ছাদগুলো সবুজ করা গেলে কিছুটা হলেও ঢাকার প্রাণ ফিরবে: প্রধান বন সংরক্ষক
রাজধানী ঢাকায় মোট এলাকার মাত্র ১০ দশমিক ৫ শতাংশ সবুজ রয়েছে বলে জানিয়েছেন বন অধিদপ্তরের প্রধান বন সংরক্ষক মো. আমীর হোসাইন চৌধুরী। তিনি বলেন, বিশ্বের মানদণ্ড অনুযায়ী একটি শহরকে বাসযোগ্য রাখতে প্রায় ২০ শতাংশ সবুজ থাকা প্রয়োজন। তবে ঢাকায় সেই পরিমাণে সবুজায়নের সুযোগ সীমিত। তাই শহরের ভবনগুলোর ছাদকে সবুজ করার মাধ্যমে ঢাকায় কিছুটা হলেও সবুজ ফিরিয়ে আনা সম্ভব। রোববার (৯ আগস্ট) বিকেলে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বন ভবনে জাতীয় বৃক্ষমেলা-২০২৬ এর সমাপনী অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু। বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিব ড. ফাহমিদা খানম এবং বাংলাদেশ জলবায়ু ট্রাস্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক কাজী রওনাকুল ইসলাম (টিপু)। আরও পড়ুন জাতীয় বৃক্ষমেলা কেবল সাময়িক মেলা নয়, এটি জাতীয় আন্দোলন: পরিবেশমন্ত্রী প্রধান বন সংরক্ষক বলেন, ‘দুই বছর আগে আমরা ঢাকা শহরে একটি জরিপ করেছিলাম। সেখানে দেখা গেছে, ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন মিলিয়ে মোট এলাকার মাত্র ১০ দশমিক ৫ শতাংশ সবুজ
রাজধানী ঢাকায় মোট এলাকার মাত্র ১০ দশমিক ৫ শতাংশ সবুজ রয়েছে বলে জানিয়েছেন বন অধিদপ্তরের প্রধান বন সংরক্ষক মো. আমীর হোসাইন চৌধুরী।
তিনি বলেন, বিশ্বের মানদণ্ড অনুযায়ী একটি শহরকে বাসযোগ্য রাখতে প্রায় ২০ শতাংশ সবুজ থাকা প্রয়োজন। তবে ঢাকায় সেই পরিমাণে সবুজায়নের সুযোগ সীমিত। তাই শহরের ভবনগুলোর ছাদকে সবুজ করার মাধ্যমে ঢাকায় কিছুটা হলেও সবুজ ফিরিয়ে আনা সম্ভব।
রোববার (৯ আগস্ট) বিকেলে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বন ভবনে জাতীয় বৃক্ষমেলা-২০২৬ এর সমাপনী অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু। বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিব ড. ফাহমিদা খানম এবং বাংলাদেশ জলবায়ু ট্রাস্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক কাজী রওনাকুল ইসলাম (টিপু)।
প্রধান বন সংরক্ষক বলেন, ‘দুই বছর আগে আমরা ঢাকা শহরে একটি জরিপ করেছিলাম। সেখানে দেখা গেছে, ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন মিলিয়ে মোট এলাকার মাত্র ১০ দশমিক ৫ শতাংশ সবুজ রয়েছে। বাকি অংশে সবুজ নেই।’
মো. আমীর হোসাইন চৌধুরী বলেন, ‘বিশ্বের স্ট্যান্ডার্ড অনুযায়ী কোনো শহরে প্রায় ২০ শতাংশ সবুজ থাকলে বলা যায়, সেই শহরের প্রাণ আছে এবং সেটি বাসযোগ্য শহর। কিন্তু আমাদের বাস্তবতা হচ্ছে, ঢাকা শহরে ২০ শতাংশ সবুজায়ন করার জায়গা অত্যন্ত সীমিত।’
এ অবস্থায় বিকল্প হিসেবে ঢাকার ভবনগুলোর ছাদকে সবুজ করার ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি আরও বলেন, ‘ঢাকা শহরের সমস্ত ভবনের ছাদ হিসাব করলে দেখা যাবে, অনেক জেলার মোট আয়তনের চেয়েও ঢাকার ছাদের আয়তন বেশি। সেই ছাদগুলোকে যদি সবুজ করতে পারি, তাহলে ঢাকা শহরে কিছুটা হলেও সবুজায়ন ফিরিয়ে আনা সম্ভব। এতে ঢাকায় বসবাসকারী মানুষের একটু ভালোভাবে নিঃশ্বাস নেওয়ার মতো পরিবেশ তৈরি করা যাবে।’
বৃক্ষমেলার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে প্রধান বন সংরক্ষক বলেন, ‘অন্য সময়ে একটি চারা কিনতে দিয়াবাড়ী যেতে হয়, একটি চারা কিনতে সাভারে যেতে হয়, আবার আরেকটি চারা কিনতে অন্য জায়গায় যেতে হয়। কিন্তু বৃক্ষমেলায় সব ধরনের চারা এক জায়গায় পাওয়া যায়। ফলে মানুষ দেখে-শুনে প্রয়োজন অনুযায়ী চারা কেনার সুযোগ পায়।’
বৃক্ষমেলার আলাদা বৈশিষ্ট্য রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘ঢাকা শহরে অনেক ধরনের মেলা হয়। সব মেলা প্রাণের মেলা নয়, সব মেলা স্নিগ্ধতার মেলা নয়, সব মেলা সবুজের মেলা নয়, আবার সব মেলা চোখ জুড়িয়ে যাওয়ার মেলাও নয়। ঢাকা শহরের বৃক্ষমেলাই একমাত্র মেলা, যেখানে মানুষ প্রশান্তি নিয়ে উপভোগ করতে পারে।’

ঢাকার বৃক্ষমেলার ভেতরে সবুজ গ্রাম
অনুষ্ঠানে জাতীয় বৃক্ষরোপণ পুরস্কার-২০২৫ এর দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থান অর্জনকারী ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান, বন্যপ্রাণী ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতিপ্রাপ্ত ব্যক্তি, জাতীয় বৃক্ষরোপণ অভিযান ও বৃক্ষমেলা-২০২৬ উপলক্ষে আয়োজিত রচনা, চিত্রাঙ্কন ও গাছ চেনা প্রতিযোগিতার বিজয়ী এবং জাতীয় বৃক্ষমেলা-২০২৬ এর নির্বাচিত স্টল মালিকদের মধ্যে পুরস্কার ও সনদ বিতরণ করা হয়।
ইএইচটি/এমএমকে
What's Your Reaction?

