ছাত্রদল নেতাসহ ৪ জনের বিরুদ্ধে মামলা
নওগাঁয় এক বাসচালকের ওপর হামলা, মারধর এবং বাস কাউন্টারে ভাঙচুরের ঘটনায় ছাত্রদল নেতাসহ চারজনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। এ ঘটনায় অজ্ঞাতনামা আরও ৭-৮ জনকে আসামি করা হয়েছে। মঙ্গলবার (১৯ মে) বিকেলে মারধরের শিকার হওয়া বাসচালক আনোয়ার হোসেন বাদল বাদী হয়ে নওগাঁ সদর মডেল থানায় এই মামলা করেন। মামলার আসামিরা হলেন— নওগাঁ জেলা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক সোহাগ, নওগাঁ সরকারি কলেজ শাখা ছাত্রদলের সাবেক সদস্য আব্দুর রউফ (৩৬), ইসলামিয়া ফাজিল ডিগ্রি কলেজ ছাত্রদলের সভাপতি আলী হাসান অন্তর এবং স্থানীয় যুবক মো. রিংকু (৩২)। মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, সোমবার (১৮ মে) রাত ১টার দিকে শহরের ঢাকা বাসস্ট্যান্ড এলাকায় একতা কাউন্টারের সামনে গাড়ি ঘোরানোর সময় একটি অজ্ঞাত অটোরিকশার সঙ্গে সামান্য ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় কিছু যুবক ও বহিরাগত দুর্বৃত্তরা সংঘবদ্ধ হয়ে বাসচালক আনোয়ার হোসেন বাদলকে চড়-থাপ্পড় ও কিলঘুষি মারতে থাকে। একপর্যায়ে আসামিরা লাঠি দিয়ে তার মাথায় আঘাতের চেষ্টা করলে তিনি দ্রুত সরে গিয়ে নিজেকে আত্মরক্ষা করেন। এজাহারে আরও উল্লেখ করা হয়, পরবর্তীতে আসামিরা ‘একতা বাস’ কাউন্টারের চেয়ার-টেবিল ভাঙচুর করে। এতে প্রায় ৫
নওগাঁয় এক বাসচালকের ওপর হামলা, মারধর এবং বাস কাউন্টারে ভাঙচুরের ঘটনায় ছাত্রদল নেতাসহ চারজনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। এ ঘটনায় অজ্ঞাতনামা আরও ৭-৮ জনকে আসামি করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৯ মে) বিকেলে মারধরের শিকার হওয়া বাসচালক আনোয়ার হোসেন বাদল বাদী হয়ে নওগাঁ সদর মডেল থানায় এই মামলা করেন।
মামলার আসামিরা হলেন— নওগাঁ জেলা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক সোহাগ, নওগাঁ সরকারি কলেজ শাখা ছাত্রদলের সাবেক সদস্য আব্দুর রউফ (৩৬), ইসলামিয়া ফাজিল ডিগ্রি কলেজ ছাত্রদলের সভাপতি আলী হাসান অন্তর এবং স্থানীয় যুবক মো. রিংকু (৩২)।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, সোমবার (১৮ মে) রাত ১টার দিকে শহরের ঢাকা বাসস্ট্যান্ড এলাকায় একতা কাউন্টারের সামনে গাড়ি ঘোরানোর সময় একটি অজ্ঞাত অটোরিকশার সঙ্গে সামান্য ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় কিছু যুবক ও বহিরাগত দুর্বৃত্তরা সংঘবদ্ধ হয়ে বাসচালক আনোয়ার হোসেন বাদলকে চড়-থাপ্পড় ও কিলঘুষি মারতে থাকে। একপর্যায়ে আসামিরা লাঠি দিয়ে তার মাথায় আঘাতের চেষ্টা করলে তিনি দ্রুত সরে গিয়ে নিজেকে আত্মরক্ষা করেন।
এজাহারে আরও উল্লেখ করা হয়, পরবর্তীতে আসামিরা ‘একতা বাস’ কাউন্টারের চেয়ার-টেবিল ভাঙচুর করে। এতে প্রায় ৫ হাজার টাকার ক্ষতি হয়। এছাড়া চালক আনোয়ার হোসেনের পকেটে থাকা নগদ ৩০ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেয়। এসময় আশপাশের লোকজন এগিয়ে গেলে আসামিরা হত্যার হুমকি দিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে।
রাত সাড়ে ১২টায় জানতে চাইলে নওগাঁ জেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক মো. মামুন বিন ইসলাম দোহা কালবেলাকে বলেন, আমি সিসিটিভি ফুটেজসহ সব বিষয় কেন্দ্রে পাঠিয়ে দিয়েছি এবং বিষয়গুলো কেন্দ্রের নেতাদের জানিয়েছি। আর সোহাগ যেহেতু একজন জেলা ছাত্রদলের নেতা, কাজেই এখন কেন্দ্রই তাদের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবেন।
নওগাঁ সদর মডেল থানার কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান বলেন, ‘মারধরের শিকার ভুক্তভোগী বাসচালক থানায় মামলা করেছেন। আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান চলছে। শ্রমিকরা তাদের ধর্মঘট প্রত্যাহার করে যান চলাচল স্বাভাবিক করেছে।’
উল্লেখ্য, এই মারধরের জেরে সকাল সাড়ে ৯টা থেকে নওগাঁ থেকে বগুড়া-ঢাকা-চট্টগ্রাম-সিলেটসহ দূরপাল্লার সব রুটের বাস চলাচল বন্ধ করে দেন শ্রমিকরা। এরপর দফায় দফায় আলোচনা শেষে ৭ ঘণ্টা পর বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাসে প্রায় ৮ঘণ্টা বন্ধ থাকার পর বাস চলাচল স্বাভাবিক হয়।
জেলা বাস শ্রমিক ইউনিয়নের যুগ্ম আহ্বায়ক মমিনুল হক চঞ্চল জানান, এখন বাস চলাচল স্বাভাবিক হয়েছে। অপরাধী যে দলেরই হোক তার ছাড় নেই। এমন ন্যক্কারজনক ঘটনা আর যেন না হয় তার দিকে সজাগ থাকবে সবাই। শ্রমিকদের দাবি-দাওয়া মেনে নেওয়ায় তারা ধর্মঘট প্রত্যাহার করেছে । এতে করে যাত্রী ও যানবাহন চলাচল শুরু করেছে।
বাস চলাচল স্বাভাবিকের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন নওগাঁ মোটরশ্রমিক ইউনিয়নের আহ্বায়ক এবং জেলা বিএনপির সভাপতি আবু বক্কর সিদ্দিক নান্নু। তিনি বলেন, শ্রমিকদের উপর যারা হামলা চালিয়েছে তাদের কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। সে যে দলেরই নেতা হোক না কেন। প্রশাসন থেকে জড়িতদের গ্রেপ্তারের বিষয়ে আশ্বস্ত করা হয়েছে।
এদিকে সম্প্রতি নওগাঁ জেলা ছাত্রদলের ৯ সদস্যবিশিষ্ট আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হয়েছে। সেখানে সোহাগকে যুগ্ম আহ্বায়ক করা হয়েছে। আর এতেই তিনি ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে লাইভে এসে কান্নাজড়িত অবস্থায় নিজের ক্ষোভ ও বঞ্চনার কথা তুলে ধরেন সোহাগ।
এরপর কেন্দ্র থেকে সদ্য ঘোষিত নওগাঁ জেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক কমিটিকে একতরফা ও বিতর্কিত আখ্যা দিয়ে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করে সড়ক অবরোধ, বিক্ষোভ ও মশাল মিছিল করা হয়, যা ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের মধ্যে এক বিভ্রান্তির সৃষ্টি করে। স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে শুরু হয় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা।
What's Your Reaction?