চাঞ্চল্যকর শিশু তাবাসসুম ধর্ষণ মামলায় আসামির মৃত্যুদণ্ড

ঝিনাইদহে চাঞ্চল্যকর শিশু তাবাসসুম ধর্ষণ ও ধর্ষণের পরে শ্বাসরোধে হত্যার মামলায় আসামি আবু তাহেরকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। সোমবার (২২ জুন) বেলা সাড়ে ১১টায় বহুল আলোচিত এই মামলার রায় ঘোষণা করেন ঝিনাইদহের শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনাল। বিচারক সালেহুজ্জামান এ রায় ঘোষণা করেন। দণ্ডপ্রাপ্ত আবু তাহের (৩৩) কালীগঞ্জ উপজেলার বাদেডিহি গ্রামের মসলেম উদ্দিনের ছেলে। জানা গেছে, গত ২৬ ফেব্রুয়ারি সকালে উপজেলার বাদুড়গাছা গ্রামে চিপস ও জুস কিনে দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে চার বছরের শিশু তাবাচ্ছুমকে নিজের ঘরে ডেকে নিয়ে যায় অভিযুক্ত আবু তাহের। ঘটনার চার মাসের মধ্যে সরকারের বিশেষ নির্দেশনায় মাত্র ৫ কর্মদিবসে চাঞ্চল্যকর এ মামলার বিচার কাজ সম্পন্ন হয়েছে। রায়ের পরে আদালত ও সরকারের প্রতি সন্তোষ প্রকাশ করেছেন ভুক্তভোগী শিশুর পরিবার। এর আগে রোববার (২১ জুন) ঝিনাইদহের শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালে রাষ্ট্রপক্ষ ও আসামিপক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষ হয়। ওইদিনই রায়ের দিন ধার্য্য করেন আদালত। চাঞ্চল্যকর এ মামলার দ্রুত নিষ্পত্তিতে খুশি আইনজীবী ও সচেতন নাগরিকরাও। আদালত সূত্রে জানা যায়, গত ২৬ ফেব্রুয়ারি সকালে উপজেলার বাদুড়গাছ

চাঞ্চল্যকর শিশু তাবাসসুম ধর্ষণ মামলায় আসামির মৃত্যুদণ্ড
ঝিনাইদহে চাঞ্চল্যকর শিশু তাবাসসুম ধর্ষণ ও ধর্ষণের পরে শ্বাসরোধে হত্যার মামলায় আসামি আবু তাহেরকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। সোমবার (২২ জুন) বেলা সাড়ে ১১টায় বহুল আলোচিত এই মামলার রায় ঘোষণা করেন ঝিনাইদহের শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনাল। বিচারক সালেহুজ্জামান এ রায় ঘোষণা করেন। দণ্ডপ্রাপ্ত আবু তাহের (৩৩) কালীগঞ্জ উপজেলার বাদেডিহি গ্রামের মসলেম উদ্দিনের ছেলে। জানা গেছে, গত ২৬ ফেব্রুয়ারি সকালে উপজেলার বাদুড়গাছা গ্রামে চিপস ও জুস কিনে দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে চার বছরের শিশু তাবাচ্ছুমকে নিজের ঘরে ডেকে নিয়ে যায় অভিযুক্ত আবু তাহের। ঘটনার চার মাসের মধ্যে সরকারের বিশেষ নির্দেশনায় মাত্র ৫ কর্মদিবসে চাঞ্চল্যকর এ মামলার বিচার কাজ সম্পন্ন হয়েছে। রায়ের পরে আদালত ও সরকারের প্রতি সন্তোষ প্রকাশ করেছেন ভুক্তভোগী শিশুর পরিবার। এর আগে রোববার (২১ জুন) ঝিনাইদহের শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালে রাষ্ট্রপক্ষ ও আসামিপক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষ হয়। ওইদিনই রায়ের দিন ধার্য্য করেন আদালত। চাঞ্চল্যকর এ মামলার দ্রুত নিষ্পত্তিতে খুশি আইনজীবী ও সচেতন নাগরিকরাও। আদালত সূত্রে জানা যায়, গত ২৬ ফেব্রুয়ারি সকালে উপজেলার বাদুড়গাছা গ্রামে চিপস ও জুস কিনে দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে চার বছরের শিশু তাবাসসুমকে নিজের ঘরে ডেকে নিয়ে যায় অভিযুক্ত আবু তাহের। সেখানে শিশুটির ওপর পাশবিক নির্যাতন চালানো হয়। একপর্যায়ে শিশুটি যন্ত্রণায় চিৎকার করতে গেলে খুনি আবু তাহের নিজের লুঙ্গি দিয়ে তার মুখ ও নাক চেপে ধরে। কিছুক্ষণের মধ্যেই শ্বাসরোধে মারা যায় তাবাচ্ছুম।  পরে ঘটনা ধামাচাপা দিতে ওই রাতেই শিশুটির মরদেহ একটি বস্তায় ভরে পাশের আব্দুল জব্বার মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সেপটিক ট্যাংকের ভেতরে লুকিয়ে রাখে অভিযুক্ত আবু তাহের। ওই ঘটনায় গত ২৬ ফেব্রুয়ারি শিশু তাবাসসুমের বাবা নজরুল ইসলাম বাদী হয়ে কালীগঞ্জ থানায় ধর্ষণ ও ধর্ষণের পরে হত্যার অভিযোগ এনে আবু তাহেরের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। মামলার পরপরই পুলিশের অভিযানে ওই দিন রাতেই কুষ্টিয়া শহরের একটি ভাড়া বাসা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারের পর আসামি আবু তাহের পুলিশের কাছে এবং পরে আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় নিজের অপরাধ স্বীকার করে জবানবন্দি দেয়। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও কালীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জেল্লাল হোসেন গত ২৬ মে আদালতে চার্জশিট (অভিযোগপত্র) দাখিল করেন। এরপর দ্রুততম সময়ে মামলার ১৬ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ ও শুনানি শেষে রোববার যুক্তিতর্ক শেষ হয়। মামলার একমাত্র আসামি আবু তাহের একটি কোম্পানির বিক্রয় প্রতিনিধি হিসেবে কর্মরত ছিলেন এবং বাদেডিহি গ্রামে নিহত শিশু তাবাসসুমদের বাড়ির পাশেই ভাড়া বাসায় বসবাস করত। নিহত তাবাসসুমের বাবা নজরুল ইসলাম পেশায় টেইলার্স কর্মচারী। এবং তার মা হালিমা খাতুন বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ‘ওয়েব ফাউন্ডেশন’-এ চাকরি করেন। শিশুটির বাবা-মা জানান, অভিযুক্ত আবু তাহেরের সর্বোচ্চ শাস্তি অর্থাৎ ফাঁসি কার্যকর চান তারা। যাতে ভবিষ্যতে আর কোনো মায়ের বুক এভাবে খালি না হয়। তাবাসসুমের বাবা নজরুল ইসলাম বলেন, সরকারকে ধন্যবাদ জানাই। বিশেষ করে আইনমন্ত্রী মহোদয় এই মামলা গুরুত্ব সহকারে নিয়েছেন। আমরা চাই, উচ্চ আদালতেও যেন এ রায় বহাল থাকে। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী পিপি অ্যাডভোকেট আকিদুল ইসলাম বলেন, আমরা আদালতে আসামির বিরুদ্ধে অপরাধের সব তথ্য-প্রমাণ ও ১৬ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য নিখুঁতভাবে উপস্থাপন করতে পেরেছি। আদালত আমাদের প্রত্যাশিত রায় দিয়েছেন। উচ্চ আদালতে যেন আসামির দণ্ড বহাল থাকে, সেটাই প্রত্যাশা।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow