাত্রশিবির, ছাত্রদল, বাগছাসসহ অন্যান্য সংগঠনগুলো তাদের প্রার্থী ঠিক করতে ব্যস্ত সময় পার করছেন। দীর্ঘ ৩৫ বছর পর চাকসু নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। নির্বাচন ঘিরে ইতোমধ্যে ক্যাম্পাসে রাজনৈতিক উত্তাপ ও নানা গুঞ্জন চলমান।

সোহেল রানা/আরএইচ/জিকেএস

Read Entire Article