চান্দ্র মাসের সঠিক তারিখ বাস্তবায়ন কমিটির সাথে ধর্ম মন্ত্রণালয় আলোচনা করা উচিত
ঢাকা: বাংলাদেশের জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটি চন্দ্র মাস গণনার ক্ষেত্রে কুরআন, সুন্নাহ, ফিকহ, জ্যোতির্বিজ্ঞান এবং বাংলাদেশের আবহাওয়া অধিদপ্তর থেকে প্রতি মাসে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রদত্ত নতুন চাঁদের স্থানাঙ্ক মানছে না। ফলে বাংলাদেশের কোটি কোটি মুসলিম প্রতি রমজানের প্রথম রোজাটি ছেড়ে দিতে বাধ্য হচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এছাড়া শাওয়াল মাসের প্রথম তারিখকে রমজানের শেষ তারিখ জ্ঞান করে ঈদের দিনে রোজা রাখতে বাধ্য হচ্ছেন অনেকে। এই বিষয়টিকে কেন্দ্র করে আজ জাতীয় প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে চান্দ্র মাসের সঠিক তারিখ বাস্তবায়ন কমিটি।সংবাদ সম্মেলনে আয়োজক সংগঠন দাবি করে, ইয়াওমুন নহর বা কোরবানির দিনকে বাংলাদেশ ইয়াওমু আরাফা গণ্য করে হজের দিনের অত্যন্ত ফজিলতপূর্ণ নফল রোজাটি মূলত কোরবানির ঈদের দিন পালন করতে বাধ্য হচ্ছে। অথচ শরীয়তে দুই ঈদের দিন রোজা রাখা হারাম। ঈদুল ফিতর এবং ঈদুল আযহার ঈদের সালাত একদিন পরে পালন করতে বাধ্য হয়ে ওয়াজিব ত্যাগের গুনাহগার হতে বাধ্য হচ্ছেন মুসলিমরা। তাশরিকের ওয়াজিব তাকবীর ১ দিন পরে শুরু করতে বাধ্য হয়ে প্রথম দিনের ৫টি ওয়াজিব ত্যাগের গুনাহে লিপ্ত হতে বাধ্য হচ্ছেন। শ
ঢাকা: বাংলাদেশের জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটি চন্দ্র মাস গণনার ক্ষেত্রে কুরআন, সুন্নাহ, ফিকহ, জ্যোতির্বিজ্ঞান এবং বাংলাদেশের আবহাওয়া অধিদপ্তর থেকে প্রতি মাসে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রদত্ত নতুন চাঁদের স্থানাঙ্ক মানছে না। ফলে বাংলাদেশের কোটি কোটি মুসলিম প্রতি রমজানের প্রথম রোজাটি ছেড়ে দিতে বাধ্য হচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
এছাড়া শাওয়াল মাসের প্রথম তারিখকে রমজানের শেষ তারিখ জ্ঞান করে ঈদের দিনে রোজা রাখতে বাধ্য হচ্ছেন অনেকে। এই বিষয়টিকে কেন্দ্র করে আজ জাতীয় প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে চান্দ্র মাসের সঠিক তারিখ বাস্তবায়ন কমিটি।
সংবাদ সম্মেলনে আয়োজক সংগঠন দাবি করে, ইয়াওমুন নহর বা কোরবানির দিনকে বাংলাদেশ ইয়াওমু আরাফা গণ্য করে হজের দিনের অত্যন্ত ফজিলতপূর্ণ নফল রোজাটি মূলত কোরবানির ঈদের দিন পালন করতে বাধ্য হচ্ছে। অথচ শরীয়তে দুই ঈদের দিন রোজা রাখা হারাম। ঈদুল ফিতর এবং ঈদুল আযহার ঈদের সালাত একদিন পরে পালন করতে বাধ্য হয়ে ওয়াজিব ত্যাগের গুনাহগার হতে বাধ্য হচ্ছেন মুসলিমরা। তাশরিকের ওয়াজিব তাকবীর ১ দিন পরে শুরু করতে বাধ্য হয়ে প্রথম দিনের ৫টি ওয়াজিব ত্যাগের গুনাহে লিপ্ত হতে বাধ্য হচ্ছেন। শবে কদর, শবে বরাত, আখেরি চাহার শোম্বা, প্রতি মাসে আইয়ামে বীজের নফল রোজা সঠিক দিন-তারিখে পালন করতে পারছেন না। এমনটাই অভিযোগ উত্থাপন করে ধর্ম মন্ত্রণালয়ের তত্ত্বাবধানে জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ এই সমস্যাটি অনতিবিলম্বে সমাধানের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করা হয়েছে।
চন্দ্র মাসের সঠিক তারিখ বাস্তবায়ন কমিটি আরও দাবি করে, পবিত্র কোরআনের সূরা বাকারার ১৮৫ ও ১৮৯, সূরা তাওবা-৩৬, সূরা আর রহমান-৫, সূরা ইউনুস-৫ আয়াতসমূহ; বুখারী শরীফ ১৯০৯, মুসলিম শরীফ ১০৮১ নং হাদিস; এবং গত সাড়ে তেরো শত বছরের হানাফী, হাম্বলী, মালেকী মাজহাবের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ১৯৮৬ সালের অক্টোবর মাসে আম্মান কনফারেন্সে বিশ্বের শতাধিক শরীয়াহ বিশেষজ্ঞের রায়ের ভিত্তিতে ওআইসি-এর ফিকহ একাডেমি বিজ্ঞানভিত্তিক পদ্ধতি অবলম্বনের সিদ্ধান্ত প্রদান করেছে। কিন্তু বাংলাদেশ জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটি শরীয়ত এবং বিজ্ঞানভিত্তিক এই সিদ্ধান্ত না মেনে সৌদি আরবের একদিন পরে বাংলাদেশে চন্দ্র মাসগুলো শুরু হবে, এমন অলিখিত রেওয়াজ অনুসরণ করে চলেছে।
এই সমস্যা সমাধানের জন্য ২০১৭ সালের ১৯ জানুয়ারি এবং ২ ফেব্রুয়ারি চন্দ্র মাসের সঠিক তারিখ বাস্তবায়ন কমিটির সাথে ইসলামিক ফাউন্ডেশন তথা জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির দ্বিপাক্ষিক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। কিন্তু আলোচনা সভার প্রধান মধ্যস্থতাকারী ও আলোচনা সভার সভাপতি মরহুম অ্যাডভোকেট শেখ মোঃ আব্দুল্লাহ সড়ক দুর্ঘটনায় শয্যাশায়ী হয়ে পড়েন।
পরবর্তীতে ২০১৮ সালের রাজনৈতিক অস্থিরতা, কোভিড-১৯, সভাপতির ইন্তেকাল ইত্যাদি কারণে বিষয়টির সমাধান অসমাপ্ত রয়ে যায়। এমতাবস্থায় ধর্ম মন্ত্রণালয়ের তত্ত্বাবধানে চান্দ্র মাসের সঠিক তারিখ বাস্তবায়ন কমিটির সাথে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের অসমাপ্ত দ্বিপাক্ষিক আলোচনা সম্পন্ন করে জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ এই সমস্যাটির অনতিবিলম্বে সমাধানের দাবিতে এই সংবাদ সম্মেলন আয়োজন করা হয়েছে।
উক্ত সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের সভাপতি, সহ-সভাপতি, মহাসচিব ছাড়াও আরও অনেক দেশবরেণ্য ওলামা ও বিশিষ্টজন।
What's Your Reaction?