চুলের ত্বক অনুযায়ী শীতে কতবার চুল পরিষ্কার করবেন
সানজানা রহমান যুথী শীতকাল চুল ও স্ক্যাল্পের জন্য সবচেয়ে চ্যালেঞ্জিং সময়গুলোর একটি। শুষ্ক ও ঠান্ডা বাতাসে হঠাৎ করেই স্ক্যাল্পে খুশকি দেখা দেয়, চুল রুক্ষ ও প্রাণহীন হয়ে পড়ে। গরমকালে যে শ্যাম্পু রুটিন বেশ ভালো কাজ করত, শীতে এসে সেটিই আর তেমন কার্যকর মনে হয় না। ফলে অনেকের মনেই প্রশ্ন জাগে-শীতে আসলে সপ্তাহে কতবার চুল ধোয়া উচিত? এই প্রশ্নের উত্তর কিন্তু সবার জন্য এক নয়। কারণ শীতের ঠান্ডা আবহাওয়া সবার স্ক্যাল্প, তেলের নিঃসরণ এবং চুলের গঠনের ওপর ভিন্নভাবে প্রভাব ফেলে। কারো স্ক্যাল্প শীতে খুব দ্রুত শুকিয়ে যায়, আবার কারও ক্ষেত্রে ঘাম, তেল ও ময়লা জমে চুলকানি বাড়ে। তাই এক জনের জন্য যে হেয়ার ওয়াশ রুটিন কার্যকর। ইন্টারন্যাশনাল জার্নাল অব কসমেটিক সায়েন্স-এ প্রকাশিত এক গবেষণায় বলা হয়েছে, শীতকালে ঠান্ডা ও শুষ্ক বাতাসের কারণে ত্বকের ট্রান্সইপিডারমাল ওয়াটার লস বেড়ে যায়। অর্থাৎ ত্বক ও স্ক্যাল্প থেকে দ্রুত পানি বেরিয়ে যেতে থাকে। ফলে স্ক্যাল্পের স্বাভাবিক আর্দ্রতা কমে যায়, ত্বক হয়ে ওঠে বেশি শুষ্ক ও সংবেদনশীল, এমনকি প্রাকৃতিক সুরক্ষা স্তরও দুর্বল হয়ে পড়ে। এই অবস্থায় যদি খুব ঘন ঘ
সানজানা রহমান যুথী
শীতকাল চুল ও স্ক্যাল্পের জন্য সবচেয়ে চ্যালেঞ্জিং সময়গুলোর একটি। শুষ্ক ও ঠান্ডা বাতাসে হঠাৎ করেই স্ক্যাল্পে খুশকি দেখা দেয়, চুল রুক্ষ ও প্রাণহীন হয়ে পড়ে। গরমকালে যে শ্যাম্পু রুটিন বেশ ভালো কাজ করত, শীতে এসে সেটিই আর তেমন কার্যকর মনে হয় না। ফলে অনেকের মনেই প্রশ্ন জাগে-শীতে আসলে সপ্তাহে কতবার চুল ধোয়া উচিত?
এই প্রশ্নের উত্তর কিন্তু সবার জন্য এক নয়। কারণ শীতের ঠান্ডা আবহাওয়া সবার স্ক্যাল্প, তেলের নিঃসরণ এবং চুলের গঠনের ওপর ভিন্নভাবে প্রভাব ফেলে। কারো স্ক্যাল্প শীতে খুব দ্রুত শুকিয়ে যায়, আবার কারও ক্ষেত্রে ঘাম, তেল ও ময়লা জমে চুলকানি বাড়ে। তাই এক জনের জন্য যে হেয়ার ওয়াশ রুটিন কার্যকর।
ইন্টারন্যাশনাল জার্নাল অব কসমেটিক সায়েন্স-এ প্রকাশিত এক গবেষণায় বলা হয়েছে, শীতকালে ঠান্ডা ও শুষ্ক বাতাসের কারণে ত্বকের ট্রান্সইপিডারমাল ওয়াটার লস বেড়ে যায়। অর্থাৎ ত্বক ও স্ক্যাল্প থেকে দ্রুত পানি বেরিয়ে যেতে থাকে। ফলে স্ক্যাল্পের স্বাভাবিক আর্দ্রতা কমে যায়, ত্বক হয়ে ওঠে বেশি শুষ্ক ও সংবেদনশীল, এমনকি প্রাকৃতিক সুরক্ষা স্তরও দুর্বল হয়ে পড়ে।
এই অবস্থায় যদি খুব ঘন ঘন চুল ধোয়া হয়, তাহলে স্ক্যাল্পের প্রাকৃতিক তেল আরও দ্রুত কমে যায়। ফল হিসেবে শুষ্কতা, খুশকি ও চুল পড়ার সমস্যা বাড়তে পারে। আবার খুব কম চুল ধুলে স্ক্যাল্পে তেল, ধুলা ও ময়লা জমে চুলকানি, দুর্গন্ধ কিংবা ফাঙ্গাল সংক্রমণের ঝুঁকি তৈরি হয়।
তাই শীতকালে কতবার চুল ধোয়া উচিত-তা নির্ভর করে মূলত আপনার স্ক্যাল্পের ধরন, চুলের প্রকৃতি এবং দৈনন্দিন জীবনযাত্রার ওপর। এই বৈজ্ঞানিক দিকগুলো বুঝে নিজের চুল ও স্ক্যাল্পের প্রয়োজন অনুযায়ী হেয়ার ওয়াশ রুটিন ঠিক করতে পারলে শীতকালেও চুল থাকবে সুস্থ, উজ্জ্বল ও প্রাণবন্ত।
শুষ্ক ত্বকের চুলের জন্য
যাদের স্ক্যাল্প স্বাভাবিকভাবেই শুষ্ক বা সংবেদনশীল, শীতকালে তাদের সমস্যা আরও বেড়ে যাওয়াই স্বাভাবিক। ঠান্ডা ও শুষ্ক বাতাসে স্ক্যাল্পের প্রাকৃতিক তেল দ্রুত কমে যায়। ফলে টান টান ভাব, চুলকানি ও খুশকি দেখা দিতে পারে।
এই ধরনের স্ক্যাল্পের জন্য শীতে সপ্তাহে এক থেকে দুইবার চুল ধোয়াই যথেষ্ট। এতে স্ক্যাল্পের স্বাভাবিক তেল বজায় থাকে এবং অতিরিক্ত শুষ্কতা বা খোসা ওঠা কমে।
শ্যাম্পু বাছাইয়ের সময় সালফেট ফ্রি বা ময়েশ্চারাইজিং শ্যাম্পু ব্যবহার করুন। প্রতিবার চুল ধোয়ার পর অবশ্যই একটি হাইড্রেটিং কন্ডিশনার লাগান, যাতে চুল নরম ও আর্দ্র থাকে। সপ্তাহে একবার নরিশিং হেয়ার মাস্ক ব্যবহার করলে চুল ও স্ক্যাল্পে গভীর পুষ্টি পৌঁছায়।
শীতকালে শুষ্ক চুলের ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো-অতিরিক্ত চুল ধোয়া এড়ানো। কারণ বেশি ধোয়া স্ক্যাল্পের প্রয়োজনীয় প্রাকৃতিক তেল তুলে নেয়।
তৈলাক্ত ত্বকের চুলের জন্য
যাদের স্ক্যাল্প তেলতেলে, তারা প্রায়ই প্রতিদিন চুল ধোয়ার প্রয়োজন অনুভব করেন। কারণ ঠান্ডায় তেলের উৎপাদন স্বাভাবিকভাবেই একটু কমে যায়। তাই বেশিরভাগ চর্মরোগ বিশেষজ্ঞ শীতকালে তেলতেলে স্ক্যাল্পের জন্য সপ্তাহে ২-৩ বার চুল ধোয়ার পরামর্শ দেন। এতে স্ক্যাল্পে ময়লা ও তেলের জমাট বাঁধা রোধ হয়, আবার অতিরিক্ত শুষ্কতাও তৈরি হয় না।
চুল ধোয়ার সময় হালকা ও ব্যালান্সিং শ্যাম্পু ব্যবহার করুন। যদি দেখেন চুলের গোড়া তেলতেলে কিন্তু ডগা শুষ্ক, তাহলে কন্ডিশনার স্ক্যাল্পে বাদ দিয়ে শুধু মাঝখান থেকে ডগা পর্যন্ত ব্যবহার করুন। এতে চুল নরম থাকবে, কিন্তু গোড়া আরও তেলতেলে হবে না।
মনে রাখবেন, খুব বেশি চুল ধুলে স্ক্যাল্প নিজের সুরক্ষার জন্য আরও বেশি তেল তৈরি করে। ফলে সমস্যা উল্টা বেড়ে যেতে পারে। তাই নিয়ম মেনে ধোয়া সবচেয়ে ভালো।
শীতে মাঝে মাঝে হালকা স্ক্যাল্প এক্সফোলিয়েশন করলে জমে থাকা তেল ও ময়লা পরিষ্কার হয়। পাশাপাশি ভারী স্টাইলিং প্রোডাক্ট এড়িয়ে চললে রোমকূপ বন্ধ হওয়ার ঝুঁকি কমে। এতে চুল থাকবে পরিষ্কার, হালকা আর স্বাস্থ্যবান।
কোঁকড়া চুলের ক্ষেত্রে
কোঁকড়া বা কার্লি চুল শীতকালে খুব দ্রুত আর্দ্রতা হারায়। কারণ চুলের পাকানো গঠনের জন্য প্রাকৃতিক তেল গোড়া থেকে ডগা পর্যন্ত সহজে পৌঁছাতে পারে না। তাই ঠান্ডায় এই ধরনের চুল বেশি শুষ্ক, রুক্ষ ও ফ্রিজি হয়ে যায়।
শীতকালে কোঁকড়া চুলের জন্য সপ্তাহে একবার, এমনকি প্রয়োজন হলে ১০ দিনে একবার চুল ধোয়া যথেষ্ট। বেশি ধুলে চুলের প্রয়োজনীয় প্রাকৃতিক তেল উঠে যায়, যা কার্লি চুলের জন্য খুব দরকারি। দুইবার শ্যাম্পুর মাঝখানে চাইলে শুধু কন্ডিশনার দিয়ে চুল ধুতে পারেন -এতে চুল পরিষ্কারও থাকবে, আবার আর্দ্রতাও বজায় থাকবে।
এ সময় কার্লি ও টেক্সচার্ড চুলের জন্য ডিপ কন্ডিশনিং বিশেষভাবে জরুরি। সপ্তাহে ১ বার ডিপ কন্ডিশনার বা হাইড্রেটিং হেয়ার মাস্ক ব্যবহার করলে চুলের ভেতর পর্যন্ত পুষ্টি পৌঁছায়। সঙ্গে হালকা, জেন্টাল ক্লিনজার ব্যবহার করলে চুল থাকবে নরম, উজ্জ্বল ও স্বাস্থ্যবান।
সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া
আরও পড়ুন:
চুল পড়া বন্ধ হবে রসুন ব্যবহারে
শীতকালে চুলে খুশকি বাড়ার আগেই নিন প্রতিরোধের ব্যবস্থা
এসএকেওয়াই/
What's Your Reaction?