চুক্তির সন্নিকটে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান, পরমাণু কার্যক্রম নিয়ে মতবিরোধ
পরমাণু কার্যক্রম নিয়ে মতবিরোধের মধ্যেও চুক্তির সন্নিকটে পৌঁছেছে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান। দুই দেশের মধ্যকার চলমান কূটনৈতিক আলোচনায় বড় ধরনের অগ্রগতি না হওয়ায় এখন উভয় পক্ষ একটি অন্তর্বর্তী সমঝোতায় সম্মত হতে যাচ্ছে।
সূত্রের বরাতে বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) বার্তাসংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সম্প্রতি ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত বৈঠকে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে গভীর মতপার্থক্য সামনে এসেছে। বিশেষ করে সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত কীভাবে ব্যবস্থাপনা করা হবে এবং কতদিন ইরান তাদের পারমাণবিক কার্যক্রম বন্ধ রাখবে তা নিয়ে এখনও ঐকমত্যে পৌঁছানো যায়নি।
ইরানের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানান, কিছু বিষয়ে অগ্রগতি হলেও মূল বাধা রয়ে গেছে পারমাণবিক ইস্যু। তবে হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা নিয়ে কিছুটা সমঝোতার ইঙ্গিত মিলেছে। এই প্রণালি দিয়ে বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল ও গ্যাস পরিবহন হয়। কয়েক সপ্তাহ ধরে এটি আংশিকভাবে বন্ধ রয়েছে।
ইরানের প্রস্তাবে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র যদি তাদের জব্দ অর্থের কিছু অংশ মুক্ত করে, তবে তারা হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক করতে সহায়তা ক
পরমাণু কার্যক্রম নিয়ে মতবিরোধের মধ্যেও চুক্তির সন্নিকটে পৌঁছেছে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান। দুই দেশের মধ্যকার চলমান কূটনৈতিক আলোচনায় বড় ধরনের অগ্রগতি না হওয়ায় এখন উভয় পক্ষ একটি অন্তর্বর্তী সমঝোতায় সম্মত হতে যাচ্ছে।
সূত্রের বরাতে বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) বার্তাসংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সম্প্রতি ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত বৈঠকে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে গভীর মতপার্থক্য সামনে এসেছে। বিশেষ করে সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত কীভাবে ব্যবস্থাপনা করা হবে এবং কতদিন ইরান তাদের পারমাণবিক কার্যক্রম বন্ধ রাখবে তা নিয়ে এখনও ঐকমত্যে পৌঁছানো যায়নি।
ইরানের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানান, কিছু বিষয়ে অগ্রগতি হলেও মূল বাধা রয়ে গেছে পারমাণবিক ইস্যু। তবে হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা নিয়ে কিছুটা সমঝোতার ইঙ্গিত মিলেছে। এই প্রণালি দিয়ে বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল ও গ্যাস পরিবহন হয়। কয়েক সপ্তাহ ধরে এটি আংশিকভাবে বন্ধ রয়েছে।
ইরানের প্রস্তাবে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র যদি তাদের জব্দ অর্থের কিছু অংশ মুক্ত করে, তবে তারা হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক করতে সহায়তা করবে। একটি স্থায়ী চুক্তি হলে ওমান উপকূলীয় অংশ দিয়ে জাহাজ চলাচলে কোনো বাধা থাকবে না।
রয়টার্স জানিয়েছে, চুক্তির বিষয়ে কিছুটা অগ্রগতি হলেও এখনও বড় ধরনের মতবিরোধ রয়ে গেছে। কমপক্ষে ২০ বছর ইরানের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ বন্ধ চায় যুক্তরাষ্ট্র। অন্যদিকে বিষয়টিকে ৩ থেকে ৫ বছরের মধ্যে সীমাবদ্ধ করতে চায় ইরান। এছাড়া নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের সুনির্দিষ্ট সময়সূচিও দাবি করছে তেহরান।
সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত নিয়েও জটিলতা রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র চায় ইরান তাদের সম্পূর্ণ ইউরেনিয়াম তৃতীয় কোনো দেশে হস্তান্তর করা হোক। যদিও এ দাবি ইরান প্রত্যাখ্যান করেছে। তবে সূত্র জানিয়েছে, আংশিক ইউরেনিয়াম তৃতীয় কোনো দেশে পাঠানোর বিষয়ে আপস হতে পারে।
আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা (আইএইএ) জানিয়েছে, ২০২৫ সালের জুনে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের হামলার আগে ইরানের কাছে ৬০ শতাংশ সমৃদ্ধ করা প্রায় ৪৪০ কেজি ইউরেনিয়াম ছিল। বর্তমানে এর একটি অংশ ইসফাহান ও নাতাঞ্জে সংরক্ষিত রয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এই পরিমাণ উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম খুব দ্রুত পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির সক্ষমতা দিতে পারে। এ বিষয়টি এখন আন্তর্জাতিক নিরাপত্তার জন্য বড় উদ্বেগের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।