চিরচেনা ব্যস্ত দুবাই এখন জনমানবশূন্য

চিরচেনা কোলাহল, ব্যস্ত রাস্তাঘাট আর ভিড় ঠাসা শপিংমল সবই যেন হঠাৎ থমকে গেছে। মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতির উত্তাপে দুবাই এখন প্রায় জনমানবশূন্য। ‌‘যারা কাতারের নাগরিক, অর্থসম্পদ আছে তাদের অনেকেই দোহা ছেড়ে সৌদি সীমানার কাছাকাছি চলে গেছেন। আর প্রবাসী বাংলাদেশিরা বেশিরভাগ এখন দোহায় অবস্থান করছেন। দুবাইয়ের চিরচেনা সেই ভিড় উধাও, রাস্তাঘাট প্রায় ফাঁকা।’ বুধবার (৪ মার্চ) বিবিসি বাংলাকে বলেন প্রবাসী বাংলাদেশি আসিফ মাইনুদ্দীন বাপন। তিনি জানান, মধ্য রমজানে সংযুক্ত আরব আমিরাতে বিশেষ করে দুবাইয়ে একচেটিয়া কেনাবেচা চলে। বাংলাদেশসহ বিশ্বের নানা দেশ থেকে মানুষ শপিংয়ের জন্য দুবাইয়ে ভিড় করেন। ফলে এই সময়টায় রাস্তাঘাট ও শপিংমলগুলোতে থাকে তীব্র মানুষের চাপ। কিন্তু গত চার দিনে পরিস্থিতি নাটকীয়ভাবে বদলে গেছে। বাপন আরও বলেন, তিনি যে শপিং মলে কাজ করেন সেখানে সাধারণত সোম থেকে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত ভিড় থাকে। এখন সেখানে ক্রেতার দেখা প্রায় মিলছে না। একই চিত্র দেখা যাচ্ছে জেদ্দা, কুয়েত, বাহরাইনসহ মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য দেশেও একই কথা জানিয়েছেন সেসব দেশের প্রবাসীরা। যুদ্ধের আতঙ্কে শুধু মানুষের উপস্থিতি কমেনি, নিত্যপণ্যের

চিরচেনা ব্যস্ত দুবাই এখন জনমানবশূন্য

চিরচেনা কোলাহল, ব্যস্ত রাস্তাঘাট আর ভিড় ঠাসা শপিংমল সবই যেন হঠাৎ থমকে গেছে। মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতির উত্তাপে দুবাই এখন প্রায় জনমানবশূন্য।

‌‘যারা কাতারের নাগরিক, অর্থসম্পদ আছে তাদের অনেকেই দোহা ছেড়ে সৌদি সীমানার কাছাকাছি চলে গেছেন। আর প্রবাসী বাংলাদেশিরা বেশিরভাগ এখন দোহায় অবস্থান করছেন। দুবাইয়ের চিরচেনা সেই ভিড় উধাও, রাস্তাঘাট প্রায় ফাঁকা।’

বুধবার (৪ মার্চ) বিবিসি বাংলাকে বলেন প্রবাসী বাংলাদেশি আসিফ মাইনুদ্দীন বাপন।

তিনি জানান, মধ্য রমজানে সংযুক্ত আরব আমিরাতে বিশেষ করে দুবাইয়ে একচেটিয়া কেনাবেচা চলে। বাংলাদেশসহ বিশ্বের নানা দেশ থেকে মানুষ শপিংয়ের জন্য দুবাইয়ে ভিড় করেন। ফলে এই সময়টায় রাস্তাঘাট ও শপিংমলগুলোতে থাকে তীব্র মানুষের চাপ। কিন্তু গত চার দিনে পরিস্থিতি নাটকীয়ভাবে বদলে গেছে।

বাপন আরও বলেন, তিনি যে শপিং মলে কাজ করেন সেখানে সাধারণত সোম থেকে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত ভিড় থাকে। এখন সেখানে ক্রেতার দেখা প্রায় মিলছে না।

একই চিত্র দেখা যাচ্ছে জেদ্দা, কুয়েত, বাহরাইনসহ মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য দেশেও একই কথা জানিয়েছেন সেসব দেশের প্রবাসীরা।

যুদ্ধের আতঙ্কে শুধু মানুষের উপস্থিতি কমেনি, নিত্যপণ্যের কেনাবেচাও হঠাৎ বেড়েছে। কোনো কোনো পণ্যের দাম তিন থেকে চারগুণ পর্যন্ত বেড়ে গেছে বলে জানা গেছে।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার জবাবে ইরান কাতার, কুয়েত, সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও বাহরাইনে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের ঘাঁটি লক্ষ্য করে পাল্টা ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালাচ্ছে। এসব হামলার ফলে একাধিক দেশে বিমান চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ ও স্থগিত করা হয়েছে।

বাংলাদেশের বৈদেশিক কর্মসংস্থান ও শ্রম কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, ইরানের প্রতিরক্ষামূলক হামলায় এখন পর্যন্ত দুইজন বাংলাদেশি নিহত হয়েছেন এবং বেশ কয়েকজন প্রবাসী বাংলাদেশি আহত হয়েছেন।

যুক্তরাষ্ট্র–ইসরায়েল–ইরান সংঘাত ঘিরে প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে। প্রবাসে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় শ্রমবাজার মধ্যপ্রাচ্য হওয়ায়, এই যুদ্ধ পরিস্থিতি সেখানে অবস্থানরত লাখো প্রবাসী বাংলাদেশিকে গভীর উদ্বেগে ফেলেছে।

এমআরএম/এএসএম

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow