চাশতের নামাজের ফজিলত, নিয়ম ও সময়

আল্লাহ তাআলা প্রতিটি প্রাপ্তবয়স্ক মুসলিমের ওপর দিনে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ ফরজ করেছেন। ইসলামের মৌলিক ইবাদতগুলোর মধ্যে এই পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের গুরুত্ব সর্বাধিক। যে ব্যক্তি এতে অবহেলা করে বা একেবারে পরিত্যাগ করে, সে মূলত নিজেরই ক্ষতি করে। আল্লাহ তাআলা বলেন, `অতএব দুর্ভোগ সেই নামাজ আদায়কারীদের জন্য, যারা নিজেদের নামাজ সম্পর্কে উদাসীন।’ (সুরা মাউন: ৪–৫) পাঁচ ওয়াক্ত ফরজ নামাজের বাইরে যে সব নামাজ রয়েছে, সেগুলো নফল ইবাদতের অন্তর্ভুক্ত। এর মধ্যে রয়েছে সুন্নতে রাতিবা, তাহাজ্জুদ, তাহিয়্যাতুল মসজিদ, সালাতুদ দুহা বা চাশতের নামাজ এবং অন্যান্য নফল নামাজ। মূলত নফল ইবাদতই বান্দাকে আল্লাহর আরও নৈকট্যে পৌঁছে দেয়। একটি হাদিসে কুদসিতে আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘যে ব্যক্তি আমার কোনো ওলির সঙ্গে শত্রুতা করে, আমি তার বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করি। আমার বান্দা ফরজ ইবাদতের চেয়ে অধিক প্রিয় কোনো আমলের মাধ্যমে আমার নৈকট্য অর্জন করতে পারে না। এরপর সে নফল ইবাদতের মাধ্যমে ক্রমাগত আমার নৈকট্য লাভ করতে থাকে। অবশেষে আমি তাকে ভালোবাসি।’ (সহিহ বুখারি: ৬৫০২) চাশতের নামাজের পরিচয় ও ফজিলত রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্ল

চাশতের নামাজের ফজিলত, নিয়ম ও সময়

আল্লাহ তাআলা প্রতিটি প্রাপ্তবয়স্ক মুসলিমের ওপর দিনে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ ফরজ করেছেন। ইসলামের মৌলিক ইবাদতগুলোর মধ্যে এই পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের গুরুত্ব সর্বাধিক। যে ব্যক্তি এতে অবহেলা করে বা একেবারে পরিত্যাগ করে, সে মূলত নিজেরই ক্ষতি করে। আল্লাহ তাআলা বলেন, `অতএব দুর্ভোগ সেই নামাজ আদায়কারীদের জন্য, যারা নিজেদের নামাজ সম্পর্কে উদাসীন।’ (সুরা মাউন: ৪–৫)

পাঁচ ওয়াক্ত ফরজ নামাজের বাইরে যে সব নামাজ রয়েছে, সেগুলো নফল ইবাদতের অন্তর্ভুক্ত। এর মধ্যে রয়েছে সুন্নতে রাতিবা, তাহাজ্জুদ, তাহিয়্যাতুল মসজিদ, সালাতুদ দুহা বা চাশতের নামাজ এবং অন্যান্য নফল নামাজ। মূলত নফল ইবাদতই বান্দাকে আল্লাহর আরও নৈকট্যে পৌঁছে দেয়।

একটি হাদিসে কুদসিতে আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘যে ব্যক্তি আমার কোনো ওলির সঙ্গে শত্রুতা করে, আমি তার বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করি। আমার বান্দা ফরজ ইবাদতের চেয়ে অধিক প্রিয় কোনো আমলের মাধ্যমে আমার নৈকট্য অর্জন করতে পারে না। এরপর সে নফল ইবাদতের মাধ্যমে ক্রমাগত আমার নৈকট্য লাভ করতে থাকে। অবশেষে আমি তাকে ভালোবাসি।’ (সহিহ বুখারি: ৬৫০২)

চাশতের নামাজের পরিচয় ও ফজিলত

রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যেসব নফল নামাজের প্রতি বিশেষ উৎসাহ দিয়েছেন, সালাতুদ দুহা বা চাশতের নামাজ তার অন্যতম। বহু হাদিসে একে সালাতুল আওয়াবীন (আল্লাহমুখী বান্দাদের সালাত) বলা হয়েছে। যদিও কিছু ফকিহ মাগরিবের পর আদায়কৃত একটি নফল নামাজকে এ নামে উল্লেখ করেছেন, কিন্তু সহিহ হাদিসের আলোকে অধিকাংশ মুহাদ্দিস চাশতের নামাজকেই সালাতুল আওয়াবীন হিসেবে অভিহিত করেছেন।

চার মাজহাবই একমত যে চাশতের নামাজ মুস্তাহাব ও অত্যন্ত ফজিলতপূর্ণ ইবাদত। শাফেঈ মাজহাবে এই নামাজকে সুন্নতে মুআক্কাদা হিসেবে গণ্য করা হয়েছে।

আবু জর (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন, ‘মানুষের শরীরের প্রতিটি জোড়ের ওপর প্রতিদিন সকালে একটি করে সদকা আবশ্যক হয়ে যায়। প্রতিটি তাসবিহ সদকা, প্রতিটি তাহমিদ সদকা, প্রতিটি তাহলিল সদকা, প্রতিটি তাকবির সদকা, সৎকাজের আদেশ সদকা এবং অসৎকাজ থেকে নিষেধ করাও সদকা। আর চাশতের দুই রাকাত নামাজ এসবের পক্ষ থেকে যথেষ্ট হয়ে যায়।’ (সহিহ মুসলিম: ৭২০)

আরেক হাদিসে কুদসিতে আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘হে আদমসন্তান! দিনের শুরুতে আমার জন্য চার রাকাত নামাজ আদায় করো; আমি দিনের অবশিষ্ট অংশে তোমার জন্য যথেষ্ট হয়ে যাব।’ (সুনানে তিরমিজি: ৪৭৫, সুনানে আবু দাউদ: ১২৮৯)

আবু হুরায়রা (রা.) বলেন, ‘আমার প্রিয় বন্ধু (রাসুলুল্লাহ সা.) আমাকে তিনটি বিষয়ে ওসিয়ত করেছেন, যা আমি মৃত্যু পর্যন্ত ছাড়ব না; প্রতি মাসে তিন দিন রোজা রাখা, চাশতের আদায় করা এবং বিতর পড়ে ঘুমানো।’ (সহিহ বুখারি: ১৯৮১, সহিহ মুসলিম: ৭২১)

আয়েশা (রা.) বলেন, ‘রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সাধারণত চার রাকাত চাশতের নামাজ আদায় করতেন এবং আল্লাহ যত ইচ্ছা তত বাড়িয়ে দিতেন।’ (সহিহ মুসলিম: ৭১৯)

আবদুল্লাহ ইবনে আমর (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন, ‘আমি কি তোমাদের এমন একটি আমলের কথা বলব না, যার লাভ আরও বেশি, যার প্রত্যাবর্তন আরও দ্রুত এবং যার গনিমত আরও বড়? যে ব্যক্তি অজু করে মসজিদে গিয়ে চাশতের নামাজ আদায় করে, সে এ মর্যাদা লাভ করে।’ (আল-মুজামুল কাবীর: ৭৪৭৩)

চাশতের নামাজের সময়

সূর্যোদয়ের কিছুক্ষণ পর যখন সূর্য এক বর্শা পরিমাণ ওপরে ওঠে, তখন থেকে চাশতের নামাজের সময় শুরু হয়। জোহরের আগে সূর্য মধ্যাকাশে পৌঁছানোর আগ পর্যন্ত এ সময় অব্যাহত থাকে।

তবে সর্বোত্তম সময় হলো যখন রোদের তাপ বৃদ্ধি পায়। এ সময় মানুষ সাধারণত বিশ্রামের সুযোগ খোঁজে। এমন সময় আল্লাহর সামনে দাঁড়ানোই প্রকৃত আওয়াবীনের বৈশিষ্ট্য।

হাদিসে এসেছে, রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন, ‘এটি আওয়াবীনের নামাজ, যখন উটের বাচ্চার পায়ের তলা রোদের তাপে উত্তপ্ত হয়ে যায়।’ (সহিহ মুসলিম: ৭৪৮)

চাশতের নামাজের রাকাতের সংখ্যা

অধিকাংশ আলেমের মতে চাশতের নামাজ সর্বনিম্ন দুই রাকাত আদায় করা যায়। চার, ছয় বা আট রাকাত আদায় করা উত্তম।

উম্মে হানি (রা.) বলেন, ‘মক্কা বিজয়ের দিন রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমার ঘরে আট রাকাত সালাত আদায় করেছিলেন।’ (সহিহ বুখারি: ১১৭৬, সহিহ মুসলিম: ৩৩৬)

অন্যদিকে আমর ইবনে আবাসার (রা.) দীর্ঘ হাদিসে রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, ‘সূর্য ওঠার পর তুমি যত ইচ্ছা নামাজ আদায় করো, যতক্ষণ না সূর্য ঠিক মাথার ওপরে পৌঁছে।’ (সহিহ মুসলিম: ৮৩২)

এ হাদিসের আলোকে কিছু আলেম নামাজের রাকাতের সংখ্যার সর্বোচ্চ কোনো সীমা নির্ধারণ করেননি।

চাশতের নামাজ কি নিয়মিত আদায় করা জরুরি?

চাশতের নামাজ ফরজ নয়, এটি একটি সুন্নত ও মুস্তাহাব ইবাদত। তাই এটি ছেড়ে দিলে গুনাহ হবে না। তবে রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যেহেতু এই নামাজের ব্যাপারে সাহাবিদের বিশেষ ওসিয়ত করেছেন, তাই নিয়মিত আদায় করা অত্যন্ত উত্তম।

নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, ‘আল্লাহর কাছে সবচেয়ে প্রিয় আমল হলো সেই আমল, যা নিয়মিত করা হয়, যদিও তা পরিমাণে অল্প হয়।’ (সহিহ বুখারি: ৬৪৬৪, সহিহ মুসলিম: ৭৮৩)

চাশতের নামাজ এমন একটি নফল ইবাদত যা সহজ কিন্তু প্রতিদান অসীম। রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) নিজে এটি আদায় করেছেন, সাহাবিদের এ বিষয়ে বিশেষ ওসিয়ত করেছেন এবং এর অসংখ্য ফজিলতের কথা বর্ণনা করেছেন। তাই একজন মুমিনের উচিত এ নামাজকে দৈনন্দিন জীবনের অংশ করে নেওয়া। হয়তো এই সামান্য দুই বা চার রাকাতই আল্লাহর সন্তুষ্টি ও নৈকট্য লাভের কারণ হয়ে যাবে।

ওএফএফ

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow