চিকিৎসক ধীপ্রার মরদেহ উত্তোলন করে ময়নাতদন্তের নির্দেশ

রাজধানীর ধানমন্ডিতে চিকিৎসক ডা. নাফিসা তাবাসসুম ধীপ্রার মৃত্যুর ঘিরে তদন্তে নতুন মোড় নিয়েছে। মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটন এবং অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ে তার মরদেহ কবর থেকে উত্তোলন করে ময়নাতদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ মোস্তাফিজুর রহমান এ আদেশ দেন। মামলার তদন্তকারী সংস্থা পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) মরদেহ উত্তোলন ও ময়নাতদন্তের অনুমতি চেয়ে আবেদন করলে আদালত তা মঞ্জুর করেন। আরও পড়ুন চিকিৎসক ধীপ্রার মৃত্যুর ঘটনায় স্বামী-শ্বশুরসহ ৪ জনের বিরুদ্ধে মামলা আদালতের আদেশে বলা হয়েছে, মামলার অভিযোগে উঠে এসেছে— ডা. নাফিসা তাবাসসুম ধীপ্রাকে পরিকল্পিতভাবে মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন করা হয়েছে। পাশাপাশি যথাযথ চিকিৎসা না দিয়ে ইচ্ছাকৃতভাবে তাকে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে। এসব অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্তে ময়নাতদন্ত অপরিহার্য বলে আদালত মনে করেছেন। আদেশে আরও উল্লেখ করা হয়, ধীপ্রার মৃত্যুর পর ন্যায়বিচারের পথ বাধাগ্রস্ত করতে ময়নাতদন্ত ছাড়াই গত ৫ জুন দ্রুত রায়েরবাজার বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়েছে বলে মামলায় অভিযোগ করা

চিকিৎসক ধীপ্রার মরদেহ উত্তোলন করে ময়নাতদন্তের নির্দেশ

রাজধানীর ধানমন্ডিতে চিকিৎসক ডা. নাফিসা তাবাসসুম ধীপ্রার মৃত্যুর ঘিরে তদন্তে নতুন মোড় নিয়েছে। মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটন এবং অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ে তার মরদেহ কবর থেকে উত্তোলন করে ময়নাতদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ মোস্তাফিজুর রহমান এ আদেশ দেন। মামলার তদন্তকারী সংস্থা পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) মরদেহ উত্তোলন ও ময়নাতদন্তের অনুমতি চেয়ে আবেদন করলে আদালত তা মঞ্জুর করেন।

আদালতের আদেশে বলা হয়েছে, মামলার অভিযোগে উঠে এসেছে— ডা. নাফিসা তাবাসসুম ধীপ্রাকে পরিকল্পিতভাবে মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন করা হয়েছে। পাশাপাশি যথাযথ চিকিৎসা না দিয়ে ইচ্ছাকৃতভাবে তাকে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে। এসব অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্তে ময়নাতদন্ত অপরিহার্য বলে আদালত মনে করেছেন।

আদেশে আরও উল্লেখ করা হয়, ধীপ্রার মৃত্যুর পর ন্যায়বিচারের পথ বাধাগ্রস্ত করতে ময়নাতদন্ত ছাড়াই গত ৫ জুন দ্রুত রায়েরবাজার বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়েছে বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে।

তদন্ত কর্মকর্তা সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার মাহমুদুল হাসান আদালতের কাছে মরদেহ কবর থেকে উত্তোলন, সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত, ময়নাতদন্ত সম্পন্ন এবং পরে ধর্মীয় বিধান অনুসারে পুনরায় দাফনের অনুমতি চান।

আদালত আবেদন ও সংশ্লিষ্ট নথিপত্র পর্যালোচনা করে ফৌজদারি কার্যবিধি, ১৮৯৮-এর ১৭৬(২) ধারার ক্ষমতাবলে আবেদনটি মঞ্জুর করেন। একই সঙ্গে ঢাকা জেলা ম্যাজিস্ট্রেট, ঢাকা সিভিল সার্জন, তেজগাঁও বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার এবং মামলার তদন্ত কর্মকর্তাকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

গত ৪ জুন ডা. নাফিসা তাবাসসুম ধীপ্রার মৃত্যু হয়। এরপর তার স্বজন, বন্ধু ও সহপাঠীদের অনেকেই দাবি করেন, মৃত্যুর কারণ হিসেবে প্রচারিত ‘কার্ডিয়াক অ্যারেস্ট’-এর ব্যাখ্যায় অসংগতি রয়েছে।

স্বজনদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির সদস্যদের মানসিক ও শারীরিক নির্যাতনের শিকার ছিলেন ধীপ্রা। মৃত্যুর আগে টানা তিন দিন তাকে একটি কক্ষে আটকে রাখা হয়েছিল এবং পর্যাপ্ত খাবারও দেওয়া হয়নি। মৃত্যুর দুই দিন আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে তিনি নিজের ওপর চলা নির্যাতনের কথাও উল্লেখ করেছিলেন বলে মামলায় বলা হয়েছে।

এ ঘটনায় গত ১৬ জুন নিহত চিকিৎসকের স্বজন মো. মশিউর রহমান শাহ দণ্ডবিধির ৩০৪(ক), ১৯৩, ১৯৭, ২০১, ১০৯ ও ৩৪ ধারায় অবহেলাজনিত মৃত্যু, নির্যাতন এবং ময়নাতদন্ত ছাড়াই দাফনের মাধ্যমে আলামত গোপনের অভিযোগে মামলা করেন।

মামলায় আসামি করা হয়েছে ধীপ্রার স্বামী ডা. রহমত রশিদ সিয়াম, শ্বশুর বারডেম হাসপাতালের কার্ডিয়াক বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ডা. মোহাম্মদ আব্দুর রশীদ, শাশুড়ি সিদ্দিকা সুলতানা, শ্বশুরের জামাতা ও ব্যঙ্গাত্মক ওয়েবসাইট ‘ইয়ার্কি’র সম্পাদক সিমু নাসেরসহ অজ্ঞাতনামা আরও কয়েকজনকে।

তদন্তসংশ্লিষ্টদের ধারণা, মরদেহের ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন ধীপ্রার মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ হিসেবে কাজ করবে এবং মামলার তদন্তে নতুন তথ্য-উপাত্ত সামনে আসতে পারে।

এমডিএএ/এমএএইচ/

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow