চীনা-কানাডিয়ান সম্পর্ক নতুন মোড়ে, শুল্কে ছাড় ঘোষণা

চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং ও চীনে সফররত কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি একটি উচ্চস্তরের বৈঠকের পর দুই দেশই কিছু পণ্যে শুল্ক কমানোর ঘোষণা দিয়েছে। এই সিদ্ধান্ত তাদের দেশগুলোর মধ্যে সম্পর্ক পুনঃস্থাপনের ইঙ্গিত বহন করছে। বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) কার্নি জানান, কানাডা ও চীন বৈদ্যুতিক যান (ইভি) এবং ক্যানোলা (সরিষার মতো তেলবীজ) পণ্যের ওপর শুল্ক কমাতে একটি প্রাথমিক বাণিজ্য চুক্তিতে পৌঁছেছে। দুই দেশই বাণিজ্য বাধা দূর করা এবং নতুন কৌশলগত সম্পর্ক গড়ে তোলার অঙ্গীকার করেছে। বৈঠকের ফলাফল অনুযায়ী, চীন ১ মার্চের মধ্যে কানাডার ক্যানোলা তেলের উপর শুল্ক ৮৫ থেকে ১৫ শতাংশে নামাবে। অপর দিকে, কানাডা চীনের ইলেকট্রিক যানবাহনের ওপর সর্বাধিক-পছন্দসিদ্ধ দেশ (most-favoured-nation) হারে ৬.১ শতাংশ ট্যাক্স আরোপ করবে। কার্নি এই ডিলকে ‘উন্নয়নমূলক’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। এটি আসলে দীর্ঘদিন ধরে উত্তপ্ত থাকা সম্পর্কের মধ্যে বড় ধরনের অগ্রগতি। শি এই বৈঠককে ‘সম্পর্কের নতুন মোড়’ বলে অভিহিত করেছেন, আর কার্নি এটিকে একটি কূটনৈতিক জয় হিসেবে দেখছেন। তিনি প্রথম কানাডিয়ান নেতা যিনি প্রায় ১০ বছর পর চীনে সফর করেছেন। কার্নির ল

চীনা-কানাডিয়ান সম্পর্ক নতুন মোড়ে, শুল্কে ছাড় ঘোষণা

চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং ও চীনে সফররত কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি একটি উচ্চস্তরের বৈঠকের পর দুই দেশই কিছু পণ্যে শুল্ক কমানোর ঘোষণা দিয়েছে। এই সিদ্ধান্ত তাদের দেশগুলোর মধ্যে সম্পর্ক পুনঃস্থাপনের ইঙ্গিত বহন করছে।

বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) কার্নি জানান, কানাডা ও চীন বৈদ্যুতিক যান (ইভি) এবং ক্যানোলা (সরিষার মতো তেলবীজ) পণ্যের ওপর শুল্ক কমাতে একটি প্রাথমিক বাণিজ্য চুক্তিতে পৌঁছেছে। দুই দেশই বাণিজ্য বাধা দূর করা এবং নতুন কৌশলগত সম্পর্ক গড়ে তোলার অঙ্গীকার করেছে।

বৈঠকের ফলাফল অনুযায়ী, চীন ১ মার্চের মধ্যে কানাডার ক্যানোলা তেলের উপর শুল্ক ৮৫ থেকে ১৫ শতাংশে নামাবে। অপর দিকে, কানাডা চীনের ইলেকট্রিক যানবাহনের ওপর সর্বাধিক-পছন্দসিদ্ধ দেশ (most-favoured-nation) হারে ৬.১ শতাংশ ট্যাক্স আরোপ করবে।

কার্নি এই ডিলকে ‘উন্নয়নমূলক’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। এটি আসলে দীর্ঘদিন ধরে উত্তপ্ত থাকা সম্পর্কের মধ্যে বড় ধরনের অগ্রগতি। শি এই বৈঠককে ‘সম্পর্কের নতুন মোড়’ বলে অভিহিত করেছেন, আর কার্নি এটিকে একটি কূটনৈতিক জয় হিসেবে দেখছেন। তিনি প্রথম কানাডিয়ান নেতা যিনি প্রায় ১০ বছর পর চীনে সফর করেছেন।

কার্নির লক্ষ্য ছিল কানাডার বাণিজ্যকে যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে বৈচিত্র্যপূর্ণ করা, বিশেষ করে ট্রাম্প প্রশাসনের অনিশ্চিত শুল্ক নীতির পর। এই চুক্তির ফলে চীনের বিনিয়োগও কানাডায় বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে, যা যুক্তরাষ্ট্রের সীমান্তের কাছে অবস্থান করছে।

কার্নি সাংবাদিকদের বলেন, কানাডা-চীনের সম্পর্ক সাম্প্রতিক মাসে আরও ‘পূর্বানুমেয়’ হয়েছে। তিনি বলেন, বৈঠকটি ‘বাস্তবিক ও সম্মানজনক’ ছিল। তবে তিনি স্পষ্ট করে জানান, কানাডা সব বিষয়ে চীনের সঙ্গে একমত নয়। মানবাধিকার, নির্বাচনে হস্তক্ষেপের সম্ভাবনা এবং সুরক্ষা ব্যবস্থার প্রয়োজনসহ বিষয়গুলোতে তিনি স্পষ্ট সীমারেখা তুলে ধরেছেন।

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, কার্নির চীনের সফর অন্যান্য দেশের জন্যও উদাহরণ হতে পারে, যারা যুক্তরাষ্ট্রের শুল্কের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত। অন্যদিকে, শি জিনপিং চীনকে একটি স্থিতিশীল আন্তর্জাতিক অংশীদার হিসেবে উপস্থাপন করার চেষ্টা করছেন এবং ‘উভয়-উপকারের’ ভিত্তিতে সম্পর্ক গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন।

চুক্তি অনুযায়ী, কানাডা বছরে ৪৯,০০০টি চীনা ইলেকট্রিক যানবাহন বাজারে ছাড়পত্র দেবে। এটি কানাডার স্থানীয় গাড়ি প্রস্তুতকারকদের সুরক্ষার জন্য সীমাবদ্ধ করা হয়েছে। এছাড়া ক্যানোলা, লবস্টার, কাঁকড়া ও মটরশুঁটি জাতীয় পণ্যের ওপরও শুল্ক কমানো হবে।

চীনের সঙ্গে কানাডার অর্থনৈতিক সম্পর্ক দিন দিন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। কার্নি চীনের গুরুত্বপূর্ণ ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলো, যেমন ইলেকট্রিক ভেহিকেল ব্যাটারি প্রস্তুতকারক ও শক্তি কোম্পানির কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সফরের সময় সাক্ষাৎ করেছেন। বৃহস্পতিবার দুই দেশ এনার্জি ও বাণিজ্য সহযোগিতায় একাধিক চুক্তি স্বাক্ষর করেছে।

এটি যদিও ‘মধ্যমাকাঙ্ক্ষী’ পরিকল্পনা হলেও বাস্তবসম্মত। কানাডার প্রাক্তন কূটনীতিক কলিন রবার্টসন বলেন, চুক্তিটি সম্পর্কের একটি বাস্তবসম্মত পুনঃস্থাপনের উদাহরণ, যা দুই দেশই যৌক্তিকভাবে অর্জন করতে পারবে।

কানাডা ও চীনের এই প্রাথমিক বাণিজ্য চুক্তি দীর্ঘদিন ধরে উত্তপ্ত সম্পর্কের মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ। এটি দেখাচ্ছে, বৈশ্বিক বাণিজ্য ও কূটনীতিতে কূটনৈতিক সংলাপ ও বাস্তববাদী সমঝোতা কতটা গুরুত্বপূর্ণ। একই সঙ্গে, যুক্তরাষ্ট্রের একপক্ষীয় নীতি ও ট্যারিফের প্রভাব আন্তর্জাতিক সম্পর্কের দিককে প্রভাবিত করতে পারে এবং দেশগুলো নিজেদের স্বার্থে বিকল্প সমাধান খুঁজছে।

সূত্র : BBC

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow