চুরির আতঙ্কে এলাকাবাসী

মানিকগঞ্জের সিংগাইরে সম্প্রতি বেড়েই চলেছে চুরি। এতে চরম আতঙ্কে রয়েছে এলাকাবাসী। চোরদের হাত থেকে রেহাই পাচ্ছে না বসতবাড়ি, গোয়ালঘর, মসজিদ, কবরস্থান এমনকি বৈদ্যুতিক ট্রান্সফরমারও। সম্প্রতি এক রাতেই উপজেলার ৫টি বাড়িতে চুরির ঘটনা ঘটেছে।  জানা যায়, ওই রাতে উপজেলার শায়েস্তা ইউনিয়নের লক্ষ্মীপুর গ্রামে তাজেল মোল্লার গোয়ালঘর থেকে ৩টি গরু চুরি হয়। এলাকাবাসী টের পেয়ে দুটি গরু উদ্ধার করতে পারলেও একটি গরু নিয়ে চোরেরা পিকআপে করে পালিয়ে যায়। একই রাতে চান্দহর ইউনিয়নের ওয়াইজনগর পশ্চিমপাড়ায় আওলাদ হোসেনের একমাত্র আয়ের উৎস ভ্যানগাড়িটি চুরি হয়। পাশাপাশি একই এলাকার মো. মহিনুর ও ওয়াহাব মোল্লার বাড়িতে সিঁধ কেটে ঘরে ঢুকে নগদ টাকা ও মোবাইল ফোন চুরি করে চোরেরা। আরজ আলী বেপারির বাড়িতেও সিঁধ কেটে চুরির চেষ্টা চালানো হয় বলে জানা গেছে। এর আগেও একাধিক এলাকায় বৈদ্যুতিক ট্রান্সফরমার চুরির ঘটনা ঘটেছে। গত ২ জানুয়ারি রাতে ফোর্ডনগরের খানপাড়া গ্রামে ১০ কেভিএ ক্ষমতার একটি বৈদ্যুতিক ট্রান্সফরমার চুরির সময় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে পোল থেকে পড়ে এক চোরের মৃত্যু হয়। পরদিন সকালে থানা পুলিশ তার মরদেহ উদ্ধার করে মর্গে পাঠায়।  গত ৩ জান

চুরির আতঙ্কে এলাকাবাসী

মানিকগঞ্জের সিংগাইরে সম্প্রতি বেড়েই চলেছে চুরি। এতে চরম আতঙ্কে রয়েছে এলাকাবাসী। চোরদের হাত থেকে রেহাই পাচ্ছে না বসতবাড়ি, গোয়ালঘর, মসজিদ, কবরস্থান এমনকি বৈদ্যুতিক ট্রান্সফরমারও।

সম্প্রতি এক রাতেই উপজেলার ৫টি বাড়িতে চুরির ঘটনা ঘটেছে। 

জানা যায়, ওই রাতে উপজেলার শায়েস্তা ইউনিয়নের লক্ষ্মীপুর গ্রামে তাজেল মোল্লার গোয়ালঘর থেকে ৩টি গরু চুরি হয়। এলাকাবাসী টের পেয়ে দুটি গরু উদ্ধার করতে পারলেও একটি গরু নিয়ে চোরেরা পিকআপে করে পালিয়ে যায়।

একই রাতে চান্দহর ইউনিয়নের ওয়াইজনগর পশ্চিমপাড়ায় আওলাদ হোসেনের একমাত্র আয়ের উৎস ভ্যানগাড়িটি চুরি হয়। পাশাপাশি একই এলাকার মো. মহিনুর ও ওয়াহাব মোল্লার বাড়িতে সিঁধ কেটে ঘরে ঢুকে নগদ টাকা ও মোবাইল ফোন চুরি করে চোরেরা। আরজ আলী বেপারির বাড়িতেও সিঁধ কেটে চুরির চেষ্টা চালানো হয় বলে জানা গেছে।

এর আগেও একাধিক এলাকায় বৈদ্যুতিক ট্রান্সফরমার চুরির ঘটনা ঘটেছে। গত ২ জানুয়ারি রাতে ফোর্ডনগরের খানপাড়া গ্রামে ১০ কেভিএ ক্ষমতার একটি বৈদ্যুতিক ট্রান্সফরমার চুরির সময় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে পোল থেকে পড়ে এক চোরের মৃত্যু হয়। পরদিন সকালে থানা পুলিশ তার মরদেহ উদ্ধার করে মর্গে পাঠায়। 

গত ৩ জানুয়ারি রাতে সাহরাইল গোপালনগর এলাকা থেকে দুটি এবং ৪ জানুয়ারি রাতে আরও একটি ট্রান্সফরমার চুরির চেষ্টা করা হয়। স্থানীয়রা টের পেয়ে ধাওয়া দিলে চোরেরা ট্রান্সফরমার রেখে পালিয়ে যায়।

সিংগাইর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির ডিজিএম মো. গোলাম রাব্বানী জানান, অল্প কয়েকদিনের মধ্যেই অন্তত ১০টি ট্রান্সফরমার চুরি হয়েছে। এ ছাড়া বসতবাড়ির ট্রান্সমিটারও চুরি হচ্ছে। বিষয়টি ওসিকে জানানো হয়েছে। এভাবে চুরি চলতে থাকায় গ্রাহকদের জন্য নতুন ট্রান্সফরমার সরবরাহে সংকট দেখা দিচ্ছে।

ভুক্তভোগী অ্যাডভোকেট জাকির হোসেন বলেন, থানার আশপাশের এলাকাতেও বৈদ্যুতিক মিটার চুরির হিড়িক পড়েছে। আমার বাড়ির মিটার চুরির পর চোরেরা একটি মোবাইল নম্বর লিখে চিরকুট রেখে যায়। ওই নম্বরে ফোন দিলে চোর ১২ হাজার টাকা পাঠালে মিটার কোথায় আছে তা জানাবে বলে জানায়। এমনকি বিভিন্ন বাড়ি থেকে মিটার চুরির পর চোরের দেওয়া নম্বরে টাকা পাঠানোর পর মিটার ফেরত পাওয়ার ঘটনাও ঘটেছে।

থানা কেন্দ্রীয় মসজিদের ক্যাশিয়ার ও পৌর বিএনপি নেতা মো. আতাউর রহমান বলেন, শুক্রবার মসজিদে চুরির ঘটনা ঘটে। চোরেরা দানবাক্স ও আলমারির তালা ভেঙে মুয়াজ্জিনের বেতনসহ মসজিদ মার্কেটের ভাড়ার টাকা চুরি করে। ঘটনার পর মসজিদের সভাপতি ও থানার ওসি মাজহারুল ইসলাম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।

এ বিষয়ে ওসি মাজহারুল ইসলাম বলেন, রাতে টহল জোরদার করা হচ্ছে এবং চোর ধরতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সিংগাইর সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার ফাহিম আজাদ বলেন, চোর ধরার বিষয়ে পুলিশ কাজ করছে এবং চোর ধরাও হচ্ছে। তবে থানা মসজিদে চুরির বিষয়ে তিনি অবগত নন বলে জানিয়েছেন।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow