চীনের পথে থাকা তেল ঘুরে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রে, নতুন মোড়
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, ভেনেজুয়েলা প্রায় ২০০ কোটি ডলার মূল্যের অপরিশোধিত তেল যুক্তরাষ্ট্রের কাছে “হস্তান্তর” করতে যাচ্ছে। এই সমঝোতা কার্যকর হলে ভেনেজুয়েলার তেল সরবরাহের একটি বড় অংশ চীন থেকে সরে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবাহিত হবে—যা বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার ও ভূরাজনীতিতে তাৎপর্যপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে। এক অনলাইন পোস্টে ট্রাম্প বলেন, “এই তেল বাজারদরে বিক্রি করা হবে এবং সেই অর্থ যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হিসেবে আমার নিয়ন্ত্রণে থাকবে—যাতে তা ভেনেজুয়েলা ও যুক্তরাষ্ট্রের জনগণের কল্যাণে ব্যবহৃত হয়।” তবে ভেনেজুয়েলার সরকার বা রাষ্ট্রীয় তেল কোম্পানি পিডিভিএসএ (PDVSA) এ বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য করেনি। বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক মার্কিন অবরোধের কারণে ভেনেজুয়েলার ট্যাংকার ও স্টোরেজে বিপুল পরিমাণ তেল আটকে আছে। ট্রাম্প প্রশাসনের চাপের মধ্যেই নিকোলাস মাদুরোকে মার্কিন বাহিনী আটক করার পর এই সমঝোতা সামনে এলো। ভেনেজুয়েলার শীর্ষ কর্মকর্তারা মাদুরোর আটককে “অপহরণ” আখ্যা দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে দেশটির তেল সম্পদ লুটের অভিযোগ তুলেছেন। তবু মঙ্গলবারের এই চুক্তিকে ট্রাম্পের দাবির প
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, ভেনেজুয়েলা প্রায় ২০০ কোটি ডলার মূল্যের অপরিশোধিত তেল যুক্তরাষ্ট্রের কাছে “হস্তান্তর” করতে যাচ্ছে। এই সমঝোতা কার্যকর হলে ভেনেজুয়েলার তেল সরবরাহের একটি বড় অংশ চীন থেকে সরে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবাহিত হবে—যা বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার ও ভূরাজনীতিতে তাৎপর্যপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে।
এক অনলাইন পোস্টে ট্রাম্প বলেন, “এই তেল বাজারদরে বিক্রি করা হবে এবং সেই অর্থ যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হিসেবে আমার নিয়ন্ত্রণে থাকবে—যাতে তা ভেনেজুয়েলা ও যুক্তরাষ্ট্রের জনগণের কল্যাণে ব্যবহৃত হয়।” তবে ভেনেজুয়েলার সরকার বা রাষ্ট্রীয় তেল কোম্পানি পিডিভিএসএ (PDVSA) এ বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য করেনি।
বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক মার্কিন অবরোধের কারণে ভেনেজুয়েলার ট্যাংকার ও স্টোরেজে বিপুল পরিমাণ তেল আটকে আছে। ট্রাম্প প্রশাসনের চাপের মধ্যেই নিকোলাস মাদুরোকে মার্কিন বাহিনী আটক করার পর এই সমঝোতা সামনে এলো। ভেনেজুয়েলার শীর্ষ কর্মকর্তারা মাদুরোর আটককে “অপহরণ” আখ্যা দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে দেশটির তেল সম্পদ লুটের অভিযোগ তুলেছেন। তবু মঙ্গলবারের এই চুক্তিকে ট্রাম্পের দাবির প্রতি ভেনেজুয়েলা সরকারের প্রতিক্রিয়া হিসেবে দেখা হচ্ছে—যেখানে মার্কিন তেল কোম্পানির জন্য খাতটি খুলে দেওয়ার শর্ত জুড়ে দেওয়া হয়েছে।
ট্রাম্প জানিয়েছেন, অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট দেলসি রদ্রিগেজকে ভেনেজুয়েলার তেল শিল্পে যুক্তরাষ্ট্র ও বেসরকারি কোম্পানিগুলোর জন্য “পূর্ণ প্রবেশাধিকার” দিতে হবে। চুক্তি বাস্তবায়নের দায়িত্বে থাকবেন মার্কিন জ্বালানিমন্ত্রী ক্রিস রাইট। তার ভাষ্য অনুযায়ী, জাহাজে থাকা তেল সরাসরি যুক্তরাষ্ট্রের বন্দরে পাঠানো হবে। রয়টার্সের সূত্র জানায়, এতে শুরুতে চীনের উদ্দেশ্যে যাওয়া কার্গো পুনর্বিন্যাস করতে হতে পারে।
গত এক দশকে, বিশেষ করে ২০২০ সালে ভেনেজুয়েলার তেল বাণিজ্যে যুক্ত কোম্পানিগুলোর ওপর যুক্তরাষ্ট্র নিষেধাজ্ঞা আরোপের পর থেকে চীন ছিল ভেনেজুয়েলার প্রধান ক্রেতা। ট্রাম্পের ঘোষণার পর মার্কিন অপরিশোধিত তেলের দাম ১.৫ শতাংশের বেশি কমেছে, কারণ এই চুক্তিতে যুক্তরাষ্ট্রে ভেনেজুয়েলার তেল রপ্তানি বাড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
বর্তমানে ভেনেজুয়েলা থেকে যুক্তরাষ্ট্রে তেল রপ্তানির প্রবাহ শেভরন নিয়ন্ত্রণ করছে—পিডিভিএসএর প্রধান যৌথ অংশীদার হিসেবে বিশেষ মার্কিন অনুমোদনে। শেভরন প্রতিদিন প্রায় ১ থেকে দেড় লাখ ব্যারেল তেল যুক্তরাষ্ট্রে পাঠাচ্ছে এবং অবরোধের মধ্যেও তারাই নিয়মিত চালান বজায় রেখেছে।
তবে নিষেধাজ্ঞার কারণে পিডিভিএসএ বৈশ্বিক আর্থিক ব্যবস্থার বাইরে থাকায়, এই তেল বিক্রির অর্থে ভেনেজুয়েলার সরাসরি কোনো প্রবেশাধিকার থাকবে কি না—তা স্পষ্ট নয়। প্রতিষ্ঠানটির ব্যাংক হিসাব জব্দ এবং ডলারে লেনদেন নিষিদ্ধ রয়েছে।
এদিকে ট্রাম্পের ঘোষণার কয়েক ঘণ্টা আগেই টেলিভিশনে দেওয়া এক ভাষণে দেলসি রদ্রিগেজ যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেন। তিনি বলেন, “ভেনেজুয়েলা কোনো বহিরাগত শক্তি দ্বারা শাসিত নয়।” মাদুরো আটক হওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্র ভেনেজুয়েলা চালাবে—এমন দাবির জবাবে তিনি এই বক্তব্য দেন।
শনিবারের মার্কিন অভিযানে নিহত সেনাদের স্মরণে সাত দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করেছেন রদ্রিগেজ। তিনি অভিযানে মাদুরো ও তার স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেসকে আটককে আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করে “অপরাধমূলক আগ্রাসন” ও “অপহরণ” বলে আখ্যা দেন।
এর আগে সুপ্রিম কোর্টে শপথ নেওয়ার পর রদ্রিগেজ যুক্তরাষ্ট্রকে সহযোগিতার আহ্বান জানালেও, সাম্প্রতিক বক্তব্যে তার অবস্থান আবারও কঠোর হয়ে উঠেছে—যা ভেনেজুয়েলা-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কের অনিশ্চিত ভবিষ্যতের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
সূত্র- theguardian.
What's Your Reaction?