চুক্তি পাকা, থাকার কথা ছিল বার্সায়-৩ দিন পরই কেন বিদায় রোনালদোর?

বার্সেলোনায় মাত্র এক মৌসুম কাটিয়েই ক্লাব ছাড়তে হয়েছিল ব্রাজিলিয়ান কিংবদন্তি রোনালদো নাজারিওকে। তবে সেই বিদায়ের পেছনে ছিল চমকে দেওয়ার মতো এক ঘটনা। দীর্ঘদিন পর সেই ঘটনার বিস্তারিত জানিয়েছেন ‘দ্য ফেনোমেনন’ নিজেই। ১৯৯৬ সালে পিএসভি আইন্দহোভেন থেকে বার্সেলোনায় যোগ দিয়েছিলেন রোনালদো। কাতালান ক্লাবটিতে নিজের একমাত্র মৌসুমেই দুর্দান্ত পারফরম্যান্স উপহার দেন তিনি। সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে ৪৯ ম্যাচে করেন ৪৭ গোল। বার্সেলোনায় তিনি ছিলেন সুখেই এবং ক্লাবটির সঙ্গে থাকার ব্যাপারে নতুন চুক্তির সমঝোতাও হয়ে গিয়েছিল বলে জানিয়েছেন রোনালদো। তবে এরপরই বদলে যায় পরিস্থিতি। স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যম ‘স্পোর্ট’-কে দেওয়া বক্তব্যে রোনালদো জানান, বার্সেলোনা কর্তৃপক্ষ প্রথমে তাকে নতুন চুক্তির ব্যাপারে ইতিবাচক বার্তা দিয়েছিল। রোনালদোর ভাষায়, ‘আমি বার্সেলোনায় সুখী ছিলাম। আমার এজেন্ট সেখানে ছিল এবং শেষ পর্যন্ত তারা একটি সমঝোতায় পৌঁছেছিল। তারা আমাকে ফোন করে বলেছিল, ‘‘দেখো, আমাদের চুক্তি হয়ে গেছে। তুমি বার্সেলোনায় নতুন চুক্তিতে থাকবে। আমরা খুব খুশি এবং বার্সেলোনাও খুশি।’” কিন্তু সেই প্রতিশ্রুতির মাত্র তিন দিন পরই পাল্টে যায় ক্লা

চুক্তি পাকা, থাকার কথা ছিল বার্সায়-৩ দিন পরই কেন বিদায় রোনালদোর?

বার্সেলোনায় মাত্র এক মৌসুম কাটিয়েই ক্লাব ছাড়তে হয়েছিল ব্রাজিলিয়ান কিংবদন্তি রোনালদো নাজারিওকে। তবে সেই বিদায়ের পেছনে ছিল চমকে দেওয়ার মতো এক ঘটনা। দীর্ঘদিন পর সেই ঘটনার বিস্তারিত জানিয়েছেন ‘দ্য ফেনোমেনন’ নিজেই।

১৯৯৬ সালে পিএসভি আইন্দহোভেন থেকে বার্সেলোনায় যোগ দিয়েছিলেন রোনালদো। কাতালান ক্লাবটিতে নিজের একমাত্র মৌসুমেই দুর্দান্ত পারফরম্যান্স উপহার দেন তিনি। সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে ৪৯ ম্যাচে করেন ৪৭ গোল। বার্সেলোনায় তিনি ছিলেন সুখেই এবং ক্লাবটির সঙ্গে থাকার ব্যাপারে নতুন চুক্তির সমঝোতাও হয়ে গিয়েছিল বলে জানিয়েছেন রোনালদো।

তবে এরপরই বদলে যায় পরিস্থিতি। স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যম ‘স্পোর্ট’-কে দেওয়া বক্তব্যে রোনালদো জানান, বার্সেলোনা কর্তৃপক্ষ প্রথমে তাকে নতুন চুক্তির ব্যাপারে ইতিবাচক বার্তা দিয়েছিল।

রোনালদোর ভাষায়, ‘আমি বার্সেলোনায় সুখী ছিলাম। আমার এজেন্ট সেখানে ছিল এবং শেষ পর্যন্ত তারা একটি সমঝোতায় পৌঁছেছিল। তারা আমাকে ফোন করে বলেছিল, ‘‘দেখো, আমাদের চুক্তি হয়ে গেছে। তুমি বার্সেলোনায় নতুন চুক্তিতে থাকবে। আমরা খুব খুশি এবং বার্সেলোনাও খুশি।’”

jagonews

কিন্তু সেই প্রতিশ্রুতির মাত্র তিন দিন পরই পাল্টে যায় ক্লাবের অবস্থান। হঠাৎ করেই রোনালদোকে জানানো হয়, নতুন চুক্তি আর করা সম্ভব নয়। বরং কোনো ক্লাব যদি তাকে নিতে চায়, তাহলে রিলিজ ক্লজের অর্থ পরিশোধ করলেই তিনি বার্সেলোনা ছাড়তে পারবেন।

ঘটনাটিতে ভীষণ হতাশ হয়ে পড়েন রোনালদো। তার কাছে বিষয়টি শুধু চুক্তি না হওয়ার ছিল না, বরং ক্লাবের দেওয়া কথা থেকে সরে যাওয়াটাই ছিল বড় আঘাত।

তিনি বলেন, ‘তিন দিন পর তারা আমাকে ফোন করে বলল, ‘‘আমরা এই চুক্তি করতে পারছি না। যদি তোমার চলে যাওয়ার সুযোগ থাকে, তাহলে রিলিজ ক্লজের টাকা এনে দাও, এরপর তুমি চলে যেতে পারবে।’”

বার্সেলোনার এমন অবস্থান মেনে নিতে পারেননি রোনালদো। ক্লাবের ওপর আস্থা হারিয়ে তিনি নিজেই বিদায়ের সিদ্ধান্ত নেন।

ব্রাজিলিয়ান কিংবদন্তি বলেন, ‘আমি তাদের বলেছিলাম, এখন আর বার্সেলোনায় থাকতে স্বস্তি বোধ করছি না। কারণ এই মানুষগুলো তাদের কথার প্রতি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ নয়। তাই আমি চলে যেতে চাই।’

এরপরই রোনালদোর ক্যারিয়ারে আসে ইতালিয়ান ক্লাব ইন্টার মিলান। ইতালিয়ান জায়ান্টরা বার্সেলোনার রিলিজ ক্লজ পরিশোধ করে তাকে দলে নেয়। রোনালদোর স্মৃতিতে, সেই সময়ের হিসাবে অঙ্কটি ছিল প্রায় ৪০ মিলিয়ন ইউরো, যা তখনকার ফুটবলে ছিল বিশাল এক ট্রান্সফার ফি।

এরপর ইন্টার মিলানে গিয়ে নতুন অধ্যায় শুরু করেন রোনালদো। যদিও চোট তার ক্যারিয়ারে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছিল, তবু ইতালিয়ান ক্লাবটির হয়ে তিনি নিজের অসাধারণ প্রতিভার ছাপ রেখে যান।

বার্সেলোনায় রোনালদোর সময় ছিল মাত্র এক মৌসুম। কিন্তু সেই স্বল্প সময়েই তিনি এমন পারফরম্যান্স উপহার দিয়েছিলেন, যা তাকে ক্লাবটির ইতিহাসে স্মরণীয় করে রেখেছে। আর এখন জানা গেল, সেই অধ্যায়ের শেষটা হয়েছিল মূলত আস্থার সংকট ও প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের কারণেই।

এমএমআর

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow