ছাত্রীকে কুপ্রস্তাবের অভিযোগ, বিক্ষোভের মুখে প্রধান শিক্ষকের পদত্যাগ
রাজশাহীর বাঘায় এক ছাত্রীকে কুপ্রস্তাব ও গায়ে হাত দেওয়ার অভিযোগে শিক্ষার্থীদের তীব্র আন্দোলনের মুখে পদত্যাগ করেছেন পদত্যাগ করেছেন মনিগ্রাম উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক। একই ঘটনায় অভিযোগ আড়াল করার চেষ্টা ও বিষয়টি যথাযথভাবে উপস্থাপন না করার অভিযোগে এক সহকারী শিক্ষিকাকে সাময়িক বরখাস্তের (সাসপেন্ড) নির্দেশ দিয়েছেন স্থানীয় সংসদ সদস্য। রোববার (৯ আগস্ট) উপজেলা মনিগ্রাম উচ্চ বিদ্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে। এদিন প্রধান শিক্ষকের পদত্যাগের দাবিতে শিক্ষার্থীরা ক্লাস বর্জন করে বিক্ষোভ শুরু করলে বিদ্যালয়ের স্বাভাবিক পাঠদান কার্যক্রম ব্যাহত হয়। বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, দশম শ্রেণির এক ছাত্রী অভিযোগ করেন, গত জুন মাসের শেষ দিকে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মাওলানা আব্দুস সামাদ তাকে কুপ্রস্তাব দেন এবং গায়ে হাত দেন। বিষয়টি শিক্ষার্থীদের মধ্যে ছড়িয়ে পড়লে রোববার সকালে তারা ক্লাস বর্জন করে প্রধান শিক্ষকের পদত্যাগের দাবিতে দফায় দফায় বিক্ষোভ করেন। খবর পেয়ে রাজশাহী-৬ আসনের সংসদ সদস্য আবু সাইদ চাঁদ বিদ্যালয়ে গিয়ে সহকারী শিক্ষকের কক্ষে বসে অভিযোগ শুনতে চান। এ সময় দশম শ্রেণির ওই শিক্ষার্থী ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের
রাজশাহীর বাঘায় এক ছাত্রীকে কুপ্রস্তাব ও গায়ে হাত দেওয়ার অভিযোগে শিক্ষার্থীদের তীব্র আন্দোলনের মুখে পদত্যাগ করেছেন পদত্যাগ করেছেন মনিগ্রাম উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক। একই ঘটনায় অভিযোগ আড়াল করার চেষ্টা ও বিষয়টি যথাযথভাবে উপস্থাপন না করার অভিযোগে এক সহকারী শিক্ষিকাকে সাময়িক বরখাস্তের (সাসপেন্ড) নির্দেশ দিয়েছেন স্থানীয় সংসদ সদস্য।
রোববার (৯ আগস্ট) উপজেলা মনিগ্রাম উচ্চ বিদ্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে। এদিন প্রধান শিক্ষকের পদত্যাগের দাবিতে শিক্ষার্থীরা ক্লাস বর্জন করে বিক্ষোভ শুরু করলে বিদ্যালয়ের স্বাভাবিক পাঠদান কার্যক্রম ব্যাহত হয়।
বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, দশম শ্রেণির এক ছাত্রী অভিযোগ করেন, গত জুন মাসের শেষ দিকে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মাওলানা আব্দুস সামাদ তাকে কুপ্রস্তাব দেন এবং গায়ে হাত দেন। বিষয়টি শিক্ষার্থীদের মধ্যে ছড়িয়ে পড়লে রোববার সকালে তারা ক্লাস বর্জন করে প্রধান শিক্ষকের পদত্যাগের দাবিতে দফায় দফায় বিক্ষোভ করেন।
খবর পেয়ে রাজশাহী-৬ আসনের সংসদ সদস্য আবু সাইদ চাঁদ বিদ্যালয়ে গিয়ে সহকারী শিক্ষকের কক্ষে বসে অভিযোগ শুনতে চান। এ সময় দশম শ্রেণির ওই শিক্ষার্থী ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে অশালীন কথা বলা ও গায়ে হাত দেওয়ার অভিযোগ তুলে ধরেন।
অভিযোগ শোনার পর বিষয়টি নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। এ সময় ঘটনা আড়াল করার অভিযোগে সহকারী শিক্ষিকা সাবিনা ইয়াসমিনকে সাময়িক বরখাস্তের মৌখিক নির্দেশ দেন এমপি আবু সাইদ চাঁদ। এ সময় বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি রফিকুল ইসলাম, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আবু জাফর, বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
এদিকে শিক্ষার্থীরা সহকারী শিক্ষকের কক্ষের সামনে জড়ো হয়ে প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে বিভিন্ন স্লোগান দিতে থাকেন। বিক্ষোভের কারণে দিনভর বিদ্যালয়ের স্বাভাবিক পাঠদান কার্যক্রম বন্ধ থাকে।
দুপুরে বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতির কাছে লিখিত পদত্যাগপত্রে স্বাক্ষর করেন ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আব্দুস সামাদ। পরে বিকেলে বিদ্যালয় থেকে বের হয়ে পুলিশ ভ্যানে ওঠার সময় বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা তাকে লক্ষ্য করে ডিম ও ইটপাটকেল নিক্ষেপ করেন। পরে পুলিশ তাকে দ্রুত ভ্যানে তুলে ঘটনাস্থল থেকে সরিয়ে নেয়।
পদত্যাগপত্রে আব্দুস সামাদ লিখেছেন, ‘আমি আব্দুস সামাদ এই মর্মে অঙ্গীকার করতেছি যে, এই বিদ্যালয়ে কর্মরত অবস্থায় আমি আমার অর্পিত দায়িত্ব থেকে স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করলাম। আমি সজ্ঞানে ও কারও প্ররোচনা ছাড়াই নিম্নে স্বাক্ষর করলাম।’
তবে তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন পদত্যাগকারী প্রধান শিক্ষক আব্দুস সামাদ। তিনি বলেন, ‘৫ আগস্টের পর স্ত্রীর অসুস্থতার কারণে আমি বিদ্যালয়ে উপস্থিত ছিলাম না। রোববার স্কুলে আসার পর শিক্ষার্থীরা আমাকে ঘেরাও করে বিক্ষোভ করে। কোনো সহকর্মী এগিয়ে আসেননি। আমি চাপের মুখে পদত্যাগ করতে বাধ্য হয়েছি। আমি ষড়যন্ত্রের শিকার। আমার বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ মিথ্যা।’
বিদ্যালয়ের জ্যেষ্ঠ শিক্ষক সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির কারণে বিদ্যালয়ের নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী কোনো ক্লাস নেওয়া সম্ভব হয়নি।’
বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে কোনো শিক্ষার্থী লিখিত অভিযোগ দেয়নি। তবে আজ শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ ও পদত্যাগের বিষয়টি নিয়ে মৌখিকভাবে বিভিন্ন কথা শুনেছি। বিদ্যালয়ের স্বার্থে বিষয়টির সত্যতা যাচাই করে তদন্ত করা হবে।’
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আবু জাফর বলেন, ‘প্রধান শিক্ষক স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করেছেন। সহকারী শিক্ষিকার বিষয়ে আইনগতভাবে ব্যবস্থা নেবে বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটি।’
এদিকে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের সুযোগ নিয়ে বহিরাগতদের কেউ কেউ বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে প্রবেশ করায় পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। তবে মনিগ্রাম ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আব্দুস সামাদ মুকুল বলেন, বহিরাগতদের প্রবেশের কারণে যাতে পরিবেশের অবনতি না ঘটে, সে বিষয়ে তারা সজাগ ছিলেন।
বাঘা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সেরাজুল হক বলেন, বিদ্যালয়ে বিক্ষোভের ঘটনায় থানায় কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি। তবে খবর পেয়ে ঘটনাস্থল থেকে প্রধান শিক্ষককে সরিয়ে আনা হয়েছে। এ সময় আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা পিছু নিলে প্রধান শিক্ষককে দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়।
এ বিষয়ে সংসদ সদস্য আবু সাইদ চাঁদ বলেন, ‘অনৈতিক ব্যবহারের কারণে জোরালোভাবে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য বলা হয়েছে।’
মনির হোসেন মাহিন/কেএইচকে
What's Your Reaction?