চার বছরে ৪ কোটি পরিবার পাবে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ : প্রধানমন্ত্রী

নারীর ক্ষমতায়ন ও সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আগামী ৪ বছরের মধ্যে দেশব্যাপী চার কোটি পরিবারকে পর্যায়ক্রমে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচির আওতায় আনা হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বুধবার (১ এপ্রিল) জাতীয় সংসদে পটুয়াখালী-৪ আসনের সংসদ সদস‌্য এবিএম মোশাররফ হোসেনের এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী এসব তথ্য জানান। এ সময় স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ (বীর বিক্রম) অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন। ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে নারীর ক্ষমতায়ন প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, সংবিধানে [১৫(ঘ) অনুচ্ছেদ] নাগরিকদের সামাজিক নিরাপত্তার অধিকার নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের অন্যতম মৌলিক দায়িত্ব। ফ্যামিলি কার্ড কার্যক্রম এই সাংবিধানিক দায়বদ্ধতাকে আধুনিক ডিজিটাল কাঠামোর মাধ্যমে বৈষম্যহীন ও মানবিক কল্যাণ রাষ্ট্রে রূপান্তরের প্রধান হাতিয়ার। এই কর্মসূচির মূল দর্শন হচ্ছে, ব্যক্তি নয়, পরিবারই উন্নয়নের মূল একক। নারীদের কেন এই কার্ড দেওয়া হচ্ছে, তার ব্যাখ্যা দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে দেশে প্রচলিত ৯৫টিরও বেশি সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির মাধ্যমে পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীকে সহায়তা দেওয়া হয়। দীর্ঘদিন ধরে এই সহায়ত

চার বছরে ৪ কোটি পরিবার পাবে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ : প্রধানমন্ত্রী

নারীর ক্ষমতায়ন ও সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আগামী ৪ বছরের মধ্যে দেশব্যাপী চার কোটি পরিবারকে পর্যায়ক্রমে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচির আওতায় আনা হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

বুধবার (১ এপ্রিল) জাতীয় সংসদে পটুয়াখালী-৪ আসনের সংসদ সদস‌্য এবিএম মোশাররফ হোসেনের এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী এসব তথ্য জানান। এ সময় স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ (বীর বিক্রম) অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন।

ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে নারীর ক্ষমতায়ন প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, সংবিধানে [১৫(ঘ) অনুচ্ছেদ] নাগরিকদের সামাজিক নিরাপত্তার অধিকার নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের অন্যতম মৌলিক দায়িত্ব। ফ্যামিলি কার্ড কার্যক্রম এই সাংবিধানিক দায়বদ্ধতাকে আধুনিক ডিজিটাল কাঠামোর মাধ্যমে বৈষম্যহীন ও মানবিক কল্যাণ রাষ্ট্রে রূপান্তরের প্রধান হাতিয়ার। এই কর্মসূচির মূল দর্শন হচ্ছে, ব্যক্তি নয়, পরিবারই উন্নয়নের মূল একক।

নারীদের কেন এই কার্ড দেওয়া হচ্ছে, তার ব্যাখ্যা দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে দেশে প্রচলিত ৯৫টিরও বেশি সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির মাধ্যমে পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীকে সহায়তা দেওয়া হয়। দীর্ঘদিন ধরে এই সহায়তা দেওয়া হলেও দারিদ্র্যের হার কাঙ্ক্ষিত রূপে হ্রাস পায়নি এবং জনগোষ্ঠীর পুষ্টি ও স্বাস্থ্যের কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন ঘটেনি। দেখা গেছে, কোনো পরিবারের মাকে এ জাতীয় সহায়তা দেওয়া হলে সেটি পরিবারের শিশুসহ অন্যান্য সদস্যের খাদ্য, পুষ্টি, জরুরি চিকিৎসা ও শিক্ষায় ব্যবহৃত হয় এবং অর্থের অপচয় বা অপ্রয়োজনীয় খাতে ব্যয়ের সুযোগ হ্রাস পায়।

তিনি আরও বলেন, এ কারণে ফ্যামিলি কার্ড পরিবারের প্রধান নারী সদস্যকে দেওয়া হবে। এতে একদিকে সহায়তাটি সরাসরি পরিবারের কল্যাণে ব্যয় হবে, অন্যদিকে ফ্যামিলি কার্ডটি নারী প্রধানের নামে হওয়ায় সম্পদের ওপর তার নিয়ন্ত্রণ বাড়বে। এতে পরিবারে সিদ্ধান্ত প্রদান ও মর্যাদা বৃদ্ধি তথা পরিবার ও সমাজে নারীর ক্ষমতায়ন নিশ্চিত হবে।

ফ্যামিলি কার্ড সম্প্রসারণের হালনাগাদ তথ্য ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরে সংসদ নেতা বলেন, গত ১০ মার্চ (২০২৬) দেশের ১৩টি জেলার ৩টি সিটি করপোরেশন ও ইউনিয়নের ১৫টি ওয়ার্ডে ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি চালু করা হয়েছে। প্রাথমিক পর্যায়ে এর মাধ্যমে ৩৭ হাজার ৮১৪টি নারীপ্রধান পরিবারকে ভাতা প্রদান করা হয়েছে। চলতি অর্থবছরের বাকি ৩ মাসে আরও ৩০ হাজার পরিবারকে এ কর্মসূচির আওতায় আনা হবে জানিয়ে তিনি বলেন, আগামী ৪ (চার) বছরের মধ্যে দেশব্যাপী ৪ (চার) কোটি পরিবারকে পর্যায়ক্রমে ফ্যামিলি কার্ডের আওতায় আনা হবে।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow